kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

দরিদ্র ইদ্রিসের পরিবারে খাদ্য সহায়তা

কাজী আয়েশা ফারজানা   

২১ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দরিদ্র ইদ্রিসের পরিবারে খাদ্য সহায়তা

হতদরিদ্র মো. ইদ্রিস মিয়াকে এক মাসের বাজার করে দেন বোয়ালখালী উপজেলা শাখার বন্ধুরা

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার মীরপাড়ার বাসিন্দা মো. ইদ্রিস মিয়া বার্ধক্য আর চরম দরিদ্রতার সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন। অভাব-অনটনে চলে তাঁর সংসার। সংসারে রয়েছে তিন ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী। ছেলে মাঝেমধ্যে দিনমজুরের কাজ করলেও বেশির ভাগ সময় থাকে বেকার।

বিজ্ঞাপন

ইদ্রিস রাস্তার পাশে বসে পান বিক্রি করতেন। কিন্তু বয়সের ভারে এখন শরীরটা অচল হয়ে পড়েছে। তাই আগের মতো আর কাজ করতে পারেন না। সংসারে তাঁর নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা।

প্রতিদিন বোয়ালখালী উপজেলা সদর দিয়ে যাওয়ার পথে দেখা মিলবে ইদ্রিসের। লাঠি হাতে রাস্তার এক পাশে বসে আছেন। ঠিকমতো পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারেন না। তবু ফুটপাতে ডাব বিক্রেতার ডাব পাহারা দিয়ে অল্প কিছু টাকা রোজগার করার চেষ্টা করেন। এতে তাঁর সংসার খরচ তো দূরে থাক, ঠিকমতো তাঁর চিকিৎসাটুকুও হয় না। ঘরে অসুস্থ স্ত্রী। তাঁকেও চিকিৎসা করাতে পারেন না তিনি। মাঝেমধ্যে প্রতিবেশীরা যা পারেন সহায়তা করেন। একদিন তাঁর এই দুর্দশা নজরে আসে শুভসংঘ বোয়ালখালী উপজেলা শাখার বন্ধুদের। সংসারের কষ্টের কথা জানিয়ে কিছু সহায়তা প্রার্থনা করেন। তিনি জানান, কাজকর্ম করার শক্তি হারিয়ে অনেকটা অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তার পরিবারের। নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাঁর সংসারে। সংসারের টানাপড়েন মেটাতে অনেক বিত্তবানের কাছে ছুটে গেছেন তিনি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েছেন তাঁকে, কিন্তু কেউ তাঁর পাশে এসে দাঁড়াননি।

তাঁর এই দুরবস্থায় খাদ্য সহায়তা নিয়ে হাজির হন শুভসংঘের বন্ধুরা। শুভসংঘের খাদ্য সহায়তা পেয়ে অসহায় ইদ্রিস মিয়ার মুখে তখন হাসির ঝলক। উপজেলা সদর থেকে আধাকিলোমিটার দূরে ইদ্রিসের পরিবারের বসবাস। শুভসংঘের বন্ধুরা চাল, ডাল, আলু, তেল, ময়দাসহ নানা ভোগ্যপণ্য তাঁর হাতে তুলে দেন।

শুভসংঘ বোয়ালখালী শাখার সাহিত্য সম্পাদক সৈকত দাশ বলেন, ‘বোয়ালখালী শুভসংঘ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় অসহায় ইদ্রিস মিয়ার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। আমাদের খুব ভালো লাগছে আমরা ইদ্রিস মিয়ার মতো অসহায় একজন মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে পেরেছি। আমরা ভবিষ্যতেও আমাদের এই শুভ কাজের ধারা অব্যাহত রাখব। ’

শুভসংঘের খাদ্য সহায়তা পেয়ে মো. ইদ্রিস মিয়া বলেন, ‘এটাও কি সম্ভব! এই প্রথম দেখলাম কেউ দরজার সামনে এসে সহায়তা দিয়ে গেল। ৭০ বছর বয়স হয়েছে, কারো কাছে সহায়তার জন্য গেলে দিনের পর দিন ঘুরেও সহায়তা পাইনি। কিন্তু শুভসংঘ খাদ্যসামগ্রী বহন করে নিয়ে এসে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। শুভসংঘ যে খাবার দিল, তাতে আমাদের এক মাস খুব ভালোভাবেই চলে যাবে। আমি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যারের জন্য দুই হাত তুলে দোয়া করি আল্লাহর কাছে। তাঁর মাধ্যমে আমার মতো হাজার মানুষ কিছুটা হলেও খেয়ে-পরে বাঁচতে পারবে। ’

শুভসংঘ বোয়ালখালী শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের সারা দেশে মানবিকতার কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের মানবিক সহায়তা সব সময় অব্যাহত থাকবে বোয়ালখালী শুভসংঘের। আমরা অসহায় এই মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তনে সব সময় কাজ করে যাব। শুভসংঘ সারা দেশের মতো বোয়ালখালী উপজেলায়ও তারুণ্যের রোল মডেল হিসেবে কাজ করছে। ’

পুরো আয়োজনটির সমন্বয় করেন বোয়ালখালী উপজেলা কালের কণ্ঠের বোয়ালখালী প্রতিনিধি কাজী আয়েশা ফারজানা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক চিন্ময়। পুরো কার্যক্রমের সহযোগিতায় ছিলেন শুভসংঘের পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মো. মাসুদুল হক চৌধুরী ও কাজী মো. ইয়াছিন আরাফাত হাসান।

 



সাতদিনের সেরা