kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

গোবিন্দগঞ্জে বৃদ্ধাশ্রমের মা বাবারা পেলেন কম্বল

অমিতাভ দাশ হিমুন   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গোবিন্দগঞ্জে বৃদ্ধাশ্রমের মা বাবারা পেলেন কম্বল

কম্বল বিতরণ শেষে মেহেরুন্নেসা বৃদ্ধাশ্রমের মা-বাবাদের সাথে গাইবান্ধা জেলা শাখা

প্রবল শৈতপ্রবাহে স্থবির হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার জনজীবন। কুয়াশা ভেদ করে খুব সামান্য সময়ের জন্য নিস্প্রভ রোদের দেখা মেলে। এই কনকনে শীতে কষ্টে আছেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ‘মেহেরুন্নেসা বৃদ্ধাশ্রম’ এ থাকা মা বাবারা। সম্প্রতি শুভসংঘের বন্ধুরা তাদের হাতে কম্বল তুলে দিলে সেইসব বিষন্নমুখে দেখা মেলে একটুখানি হাসির।

বিজ্ঞাপন

অশীতিপর জোবেদ আলী (৮১) বললেন, ‘ইব্যার হামার শীত অনেক বেশি লাগিচ্চে। অন্যবার বুড়া মাইস্যের কথা ভাব্যে কম্বল আসে। ইব্যার নাই, খুব কম মানুষ দেকিচ্চি’। প্রাণ ভরে দোয়া করলেন মজিরণ বেওয়া আর ফুলজান বিবি। বললেন, ‘প্রতিবার তোমরা আস্যেন, কম্বল দ্যান। খুব উপকার হয়। আল্লাহ তোমাদের হায়াত দারাজ করুক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  ইতিহাস বিভাগের ‘আমরা চুরাশি’ সংগঠনের সহযোগিতায়  গাইবান্ধা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শুভসংঘ এই আয়োজন করে। ২০ জন নারী ও ১০জন পুরুষ এবং প্রতিষ্ঠানের ৭ কর্মচারীসহ  আশেপাশের এলাকার ৪৫ জনকে কম্বল দেওয়া হয়।

বৃদ্ধাশ্রমের চত্বরে বসেছিলেন সবাই। শুভসংঘের পক্ষ থেকে করোনাকালের সাবধানতা আর সহায়সম্বলহীন প্রবীণদের ভালবাসা জানিয়ে বক্তব্য রাখলেন, বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আপেল মাহমুদ এবং জেলা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক লতা সরকারসহ প্রমুখ।   জেলা শুভসংঘ সাধারণ সম্পাদক লতা সরকার বললেন, গত ক’দিনের শীতে জেলার মানুষ অনেক কষ্ট পাচ্ছেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলে সমস্যা প্রকট। শুভসংঘ তাদের জন্য কম্বল সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। খুব শীঘ্রই এ সব দেওয়া হবে’। লতার সঙ্গে এদিন জেলা সদর থেকে বৃদ্ধাশ্রমের বাবা মায়েদের দেখতে চলে এসেছিলেন জান্নাতুল মাহা মীম। এই মানুষগুলো হাতে কম্বল তুলে দিতে পেরে তার সে কী আনন্দ।

মেহেরুন্নেসা বৃদ্ধাশ্রমের সভাপতি আপেল মাহমুদ তার অনুভুতি প্রকাশ করে  জানান, ‘২০১৭ সালে বৃদ্ধাশ্রমটি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিজেদের সামর্থ্যে সম্বলহীন অসহায় মা বাবাদের থাকা খাওয়া, চিকিৎসা, ওষুধপত্র সরবরাহ করতে হয়। শুভসংঘকে এমন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ’।



সাতদিনের সেরা