kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

লে খা র ই শ কু ল

ফরাসি জীবনের রূপকার মপাসাঁ

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফরাসি জীবনের রূপকার মপাসাঁ

উনিশ শতকের মহান ফরাসি লেখকদের অন্যতম গিদা মপাসাঁ প্রধানত ছোটগল্পের জনক হিসেবে বেশি পরিচিত। তাঁর সমকালের ফরাসি জীবনের দৈনন্দিন চিত্র ধারণ করে তাঁর গল্প। অনেক গল্পের পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করেন ফরাসি-প্রুসীয় যুদ্ধ। যুদ্ধের কবলে পড়া নিরীহ মানুষের অসহায় অবস্থা তুলে ধরেন তাঁর গল্পে। যুদ্ধের কারণে এই সাধারণ মানুষগুলোর অবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং তাদের নিজেদের জীবনের এই পরিবর্তনের ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। মানুষের জীবন ও নিয়তি এবং সামাজিক শক্তির কথা নিরাবেগ বয়ানে এবং কখনো নৈরাশ্যবাদী ভঙ্গিতে বলে যান মপাসাঁ। তাঁর লেখা স্বভাববাদের পরিচয় বহন করে। তিন শতাধিক ছোটগল্প, ছয়টি উপন্যাস, ভ্রমণকথা এবং একটি কবিতার বই লিখেছেন তিনি। যথার্থ ও মিতব্যয়ী শৈলীর কারণে মপাসাঁ ছিলেন ফ্লবেয়ারের অনুগ্রহভাজন। তাঁর লেখার ধরন অনায়াসী এবং স্বতঃস্ফূর্ত।

মপাসাঁর জন্ম ১৮৫০ সালের ৫ অগাস্ট। বয়স যখন এগারো বছর, মা বাবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান। মপাসাঁ ও তাঁর ছোট ভাই হার্ভিকে নিজের তত্ত্বাবধানে রাখেন মা। বাবার অনুপস্থিতিতে মা তাঁর ওপরে একমাত্র প্রভাববিস্তারী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। মায়ের ছিল ব্যাপক পড়াশোনা। ক্লাসিক সাহিত্য, বিশেষ করে শেকসপিয়ারের লেখার ভক্ত ছিলেন মা। মপাসাঁর ছেলেবেলার প্রথমটা কেটেছে সমুদ্র আর গ্রামীণ আবহের কোলে। মাছ ধরা আর বাইরে বিচরণের জীবন প্রিয় হয়ে ওঠে সেই বয়সে। ক্লাসিক্যাল পড়াশোনার জন্য ১৩ বছর বয়সে মা ভর্তি করে দিলেন একটি প্রাইভেট স্কুলে। ছেলেবেলার শিক্ষা থেকে  মনের যে অবস্থা তৈরি হয় তাতে গির্জার প্রতি অনাকর্ষণ বোধ জন্মে।

১৮৬৭ সালে জুনিয়র স্কুলে পড়াশোনা শুরু করার পর মায়ের উত্সাহে ফ্লবেয়ারের সঙ্গে পরিচিত হন মপাসাঁ। পরের বছর শরতে তাঁকে পাঠানো হয় লিসি পিয়েরে-কর্নেলিতে। সেখানে তিনি কবিতার প্রতি আত্মনিবেদন করেন এবং নাটকে দীক্ষালাভ করেন। ফ্লবেয়ার তাঁকে নিজের শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন এবং সাংবাদিকতা ও সাহিত্যে দিকনির্দেশনা দেন। ফ্লবেয়ারের বাড়িতে পরিচয় হয় স্বদেশি এমিল জোলা, রুশ ঔপন্যাসিক ইভান তুর্গেনেভ এবং বাস্তববাদী ও স্বভাববাদী ঘরানার লেখকদের অনেকের সঙ্গে। ১৮৭৫ সালে ফ্লবেয়ারের নির্দেশনায় নাটক লেখেন এবং অভিনয়েও অংশ নেন।

১৮৭৮ সালে মপাসাঁ লা ফিগারো, গিল ব্লাস, ইকো দে প্যারিসের মতো বেশ কয়েকটি শীষস্থানীয় পত্রিকার প্রদায়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। অবসর সময়ের পুরাটাই তখন উপন্যাস ও ছোটগল্প লেখায় ব্যয় করেন। ১৮৮০ সালে প্রথম মাস্টারপিস গল্প ‘বুলে দে সুইফ’ প্রকাশ করেন। প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক সাড়া ফেলে এই গল্প। ফ্লবেয়ার মন্তব্য করেন, ‘এটি তাঁর মাস্টারপিস হিসেবে টিকে থাকবে।’ এর পর থেকে ‘দিউক্স আমিস’, ‘মাদার স্যাভেজ’, ‘মাদেমোইসেল ফিফি’ প্রকাশ করতে থাকেন। ১৮৮০ থেকে ১৮৯১ সালের এই দশক ছিল মপাসাঁর বহুলপ্রজ সময়। বছরে কমপক্ষে দুটি, কখনো কখনো চারটি করে গল্প সংকলন প্রকাশ করেন। 

উত্তরকালের লেখকদের ওপরে মপাসাঁর প্রভাব লক্ষণীয়। সমারসেট মম, ও হেনরি, হেনরি জেমস প্রমুখের ওপরে তাঁর ছায়া পড়েছে। সমারসেট মমের ‘মি. নো-অল’ ও ‘আ স্ট্রিং অব বিডস’ এবং হেনরি জেমসের ‘পেস্ট’ গল্পে মপাসাঁর ‘দ্য নেকলেস’-এর প্রভাব লক্ষণীয়।

দুলাল আল মনসুর

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা