kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

স্বপ্ন পূরণ হবে আতিকা বুশরার

‘শুভসংঘ যেভাবে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এখন স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে আর কোনো বাধা নেই। আমি আমার শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা আমাকে এত দূর আসতে সাহায্য করেছেন

আব্দুল খালেক ফারুক   

১৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বপ্ন পূরণ হবে আতিকা বুশরার

আতিকা বুশরা

আতিকা বুশরা। বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামে। বাবা ফিরোজ আলম ক্ষুদ্র কৃষক। মা সেলিনা আখতার।

বিজ্ঞাপন

তিনি একটি বেসরকারি এনজিওতে কিছুকাল চাকরি করলেও সেই চাকরি টেকেনি তাঁর। অল্পদিনেই চাকরি হারান তিনি। বাড়ির ভিটাটুকু ছাড়া কোনো সহায়-সম্বল নেই এই অভাবী দম্পতির। দরিদ্র মা-বাবার ঘরে জন্ম নিয়েও আকাশছোঁয়া স্বপ্ন আতিকা বুশরার। স্বপ্ন তার বুয়েটে পড়ার। এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে  ঢাকার হলিক্রস কলেজে পড়ার সুযোগ পায় আতিকা। কিন্তু তখনই দরিদ্রতা বাধা হয়ে দাঁড়ায় আতিকার জীবনে। অর্থাভাবে তার ভর্তি যখন অনিশ্চিত, ঠিক তখন তার স্বপ্নযাত্রা এগিয়ে নিতে পাশে এসে দাঁড়ায় শুভসংঘ। প্রতি মাসে শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে তার জন্য।

আতিকার মা সেলিনা আখতার জানান, ছোটবেলা থেকেই আতিকা অত্যন্ত মেধাবী। কাঁঠালবাড়ী কিন্ডারগার্টেনে প্রাথমিক ও কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক স্তরে লেখাপড়া করে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিকে ঢাকার হলিক্রস কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে লেখাপড়া করছে। আতিকা পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ৫ ছাড়াও পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। আতিকার স্বপ্ন ছিল একটি ভালো কলেজে পড়ে বুয়েটে পড়ার উপযোগী করে নিজেকে তৈরি করা। কিন্তু ওর স্বপ্নপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল আর্থিক সংকট। দ্বিধাগ্রস্ত মা-বাবাকে অবাক করে ঢাকার হলিক্রস কলেজে ভর্তির সুযোগ পায় সে। কিন্তু ভর্তিসহ আনুষঙ্গিক খরচ জোগাতে পারছিলেন না তার মা-বাবা। এ সময় শুভসংঘ ও তার কিছু আত্মীয়-শুভাকাঙ্ক্ষী পাশে দাঁড়ায়।

সেলিনা আখতার আরো জানান, চরম দারিদ্র্য আর অর্থকষ্ট সত্ত্বেও তাঁর মেয়ে দিনরাত একাগ্রতা নিয়ে পড়ালেখা করে গেছে। বই-খাতা, টিউশনির খরচ ঠিকমতো মেটাতে পারেননি। ভালো খাবার কিংবা কাপড় পরাতে পারেননি। কিন্তু কোনো অভাব তার সাফল্যে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি, এটাই সান্ত্বনা। তাই যত কষ্টই হোক, মেয়ের স্বপ্নপূরণে চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাঁরা। এ ক্ষেত্রে কিছু আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও কালের কণ্ঠ শুভসংঘ আতিকার পাশে থাকায় গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। লেখাপড়ায় বরাবরই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা আতিকা ভালো আবৃত্তিও করে।

আতিকা তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলে, ‘শুভসংঘ যেভাবে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এখন স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে আর কোনো বাধা নেই। আমি আমার শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা আমাকে এত দূর আসতে সাহায্য করেছেন। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যাতে আমি মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে পারি। ’



সাতদিনের সেরা