kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

যেভাবে তৈরি হলেন মার্কেস

দুলাল আল মনসুর

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



যেভাবে তৈরি হলেন মার্কেস

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের মূল্যায়ন করতে গিয়ে কথাসাহিত্যিক কার্লোস ফুয়েন্তেস বলেন, ‘সার্ভান্তেসের পর থেকে এ পর্যন্ত স্প্যানিশ ভাষার সবচেয়ে প্রিয় এবং সম্ভবত মহান লেখক তিনিই।’ বিশাল কাহিনির নিবিড় বয়ানের দিক থেকে মার্কেসকে তুলনা করা হয় উইলিয়াম ফকনার এবং আর্নেস্ট হেমিংওয়ের সঙ্গে। আর অবিচ্ছেদ্য ঘটনাবলির কাহিনিও তাঁর হাতে সাবলীল গতিতে চলে বলেই তাঁকে দেখা হয় সার্ভান্তেসের সমান্তরালে। কথাসাহিত্যে কলম্বিয়ার যে জগৎ তিনি তুলে ধরেন, সেখানে মধ্যযুগ আর আধুনিককালের রীতি-প্রথা, বিশ্বাস-সংস্কার পরস্পরের মুখোমুখি হয় আনন্দ-বেদনার মিশেলে। এমন লেখকের প্রস্তুতিও নানা দিক থেকে লক্ষণীয়।

পারিবারিক পরিবেশ, পরিচিত মানুষজন, শিক্ষালয়, বইপত্র, রাজনীতি এবং সাংবাদিকতার পেশা থেকে তৈরি হয়েছে মার্কেসের লেখকমানসের পরিপক্বতা। অন্যদের লেখা বিভিন্ন উত্স থেকেও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি ও বিষয় জানার অনেক সুযোগ আছে। সেগুলোর সঙ্গে নিজের লেখা থেকে সরাসরি জানার সুযোগও তিনি করে দিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর লেখা দুটি বইতে চমত্কারভাবে বলা হয়েছে ছোটবেলা থেকে পরিণত বয়সে পৌঁছে যাওয়ার অনেক কথা। মার্কেসের পরিকল্পিত আত্মজীবনীর তিন খণ্ডের মধ্যে প্রথমটির ইংরেজি নাম ‘ভিভির পেরা কন্তার্লা’। মূল স্প্যানিশে বইটি প্রকাশ করেন ২০০২ সালে এবং এডিথ গ্রসমানের ইংরেজি অনুবাদে ‘লিভিং টু টেল দ্য টেল’ প্রকাশ করেন ২০০৩ সালে। ‘ভিভির পেরা কন্তার্লা’য় তাঁর জন্মের পর থেকে বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের ঘটনাবলি পর্যন্ত আছে। পড়াশোনা, সাংবাদিক ও ছোটগল্পকার হিসেবে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার কথা আছে এখানে। বড় হতে হতে দেখা ইতিহাস ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যক্তিগত ঘটনাবলি লিখেছেন। সেগুলোই কথাসাহিত্যে স্পষ্ট হয়ে এসেছে, বিশেষ করে ‘এক শ বছরের নিঃসঙ্গতা’ এবং ‘পূর্বঘোষিত মৃত্যুর ঘটনাপঞ্জি’ উপন্যাসে। ১৯৮২ সালে প্রকাশিত আরেকটি বই ‘এল ওলোর দে লা গুয়াইয়াবা’ মার্কেস এবং তাঁর বন্ধু প্লিনি আপুলিও মেনডোজার কথোপকথন নিয়ে লেখা। বইটিতে মার্কেসের ছেলেবেলা থেকে দেশ-বিদেশের বড় বড় মানুষের সঙ্গে পরিচয় পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কেসের ব্যক্তিগত ঘটনার সঙ্গে মেন্ডোজা তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আত্মীয়দের সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করেন। মার্কেসের জীবনের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে গুরুত্বসহ এসেছে লেখকমানস তৈরিতে তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তারকারী মানুষ ও লেখনীর কথা।

