kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

বগুড়ায় শিশুদের দাঁতের চিকিৎসায় সহায়তা

বাকপ্রতিবন্ধীদের মুখে সুস্থতার হাসি

সুচিত্রা পূজা   

৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাকপ্রতিবন্ধীদের মুখে সুস্থতার হাসি

শিশুদের দাঁতের চিকিৎসা করছেন ডা. সিরাজুল হক ফাইন (বাঁয়ে)। বাকপ্রতিবন্ধীদের বুঝিয়ে দিচ্ছে এক শিক্ষার্থী

আইরিনের বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়ার পল্লিমঙ্গল এলাকায়। জন্ম থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী সে। কথা বলতে না পারায় ভর্তি হতে পারেনি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বাবা ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান।

বিজ্ঞাপন

অভাব-অনটনের সংসারে চিকিৎসাও মিলেছে সাধ্যের মধ্যে। অবশেষে আইরিন ভর্তি হয় উপজেলা কলোনির মূক ও বধির বিদ্যালয়ে। আইরিন এখন বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকেই এখানকার আবাসিক শিক্ষার্থী।   আইরিনের মতোই আরেকজন জেমি খাতুন। তার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। মূক ও বধির বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে আসা। অনেকের পরিবার এখানে দিয়ে যাওয়ার পর আর খোঁজও রাখে না। কাজেই এই শিশুদের হাসি আর কান্নাও কেউ বোঝে না। কারো আবার মা-বাবা নেই। সালমা, মিল্লাত, হামিদুর, অনিক, আল-আমিন, তরিকুল, তন্ময় জন্মগতভাবেই বাকপ্রতিবন্ধী। তারা সবাই বগুড়া সদর উপজেলা কলোনির মূক ও বধির বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কথা বলতে না পারায় নিজেদের রোগশোকের কথা তারা মুখ ফুটে কাউকে বলতে পারে না। এখানকার শতাধিক শিশু নীরবে বছরের পর বছর ধরে দাঁতের যন্ত্রণায় ভুগছিল। এই বিষয়টি জানতে পারেন বগুড়া জেলা শুভসংঘের বন্ধুরা। বাকপ্রতিবন্ধী এই শিক্ষার্থীদের দাঁতের যত্ন শেখাতে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের বন্ধুরা হাজির হন বিদ্যালয়ে। সঙ্গে ছিলেন জেলা শুভসংঘের সভাপতি ডা. সিরাজুল হক ফাইন। তিনি একজন দন্ত চিকিৎসক।

গত ২৬ জুলাই মঙ্গলবার বগুড়া সদর উপজেলা কলোনির মূক ও বধির বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীকে দাঁতের যত্ন শেখান শুভসংঘের বন্ধুরা। প্রাথমিকভাবে সবার দাঁতের পরীক্ষা করে সমাধানও করে দেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের সঠিক নিয়মে ব্রাশ করা শিখিয়েছেন।

শুভসংঘের বন্ধু ও ডাক্তারের কথা তো এই শিক্ষার্থীরা বোঝে না। তাদের বোঝাতে হয় ইশারা ভাষায়। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক মো. আবু সাইদ সহায়তা করেন। বেশ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীও ইশারা ভাষায় অন্যদের বোঝাতে সহায়তা করে।

ডা. সিরাজুল হক ফাইন ঘোষণা দেন, প্রতি মাসে এক দিন তিনি নিজ চেম্বারে এই প্রতিবন্ধী শিশুদের বিনা মূল্যে দাঁতের সমস্যার চিকিৎসা দেবেন। শুভসংঘের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সেনসোডাইন ও প্যারোডনট্যাক্স উপহার দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘এবারই প্রথম কেউ আমাদের শিক্ষার্থীদের দুঃখ বুঝে এগিয়ে এলো। এরা কথা বলতে পারে না। অনেক দিন থেকে আমরা এই শিক্ষার্থীদের পাশে আছি বলে তাদের ব্যথাটা বুঝতে পারি। এখানকার শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই দরিদ্র পরিবার থেকে আসা। তাদের অভিভাবকদের ভালো চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। আজকে শুভসংঘ থেকে আপনারা এসে অনেক উপকার করলেন। আপনাদের জন্য অনেক অনেক দোয়া। ’

পুরো আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন শুভসংঘের ডা. শফিক আমিন কাজল, শিশির মোস্তাফিজ, সাখাওয়াত হোসেন জনি, জিএসকে বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিনিধি মো. শামিম রেজা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আমান উল্লাহ, সাহিন সুলতানা, রাকিবা সুলতানা, শুভার্থী রুমানা ইয়াসমিন রুমি, আল-আদল আপন, কামরুন্নাহার, আব্দুর রহিম প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা