kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় পেলেন নতুন দোকান

জয়ন্তী রানীর চোখেমুখে প্রশান্তির ছাপ

আমার অনেক উপকার হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন

জাকারিয়া জামান   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জয়ন্তী রানীর চোখেমুখে প্রশান্তির ছাপ

বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া নতুন দোকানের সামনে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে জয়ন্তী রানী কর্মকার

প্রায় বছরখানেক আগের কথা। নাটোরে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় কম্বল বিতরণে গিয়েছিলাম। ঢাকার টিমের সঙ্গে স্থানীয় শুভসংঘের নেতারা। রেলস্টেশনের পাশেই একটি ছোট্ট মাঠে কম্বল বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অনেকেই হাতে টোকেন নিয়ে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছে। হঠাৎই চোখে পড়ল গেটের দিকে। লাঠিতে ভর করে অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আসছিলেন আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সের এক মহিলা। একটু হাঁটার পরেই আবার থেমে কিছুটা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তাঁর কষ্ট দেখে শুভসংঘের সদস্যরা এগিয়ে যান। ধরে এনে লাইনে বসিয়ে দেন। কথা বলে জানা যায় মহিলাটির নাম জয়ন্তী রানী। তিন ছেলে এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে নাটোর শহরের ঝাউতলা বস্তিতে থাকেন। মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা তুলে সংসার চলে তাঁর। আরো কিছু তথ্য নিয়ে কম্বল বিতরণ শেষে শুভসংঘের বন্ধুরা আলোচনায় বসেন। সবার একই কথা জয়ন্তী রানীর জন্য কিছু করতে চাই। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন একটু সময় নিয়ে হলেও তাঁকে স্বাবলম্বী করতে হবে।

সম্প্রতি জয়ন্তী রানীকে স্বাবলম্বী করতে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় তাঁকে একটি নতুন দোকান করে দেওয়া হয়েছে। নতুন মালপত্র কিনে দেওয়া হয়েছে। রাস্তার পাশে জেলা পরিষদের জায়গায় ছোট্ট যে টিনের ঘরে তাঁরা থাকেন, সেই ঘরের পাশেই তৈরি করে দেওয়া হয়েছে নতুন দোকান। দোকান পেয়ে খুব খুশি জয়ন্তী। তিনি বলেন, ‘আমার অনেক উপকার হয়েছে। আপনাদের ধন্যবাদ, বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ। আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন। ’ কথাগুলো যখন জয়ন্তী রানী বলছিলেন, তাঁর মুখে ফুটে উঠেছিল প্রশান্তি আর প্রাপ্তির ছাপ।

শুভসংঘের সদস্যরা বলেন, আমরা প্রথমে ঠিকানা সংগ্রহ করে  সরেজমিনে তাঁর বাসায় যাই। জয়ন্তী রানী সপরিবারে নাটোর শহরের ঝাউতলা বস্তিতে মানবেতর এবং দুর্বিষহ জীবন যাপন করেন। একটি ছোট্ট টিনের ঘর, বিদ্যুৎ নেই, ভালো টয়লেট নেই। নিজেও প্রতিবন্ধী এবং তাঁর স্বামীও প্রতিবন্ধী হওয়ায় আয়ের নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যম নেয়। মাঝেমধ্যে প্রতিবেশীরা তাঁদের খাবার দিয়ে সহযোগিতা করে। তিন ছেলে তাঁদের সংসারে। বড় ছেলের বয়স ১২ বছর। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি থাকলেও যাওয়া হয়নি কখনো এই ছেলেগুলোর। অভাব যাদের নিত্য সঙ্গী তাঁরা সন্তানদের পড়ালেখা করাবেন কিভাবে? প্রতিবন্ধিতার কারণে জয়ন্তীর চলাফেরায় অনেক কষ্ট। তাঁকে একটি দোকান করে দিলে তিনি বসে থেকে বিক্রয় করতে পারবেন। তাঁর বাড়ির আশপাশে তেমন কোনো দোকান নেই। দোকানে বিক্রি ভালো হবে। এই ভেবেই কাজ শুরু হয় জয়ন্তী রানীকে দোকান করে দেওয়ার। বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতায় কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যদের প্রচেষ্টায় দোকান তৈরি, রং করা, জিনিসপত্র ক্রয় সব কিছুই করা হয়। নতুন একটি দোকান এবং জিনিসপত্র হাতে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায় জয়ন্তী রানী ও তাঁর পরিবার। বারবার তিনি ধন্যবাদ জানান। এই দোকান নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন। এখন ছেলেদেরও পড়াশোনা করাতে চান তিনি।

একটু একটু করে দেখা স্বপ্ন পূরণে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ থেকেছে জয়ন্তীর পাশে। গত ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে শুভসংঘের ‘শুভ স্টোর’ বুঝিয়ে দেওয়া হয় জয়ন্তী রানীকে। তাঁর এই প্রাপ্তিতে খুশি হয় প্রতিবেশীরাও। তারা জানায়, খুব ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছেন আপনারা। অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে অনেক ধন্যবাদ।

কালের কণ্ঠের নাটোর প্রতিনিধি রেজাউল করিম রেজা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শুভসংঘ মানবিক কাজ করে যাচ্ছে। করোনার সময়ে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে শুভসংঘ। আজকে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় জয়ন্তী রানীকে স্বাবলম্বী করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এটি নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। এই দোকানটিতে আরো বেশি করে মালপত্র তুলে দিতে পারলে আরো ভালো হতো। তবে যেটুকু হয়েছে, তাতে এই পরিবারটি দাঁড়িয়ে যাবে। বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ এমন কাজের সারথি হওয়ার জন্য।



সাতদিনের সেরা