kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শুভসংঘের সাইবার বুলিং কর্মশালায় পুলিশ সুপার বলেন

নিপীড়ন প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়তে হবে

অমিতাভ দাশ হিমুন   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নিপীড়ন প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়তে হবে

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের আয়োজনে ‘সাইবার নিপীড়ন প্রতিরোধে সাইবার বুলিং কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন ‘চিন্তক’ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের শিল্পীরা। এরপর শুভসংঘের কর্মশালা পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রজেক্টরের মাধ্যমে পর্দায় সাইবার বুলিংয়ের কুফল ও তথ্যসমৃদ্ধ ভিডিও চিত্র তুলে ধরে নারী শিক্ষার্থীদের সতর্কতা অবলম্বন ও প্রতিকারের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলার পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম। শুভসংঘের এই আয়োজনে অসংখ্য শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ মুগ্ধ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা, সততা ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। নিপীড়ন প্রতিরোধকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকাকে বেগবান করতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। এ ছাড়া শুভসংঘের এই কর্মসূচিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গাইবান্ধায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ জাতীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হলে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

‘সাইবার নিপীড়ন প্রতিরোধে সাইবার বুলিং কর্মশালা’ পরিচালনা করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার উদয় কুমার সাহা। তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন রক্ষা ও মানসিক নিপীড়ন থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে ইন্টারনেট ব্যবহারের অপপ্রয়োগ থেকে সরে আসতে হবে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আইনি প্রক্রিয়ারও বর্ণনা দেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরে প্রশ্ন করেন।

উপজেলা শুভসংঘের সভাপতি তাহমিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবদুল লতিফ প্রধান, পৌর মেয়র মো. মুকিতুর রহমান রাফি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু সাইদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান, থানার ওসি এ কে এম মেহেদি হাসান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাবুলাল চৌধুরী, শুভসংঘের জেলা সভাপতি তৌহিদা মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক লতা সরকার, উপজেলা সম্পাদক মো. হুমায়ুন আহমেদ বিপ্লব। 

আলোচনায় আবদুল লতিফ প্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে তারুণ্য ও আধুনিকতার প্রতীক সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে কর্মসূচি নিয়েছে তা সর্বক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তবে নৈতিকতার মান বৃদ্ধি না পেলে ও অসৎ মনোবৃত্তি থেকে সংশ্লিষ্টদের নিবৃত্ত না করতে পারলে শুধুু আইন প্রয়োগ করে অপপ্রয়োগ বন্ধ করা যাবে না। শুভসংঘের এই উদ্যোগের ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থী সাইবার বুলিং সম্পর্কে জানতে পেরেছে, যা তাদের অনলাইন যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমন আয়োজনের জন্য আমি শুভসংঘকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আবু সাঈদ বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক না হলে ব্যবহারকারীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীদের সাইবার বুলিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়াশোনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এই নিপীড়নের শিকার হলে তা প্রশাসনকে জানালে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাবিউর রহমান শুভসংঘের এই আয়োজনকে সময় উপযোগী উল্লেখ করে বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অন্তর্জাল শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা নানা অনভিপ্রেত ঘটনার দিকে মোড় নিচ্ছে। এ কে এম মেহেদি হাসান বলেন, পুলিশ কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা থাকলেও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি না করতে পারলে সাইবার বুলিং নিয়ন্ত্রণে আনা মুশকিল। বিশ্বব্যাপী অনলাইনের বিস্তার ও এর সুফল-কুফলের পরিসংখ্যান তুলে গোবিন্দগঞ্জ পৌর মেয়র বলেন, কেউ প্রযুক্তির এই মূল্যবান অবদানের বাইরে থাকতে পারবেন না। তবে এর ব্যবহারে সতর্ক না হলে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হবে।

তিন ঘণ্টার এই প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানের শেষে সাইবার বুলিং সম্পর্কিত কুইজ প্রতিযোগিতায় পাঁচজন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। বিজয়ীরা হচ্ছেন মুস্তারিণ সিদ্দিকা মুমুু, আনতার লাবিবা, কোহিনূর আক্তার কণা, জান্নতুল ফিরদৌস ও মো. আবিদ হাসান।

শুভসংঘের কর্মশালা পরিচালনায় সহায়তা করেন উপজেলা শুভসংঘের সহসভাপতি রাশিদ তাকি রাশু, মাহফুজ রহমান মুন, সহসাধারণ সম্পাদক নেহরিন প্রিয়তি, সাংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পি কুমার ঘোষ, অর্থ সম্পাদক অয়ন সুলতান, সহশিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক স্বাধীন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সিয়াম সিদ্দিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আজমাইন মাহতাব মিলন, জিহাদ, সাইদ, আল আবিদ সিয়াম, রুদ্র চৌধুরী, সিহাব আকন্দ, শরিফুল আলম, সাজিদ, রাহুল ও রোহান।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা শুভসংঘের সাংস্কৃতিক সম্পাদক দেবী সাহা, ফুলছড়ি শুভসংঘের সভাপতি শিমুল হাওলিদার, সরকারি কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রওজাতুন্নাহার লাবণ্য, মীম, জেলা শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম সম্পাদক উম্মে কুলসুম তালুকদার তুলনা এবং সুন্দরগঞ্জ ও পলাশবাড়ী শুভসংঘ।



সাতদিনের সেরা