kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

পদ্মার জেলেদের হাতে হাতে শীতবস্ত্র

শেখ মেহেদী হাসান   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পদ্মার জেলেদের হাতে হাতে শীতবস্ত্র

প্রমত্তা পদ্মার জেলেদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার বন্ধুরা

পদ্মার অববাহিকায় জীবনের ৫২টি বসন্ত কাটিয়ে দিয়েছেন ব্রজেন দাস। প্রমত্তা পদ্মার সাথে বুক চিতিয়ে লড়াই করে মাছ ধরে চলে তার জীবন। জীবনের সাথে সংগ্রাম করে পদ্মাকে জয় করতে পারলেও পারেননি নিজেদের অবস্থা বদলাতে। ভাগ্যদেবী কখনো প্রসন্ন ছিলেন না ব্রজেনদের উপর।

বিজ্ঞাপন

ব্রজেনের মত আরো শতাধিক জেলে পরিবারের বাস ঈশ্বরদীর সাঁড়া পল্লীতে। শীত আসে শীত যায়। এসব অসহায় মানুষের জোটে না রাতের হিম হাওয়া থেকে বাচঁতে গায়ে পড়ার মত কোন গরম কম্বল বা মোটা কাঁথা। এভাবেই নিরবে নিভৃতে কেটে যায় দিনের পর দিন। তবুও নেই কোন অভিযোগ, কোন অতৃপ্তি।

সম্প্রতি শীতের কম্বল নিয়ে অসহায় এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলা শাখা শুভসংঘের বন্ধুরা। শুভার্থীরা বিভিন্ন ধাপে পুরো কাজটি সম্পন্ন করেন। প্রথম ধাপে সাদিকুল ইসলাম রাসেল এবং আশিকুল ইসলাম পিয়াস নৌকা নিয়ে পুরো জেলেপাড়া ঘুরে ঘুরে নাম সংগ্রহ করেন। আনিসুর রহমান নয়ন, শাহরিয়ার নাফিজ স্বরণ দায়িত্ত্বে ছিলেন পরিবহণের কাজে। একদিন শীতের ঘন কুয়াশায় ঈশ্বরদী শাখার সভাপতি মাসুম পারভেজ কল্লোলের নেতৃত্বে শুভার্থীরা নৌকা নিয়ে রওনা হন সাঁড়া পল্লীতে। সেদিন কনকনে শীতের মাঝে জেলে পল্লীর এই মানুষগুলোর শরীরে বয়ে যায় উষ্ণতার পরশ। আগের দিন তালিকা করে যাওয়া একে একে সব জেলে এবং তাদের পরিবারের মধ্যে  বিতরণ করা হয় শীতের কম্বল। প্রতিটি পরিবারে গিয়ে মানুষগুলো হাতে হাতে কম্বল পৌছে দেন সাদিকুল ইসলাম রাসেল, ফারজানা ফেরদৌস পুষ্প, জান্নাতুন ফেরদৌস শারমিন, নুসরাত জাহান সূচনা, সামিয়া সুলতানাসহ শুভসংঘ বন্ধুরা। কম্বল হাতে পেয়ে অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে ঝুমুর দাস বলেন, সক্কলে কম্বল দেয় শহরে। আমরা জেলে পাড়ার গরীব মানুষেরা এগুলো চক্ষেই দেখতে পাইনা। আজকে এই বাবা মায়েরা আমগের লাগি যেই কম্বল নিয়া আইছে, ভগবানের কাছে তাগো লাইগ্যা আশির্বাদ দেই। সৃষ্টিকর্তা তোমগর ভালা করবে। বন্ধুদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন আনিসুর রহমান নয়ন, শাহরিয়ার নাফিজ স্বরণ, আবির হোসেন, জুবায়ের আলম নিরব প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা