kalerkantho

মঙ্গলবার। ৯ আগস্ট ২০২২ । ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১০ মহররম ১৪৪৪

অতীত থেকে আরো উজ্জ্বল

মাহতাব হোসেন, সহসভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটি

২ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অতীত থেকে আরো উজ্জ্বল

পিএইচএ ভবনের মঞ্চের সামনের সারিতে বসে আছি। বাঁ দিকের চেয়ারে চোখ চলে গেল। মিলন ভাই (ইমদাদুল হক মিলন) বসে আছেন। আগতরা পাশে বসে একের পর এক ছবি তুলছেন।

বিজ্ঞাপন

ফ্ল্যাশব্যাকের মতো ১৭ বছর পেছনে চলে গেলাম। মনে হলো, সমুদ্রসৈকতের বড় কোনো ঢেউ এক ধাক্কায় দূরে কোথাও ছিটকে ফেলল। ২০০৫ সালে ঠিক এই অডিটরিয়ামে এমনই একটি দৃশ্য দেখেছিলাম। তখন দেশের একটি জাতীয় দৈনিকের পাঠক সংগঠনের জাতীয় সম্মেলনে পার্বতীপুর থেকে রাত জেগে ট্রেনে করে এসেছিলাম আমি, দীপ, শিমুল, রপু। ঠিক সেই চেয়ারে বসেছিলেন কবি শামসুর রাহমান, আর সেভাবেই আগতরা বসে ছবি তুলছিলেন, অটোগ্রাফ নিচ্ছিলেন। কালের কণ্ঠের শুভসংঘের জাতীয় সম্মেলন যেন আমাকে প্রায় দেড় যুগ আগের সে দৃশ্যই দেখাল। তারপর পেরিয়ে গেছে কত সময়। ২০১০ সালে শুভসংঘের সঙ্গে যুক্ত হয়ে, চাকরি সূত্রে এই পত্রিকার সঙ্গেই জড়িয়ে পড়লাম। যেন কালের কণ্ঠ ও শুভসংঘ আমার এক চিরন্তন পথ, যে পথে হেঁটে যাব অনন্তকাল।

শুভসংঘের জাতীয় সম্মেলন ছিল নানা কারণেই বৈচিত্র্যময়। অন্তত হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করলাম তেমনটাই। দুই দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল। মেঘের আবরণের নিচে শুভসংঘের বন্ধুরা যেন মেতে উঠেছিলেন এক নিরাভরণ সুপ্ত উচ্ছ্বাসে। অডিটরিয়ামে ঢুকতে গিয়ে দেখলাম, ইট বিছানো রাস্তার দুই পাশে সবুজ গাছগুলো যেন আরো বেশি সবুজ হয়ে উঠেছিল। মূল ভবনে ঢুকতেই চোখে পড়ল দুই দিকে পলিসাইনে বড় করে টানানো শুভসংঘের পুরনো সংখ্যা। বেশ কয়েক বছর আগে নিয়মিত সাহিত্য সংখ্যা বের হতো, তারই একটায় চোখ আটকে গেল। আমার লেখা গল্প ‘দিয়েছিলে একরাত্রি’। শুভসংঘের প্রতিটি পৃষ্ঠাই যেন একেকটি জ্বলজ্বলে স্মৃতি। তবে এত বড় আর বর্ণময় আয়োজন এটাই প্রথম। চোখ আটকে গেল কিছু বিদেশি তরুণ-তরুণীর পারফরম্যান্স দেখে। সোমালিয়ান, নেপালিজ, ভুটানিজ—এরা সবাই শুভসংঘের বন্ধু। বাংলাদেশে পড়তে এসে এঁরা নিজেদের শুভসংঘের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ফলে তাঁরা নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশি সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটিয়ে যে পরিবেশনা করলেন, তা শুধু আমাকেই নয়, সারা দেশ থেকে আসা বন্ধুদের দারুণ আনন্দ দিয়েছে।



সাতদিনের সেরা