kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

মেধাবী মনিষার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হবেই

মো. রাসেল ইসলাম   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেধাবী মনিষার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হবেই

দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রী মেধাবী মনিষা আক্তারকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

দিনমজুর বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী মনিষা আক্তার। বাবা মা ছাড়াও সংসারে তিনবোন দুই ভাই। সাতজনের সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গি। এরমধ্যেই এগিয়ে চলছিল মনিষার পড়াশোনা।

বিজ্ঞাপন

ভাইবোনদের মধ্যে সবার বড় মনিষা পড়াশোনা করবে কিভাবে এই চিন্তায় মগ্ন থাকতো সব সময়। অভাবের সংসারে লেখাপড়া করা যেন অভিশাপের মত ঠেকছিল তাঁর কাছে। এর মাঝেই চলে এলো এসএসসি পরীক্ষা। চোখে মুখে যখন অন্ধকার দেখছিল মনিষা তখনই তার পাশে এক টুকরো আশার আলো হয়ে ধরা দিল শুভসংঘ। জেলা শুভসংঘের উপদেষ্টা এমদাদুল হক শুভসংঘ বন্ধুদের নিয়ে মনিষার পাশে দাঁড়ান। নির্বিঘ্নে এসএসসি পাশ করে মনিষা। দিনাজপুর শহরের খোদমাধবপুর উপশহর মিস্ত্রিপাড়ায় গিয়ে মনিষার নিয়মিত খোঁজ রাখতেন তারা। মনিষাকে তারা আশ্বাস দেন, তুমি পড়ালেখা কর যা খরচ হবে আমরা দেখবো। তুমি  শুধু নিজেকে তৈরী কর। বই খাতা স্কুলের বেতন কিংবা পরীক্ষার ফি, কোনোটিই আর আটকে থাকেনি তার। আটকে নেই তার পড়াশোনাও। এখন সে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করছে। পাচ্ছে শুভসংঘ থেকে মাসিক বৃত্তি। তাঁর উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের যে স্বপ্ন সেটা পূরণে কাজ করবে শুভসংঘ। যতদিন মনিষা পড়াশোনা করবে তাকে সহায়তা দিবে দেশের বৃহত্তম এই সামাজিক সংগঠন।

বর্তমানে মনিষা আক্তার দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইলেকট্রিক্যাল বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করছে। তাকে প্রতি সেমিস্টারে পরীক্ষার ফরম পূরণ, বই কেনার জন্য অর্থ দিতে ভুলে না শুভসংঘের বন্ধুরা। মনিষার কথা শুভসংঘের জেলা সভাপতি মো. রাসেল ইসলামের কাছে থেকে শুনে শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক জাকারিয়া জামান প্রতিমাসে শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে দেয়। কোন প্রাইভেট পড়া ছাড়াই এসএসসিতে জিপিএ ৪.৫০ পেয়েছিল।

মনিষা বলেন, এমদাদ দাদু আর শুভসংঘ না হলে আমি এতদুর লেখাপড়া করতে পারতাম না। দাদু  এবং  শুভসংঘ সবসময় পাশে দাঁড়িয়ে অর্থ সহযোগিতা করেছে। আমার ফরম পূরণ, বই কেনা, কলেজের পোশাক কেনার জন্য টাকা দিয়েছে। আমাকে প্রতিমাসে শুভসংঘ থেকে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে। আমার জন্য এটা অনেক উপকার হয়েছে। আমি কোনদিন ধারণা করতে পারি নাই শুভসংঘ আমাকে এভাবে সহযোগিতা করবে। আমি সারাজীবন শুভসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো। আমিও একদিন নিজে উপার্জন করে সমাজের অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবো।

কালের কণ্ঠ দিনাজপুর প্রতিনিধি এমদাদুল হক মিলন বলেন, একটা সময় মনিষার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। টাকার কারনে তার লেখাপড়া বন্ধ থাকবে, এটা হতে পারে না। সেদিন থেকেই আমরা সিদ্ধান্ত নেই মনিষার লেখাপড়ার খরচ শুভসংঘের মাধ্যমে বহন করা হবে।

শুভসংঘের উপদেষ্টা ও দিনাজপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. আবু তৈয়ব আলী দুলাল বলেন, শুভসংঘ মনিষার পড়ালেখায় ধারাবাহিকভাবে সহায়তা করে আসছে। পড়ালেখা শেষ করা পর্যন্ত  মনিষার পাশে শুভসংঘ থাকবে।



সাতদিনের সেরা