জীবনের প্রথম কয়েক বছর তিনি মা-বাবার সান্নিধ্য থেকে দূরে, নানা-নানির কাছে ছিলেন। মার্কেসের মানসিক বৃদ্ধিতে তাঁদের প্রভাব ছিল খুব জোরালো। নানা কর্নেল নিকোলাস রিকার্ডো মার্কেস মেজিয়া কলম্বিয়ার হাজার দিনের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। কলম্বিয়ার উদারপন্থীদের কাছে রিকার্ডো ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্র। ইতিহাস ও বাস্তবতার সঙ্গে মার্কেসের পরিচয় ঘটে এ রকম একজন মহিরুহ ব্যক্তির মাধ্যমে। চমত্কার গল্প তিনি বলতে পারতেন। প্রতিবছরই মার্কেসকে সার্কাস দেখাতে নিয়ে যেতেন। একবার নাতিকে ইউনাইটেড ফ্রুট কম্পানির গুদামে বরফ দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন বালক মার্কেসের কাছে বরফ ছিল অলৌকিক বস্তুর মতো। নানার কাছ থেকেই শিখেছিলেন, মানুষ হত্যা করা ভারি একটা বোঝা। নানা বলেছিলেন, ‘মরা মানুষের ওজন কেমন, তা তুমি কল্পনাই করতে পারবে না।’ এই শিক্ষা তিনি পরে নিজের উপন্যাসে ব্যবহার করেছেন। মার্কেসের নানি তাঁর লেখকমানস গঠনে নানার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেন। মার্কেস মুগ্ধ হতেন নানির অসাধারণ বিষয়কে সাধারণ করে বলার ভঙ্গিতে। ভূত-পেতনি আর অশুভ আত্মাদের আগমনের ইঙ্গিতে পূর্ণ ছিল নানির গল্পের জগৎ। বাস্তবতাকে নানি অতিপ্রাকৃত, কুসংস্কার আর জাদুর দৃষ্টিতে দেখতে অভ্যস্ত ছিলেন। নানির বলা গল্প থেকে মার্কেস অপরিসীম মজা পেতেন। গল্পের কাহিনি যতই কল্পনাশ্রয়ী কিংবা অবাস্তব হোক না কেন, তিনি যেভাবে বলতেন, তাতে মনে হতো সেগুলো রূঢ় সত্য। গল্প বলার এই চমত্কার কৌশল নাতির উপন্যাসে হাজির হয়েছে প্রায় তিন দশক পরেও।

মার্কেস হতে চেয়েছিলেন গানের মানুষ। মজার একটা জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন, মেলা থেকে মেলায় ঘুরে বেড়াবেন, একর্ডিয়ন বাজিয়ে দরাজ গলায় গান গাইবেন। গল্প বলার জন্য সেটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রাচীন এবং সবচেয়ে আনন্দের মনে হয়েছিল। স্মৃতিকথা ‘ভিভির পারা কন্তার্লা’য় ছেমলবেলার কথা লেখেন : ‘আমার ভাই লুই এনরিকের সাহস ও স্বাধীনতাবোধ ছিল। আমার ছিল না। তার নিজের যেটা ইচ্ছা হতো সেটাই করত।’ মার্কেসকে নিয়ে মা-বাবার আশা ছিল বড়। ছোটবেলায় মার্কেস পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিলেন। চালচলনেও ভদ্র ছিলেন; কোনো রকম ঝামেলা পাকাতেন না। তাঁর সুন্দর আচার-আচরণ সম্পর্কে নানির পরিষ্কার ধারণা ছিল এবং নাতিকে ‘চমত্কার শিশু’ হিসেবেই জানতেন। মাধ্যমিকে পড়ার সময় পড়াশোনা এবং জীবনযাপনের গতি থেমে যায়। অনেক সময় মনমরা থাকতেন। যেসব বন্ধুর সঙ্গে মিশতেন, সমাজে তাদের পরিষ্কার পরিচয়ে ঝামেলা ছিল। মার্কেস রাত করে বাড়ি ফেরা শুরু করেন, মাদকের দিকেও ঝুঁকে পড়েন।

বোগোতার উত্তরাঞ্চলে জিপাকুইরাতে স্কুলে পড়ার সময় থেকেই রাজনীতি সম্পর্কে সচেতনত হন মার্কেস। সমাজতন্ত্র সম্পর্কে ধারণা পান স্কুলে থাকতেই। স্নাতক শেষ করার পর্যায়ে আসতে আসতে রাজনীতির প্রতি তাঁর গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়; লেখার জন্য সমাজতন্ত্রে প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তখন বলেন, ‘ভালো উপন্যাসের হওয়া চাই বাস্তবতার কাব্যিক রূপান্তর। আর মানুষের অদূর ভবিষ্যৎ নিহিত আছে সমাজতন্ত্রে।’

