kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

লে খা র ই শ কু ল

ভালোবাসার কবি পল এলুয়ার

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভালোবাসার কবি পল এলুয়ার

‘পঠিত সব পৃষ্ঠায় আমি তোমার নাম লিখি,/না পড়া সব সাদা পৃষ্ঠায় আমি তোমার নাম লিখি’—লিবার্টি কবিতায় ফরাসি কবি পল এলুয়ারের কণ্ঠে প্রকাশ পায় এ রকম উচ্চারণ। ফরাসি পরাবাস্তববাদী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত্ পল এলুয়ারের জন্ম ১৮৯৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর। তাঁর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘প্রেমিয়ার্স পোয়েমাস’, ‘লা দেভোইর’, ‘রিপিতিশনস’, ‘লা আমুরেউস’, ‘মুরির দে নে পাস মুরির’, ‘লা দেম দে কারিউ’ কয়েকটি।   

কিশোর বয়সে তিনি র্যাবোঁ, বোদলেয়ার, অ্যাপোলিনেয়ার প্রমুখের কবিতা পড়েন। এ সময় থেকেই তাঁর বিশেষ পছন্দের কবি ছিলেন ওয়াল্ট হুইটম্যান। কিশোর বয়সে পড়া সাহিত্য তাঁর পরবর্তী কবিস্বভাব ও কাব্যশৈলীর ওপর প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া বড় হতে হতে তিনি বিভিন্ন সময়ে অগ্রজ ও সমসাময়িক অনেক শিল্পী-কবির সান্নিধ্য পান। জাঁ পুলহাঁ, আদ্রেঁ ব্রেতন, ফিলিপে সুপলত, লুই আরাগন, পাবলো পিকাসো, সালভাদর দালি, পাবলো নেরুদা প্রমুখ তাঁর লেখা এবং ব্যক্তিজীবনের ওপর প্রভাব ফেলেছেন।

১৪ বছর বয়সে এলুয়ারের মারাত্মক যক্ষ্মা হয়। পড়াশোনায় বিরতি দিয়ে তাঁকে থাকতে হয় সুইজারল্যান্ডের দাভোসের কাছে ক্লাভাডেল স্বাস্থ্যনিবাসে। সেখানে তাঁর দেখা হয় সমবয়সী রুশ তরুণী হেলেন দিমিত্রিয়েভা দায়াকানোভার সঙ্গে। দায়াকানোভাকে তিনি ডাকেন গালা নামে। গালার উত্সাহে তিনি দস্তয়েভস্কি, তলস্তয়সহ আরো অনেক রুশ কবি-সাহিত্যিকের লেখা পড়েন। গালার কাছে তাঁর নিজের বাসনার কথাও খুলে বলেন : তিনি কবি হতে চান; কবিদের প্রতি রয়েছে তাঁর অকুণ্ঠ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা। কিন্তু তাঁর মা-বাবা তাঁকে সে পথে যেতে নিরুত্সাহিত করছেন। উল্লেখ্য, এলুয়ার ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান। গালা ও এলুয়ারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। এলুয়ারের কবি প্রতিভার প্রতি গালার ভালোবাসা জন্মে। তিনি এলুয়ারকে উত্সাহ দিয়ে বলেন, ‘তুমি অবশ্যই বড় কবি হবে।’ গালা এলুয়ারকে উত্সাহ দেওয়ার সঙ্গে তাঁর আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেন। লেখালেখির জন্য এলুয়ারের যে নিরাপত্তাবোধ দরকার, সেটাও দিতে থাকেন তিনি। তিনি এলুয়ারের কবিতা সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভূমিকা রাখেন : এলুয়ারের কবিতার কড়া সমালোচক হয়ে ওঠেন গালা। কবিতার কোনো চিত্রকল্প তাঁর পছন্দ না হলে এলুয়ারকে বদলাতে বলেন এবং এলুয়ার তাঁর পরামর্শ ঠিক ঠিক মেনেও চলেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী কবিতার মধ্যে পরিবর্তন-পরিমার্জন আনতে থাকেন এলুয়ার। স্বাস্থ্যনিবাস থেকে দুজনে নিজ নিজ দেশে চলে যাওয়ার পরও তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ১৯১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁরা বিয়ে করেন। স্বাস্থ্যনিবাসে থাকাকালীন ব্রাজিলের কবি মানুয়েল বান্দাইরার সঙ্গেও বন্ধুত্ব তৈরি হয় এলুয়ারের। দেশে ফেরার পরও তাঁদের দুজনের মধ্যে পত্রযোগাযোগ চলতে থাকে।

১৯৫২ সালের ১৮ নভেম্বর পল এলুয়ার হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তত্কালীন ফরাসি সরকার রাজনৈতিক কারণে তাঁর দাফন আয়োজন করা থেকে বিরত থাকে। তবে ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টি তাঁর দাফনের আয়োজন করে। এতে হাজার হাজার প্যারিসবাসী স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে। ফরাসি অনুজ কবি রবার্ট সাবাতিয়ার এলুয়ারের দাফনে মানুষের আবেগী প্রতিক্রিয়া দেখে মন্তব্য করেন, ‘সারা বিশ্ব তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করেছে।’

►দুলাল আল মনসুর

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা