kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কালের কণ্ঠ শুভসংঘের উদ্যোগে তৈরি হলো নতুন ঘর

বাতাসে আর উড়বে না বাতাসির দোকান

নাজমুল হুদা   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাতাসে আর উড়বে না বাতাসির দোকান

বাতাসি বেগমের জরাজীর্ণ চায়ের দোকানটি নতুন করে তৈরি করে দিয়েছেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘ নরসিংদী জেলা শাখার বন্ধুরা

ঘুণে ধরা চারটি বাঁশের খুঁটি। তার ওপর ঠেকনা দেওয়া জরাজীর্ণ ছাউনি। নড়বড়ে খুপরি। একটু জোরে বাতাস এলেই উড়ে যায় অবস্থা। মনে হয়, এই বুঝি ভেঙে পড়ল খুপরিটি। ছাউনির বেশ কয়েক জায়গায় ফুটো। বৃষ্টি এলেই টপ টপ করে পানি পড়ে। এর নিচে টুংটাং শব্দ করে চা বানাচ্ছেন বাতাসি বেগম। দীর্ঘদিন ধরে এই জরাজীর্ণ খুপরিতেই চা বিক্রি করেন। দোকানের বেহালের কারণে তাঁর বিক্রি কমেছে। আর বৃষ্টি এলে ব্যবসা করার জো থাকে না। বাতাসির টং দোকানে চা খেতে গিয়ে বিষয়টি নজরে পড়ে শুভসংঘের সদস্যদের। তাঁকে নতুন করে একটি দোকান নির্মাণ করে দেন শুভসংঘের নরসিংদী জেলা শাখার বন্ধুরা।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর সোমবার শুভসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মাহবুব রহমান মনিরের সহযোগিতায় অতিদরিদ্রদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প হিসেবে জেলার মাধবদী পৌরসভার হোসাইনবাজারে চায়ের দোকানটি পুনরায় নির্মাণ করে দেওয়া হয়। এ সময় শুভসংঘের মাধবদী শাখার সদস্য সাউদ ইসলাম মামুন ও সুমাইয়া সুমিসহ স্থানীয়রাও উপস্থিত ছিলেন।

নতুন দোকান পেয়ে বাতাসির যেন আনন্দের শেষ নেই। তিনি বলেন, ‘কত বছর ধইরা ভাঙা দোকানে চা বেচি। বৃষ্টি আইলে কাস্টমার দাঁড়াইতে পারে না। অন্য দোকানে চইলা যায়। আমি বেচতে পারি না।’ আরো দুঃখের কথা জানিয়েছেন বাতাসি বেগম। সাত বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা দেখভাল করতে পারেন না। দুটি ছেলেও আছে তাঁর। রিকশা চালিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার চালান তাঁরা। তাঁদের কাছে দোকান মেরামতের জন্য টাকাও চেয়েছেন বাতাসি। কিন্তু ছেলেদের টানাপড়েনের সংসারের কারণে সহায়তা করতে পারেননি। শুভসংঘের মাধ্যমে নতুন দোকান পেয়ে বাতাসি বলেন, ‘পোলারে কইছিলাম টাকা দিতে, দোকান ঠিক করমু। তাগোই নাকি সংসার চলে না, আমারে দিব কী। তোমরা আমারে নতুন দোকান করে দিছো বাবা। আমি খুব খুশি হইছি। তোমরা সবাই ভালো থাকবা।’ বাতাসির মতো অতিদরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী করতে শুভসংঘ ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ নেবে উল্লেখ মাহবুব রহমান বলেন, দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। শুভসংঘের সঙ্গে শুভ কাজ করাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমাদের সাধ্যের মধ্যে কর্মহীনদের জন্য কিছু করতে পারলে তারা সুন্দর জীবন পরিচালনা করতে পারবে।



সাতদিনের সেরা