সাংবাদিক হিসেবে মার্কেস কিউবার অফিশিয়াল স্টেট নিউজ এজেন্সি ‘প্রেনসা ল্যাটিনা’য় কাজ করেন। কিউবার বিপ্লবের পরপরই ১৯৫৯ সালে চে গুয়েভারার সহযোগিতায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল, মার্কিন প্রচারমাধ্যম ও সরকারের বিপক্ষে বিশ্ববাসীর কাছে কিউবার নিজস্ব কণ্ঠ পৌঁছে দেওয়া।    

উল্লেখ্য, এখানে সহকর্মী হিসেবে পেয়েছিলেন রুডলফো ওয়ালশ, রোজেলিয়া গার্সিয়া লুপো, লিওনার্দো আকোস্তা, কার্লোস মারিয়া গুতিয়েরেজ এবং মার্কেসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্লিনিও আপুলিও মেন্ডোজাকে। মার্কেস প্রথমে ‘প্রেনসা ল্যাটিনা’র বোগোতা অফিসে কাজ করেন, পরে নিউ ইয়র্ক এবং হাভানা অফিসেও কাজ করেন। প্রেনসা ল্যাটিনায় কাটানো সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক ঝোড়ো পরিবর্তনের পর বিপ্লব কিছুটা কঠিন এবং কখনো কখনো পরস্পর বিরোধী পথে চলে; তবু এই বিপ্লব একটা সামাজিক বিন্যাসের সম্ভাবনা দেখায়, যেটা আরো বেশি গণতান্ত্রিক, আরো বেশি ন্যায়সংগত এবং আমাদের প্রয়োজনের সঙ্গে আরো বেশি মানানসই।’ কিছু আদর্শগত বিষয়ের সঙ্গে নিজেকে মানাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিউজ এজেন্সির কাজ ছেড়ে দিলেও মার্কেস নিজের দৃষ্টিভঙ্গিটা পরিপক্ব করার সুযোগ পেয়েছেন এ রকম প্রচারমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেও।

মার্কেসের লেখকসত্তার সঙ্গে ঔজ্জ্বল্য যোগ করেন লেখক গুস্তাভো ইবারা। তিনি পথপ্রদর্শকের মতো বিভিন্ন সময়ে মার্কেসকে বিভিন্ন কালজয়ী লেখার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁর পরামর্শ পাওয়ার আগে মার্কেসের কাছে শুধু ‘ওডিসিউস’ ছাড়া আর কোনো গ্রিক ও লাতিন কবিতা আকর্ষণীয় মনে হতো না। গ্রিক ও লাতিন ক্লাসিক সম্পর্কে গুস্তাভোর গভীর জ্ঞানের পরিচয় পান মার্কেস। গুস্তাভো ইবারা গ্রিক ও লাতিন কবিতা মূল ভাষায় পড়েন। গুস্তাভো একদিন মার্কেসকে সফোক্লিসের রচনাসমগ্র হাতে দিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি ভালো লেখক হতে পারো; কিন্তু গ্রিক ক্লাসিক সম্পর্কে তোমার ভালো ধারণা না থাকলে খুব ভালো লেখক হতে পারবে না।’ বইটি পড়ার পর মার্কেসের সামনে বিশাল এক সমৃদ্ধ জগতের দরজা খুলে যায়। তখন থেকেই গুস্তাভো তাঁকে আরো অনেক টেক্সটের কথা বলেন।

ভার্জিনিয়া উলফের নাম তিনি গুস্তাভোর কাছেই প্রথম শুনেছিলেন। একবার তিনি মার্কেসকে প্রিয় বইয়ের সংগ্রহ থেকে বেশ কিছু বই দেখিয়ে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। মার্কেসের তখন এত বই রাখার জায়গা ছিল না। শেষে তিনি ভার্জিনিয়া উলফের ‘মিসেস ড্যালওয়ে’র স্প্যানিশ অনুবাদের একটা কপি দিলেন। গুস্তাভো বলেছিলেন, বইটা এত ভালো লাগবে যে তিনি মুখস্থ করেও ফেলতে পারেন। বইটা নিয়ে যাওয়ার সময় মার্কেসের মনে হয়েছিল, বিশ্ব জয় করে ফেলেছেন।

মার্কেস জেমস জয়েসের ‘ইউলিসিস’ প্রথমে পড়েন ছাত্রজীবনে। তখন খুব গুরুত্বের সঙ্গে পড়া হয়নি। এখানে একটু-ওখানে একটু, এখন একটু-তখন একটু—এভাবে পড়েন প্রথমবার। বড় হয়ে আরেকবার পড়েন, ধীরে-সুস্থে। এবার তিনি অনেক কিছু খুঁজে পান ‘ইউলিসিস’ উপন্যাসে। এ উপন্যাস পড়ে বুঝতে পারেন, তাঁর নিজের মধ্যেও একটা সমৃদ্ধ জগৎ আছে। কিন্তু তা আগে জানতেন না। কথাসাহিত্যের উপস্থাপনার কৌশলগত অমূল্য দীক্ষাও পান এখান থেকে। নিজের উপন্যাসগুলোতে ভাষাকে মুক্ত অবস্থায় ব্যবহার করেন, সময় ও উপন্যাসের কাঠামোর মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করেন জয়েসের দেখানো উদাহরণ থেকে। উল্লেখ্য, তাঁর ‘নিষ্পাপ এরিন্দিরা ও তার হূদয়হীন দাদিমার অবিশ্বাস্য ও বিষাদময় কাহিনি’ উপন্যাসে একটা চরিত্রের নাম ইউলিসিস। বলা বাহুল্য, গ্রিক সাহিত্য পাঠ এবং জয়েস পাঠের প্রেরণা কাজ করেছে নিজের লেখায় এ রকম উপাদান ব্যবহারের পেছনে।

অল্প বয়সে তিনি উইলিয়াম ফকনারের ‘দ্য সাউন্ড অ্যান্ড দ্য ফিউরি’ও পড়েন। ‘ইউলিসিস’ পড়ার মতোই প্রথমবার এটা পড়েও আয়ত্ত করার মতো কিছু পান না। তবে আরেকটু পরিণত হওয়ার পর আবার পড়েন। আগের চেয়ে বেশি মাত্রায় নিরাবেগ মনোযোগে পড়েন এবার। এখানেও তাঁর লেখকসত্তা পরিণত হওয়ার সুযোগ পায়। জয়েস পাঠ এবং ফকনার পাঠের ফলাফল সামান্য ভিন্ন বলেও মনে হয় তাঁর। জয়েসের উপন্যাস পড়ে মনে হয়েছিল, তাঁর মধ্যে পাণ্ডিত্য বেশি এবং টেক্সটের মধ্যে দুর্বোধ্যতাও আছে। অন্যদিকে ফকনারের উপন্যাসে পেয়ে যান ভয়ংকর সৌন্দর্য এবং সরলতা।

আরো অনেক লেখক ও তাঁদের লেখা মার্কেসের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এমন অনেক বইয়ের মধ্যে আছে ‘অ্যারাবিয়ান নাইটস : টেলস ফ্রম আ থাউজ্যান্ড অ্যান্ড ওয়ান নাইটস’, টমাস মানের ‘দ্য ম্যাজিক মাউন্টেন’, আলেকজান্ডার ডুমার ‘দ্য ম্যান ইন দি আয়রন মাস্ক’, উইলিয়াম ফকনারের ‘অ্যাজ আই লে ডায়িং’, ‘ওয়াইল্ড পামস’, নাথানিয়েল হথর্নের ‘দ্য হাউস অব দ্য সেভ্ন গ্যাবলস’, হ্যারিয়েট বিচার স্টোর ‘আংকল টমস কেবিন’, হারমান মেলভিলের ‘মবি ডিক’, ভার্জিনিয়া উলফের ‘অরল্যান্ডো’, ডি এইচ লরেন্সের ‘সানস অ্যান্ড লাভারস’, কাফকার ‘দ্য মেটামরফোসিস’, বোর্হেসের ‘দি আলেফ অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’, আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘দ্য কালেক্টেড সোরিজ’, অলডাস হাক্সলির ‘পয়েন্ট কাউন্টার পয়েন্ট’, জন স্টাইনবেকের ‘অব মাইস অ্যান্ড মেন’, ‘দ্য গ্রেইপস অব র্যাথ’, এর্সকিন কাল্ডওয়েলের ‘টোব্যাকো রোড’, ক্যাথরিন ম্যান্সফিল্ডের ‘স্টোরিজ’, জন ডোস পাসোসের ‘ম্যানহাটান ট্রান্সফার’, রবার্ট নাথানের ‘পোর্ট্রেট অব জেনি’ ইত্যাদি।

মন্তব্য