kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

শুভসংঘের দেওয়া জায়গায় তৈরি হবে মমতাজের ঘর

আজিজুর রহমান রনি   

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শুভসংঘের দেওয়া জায়গায় তৈরি হবে মমতাজের ঘর

মমতাজ বেগমের হাতে জায়গার দলিল বুঝিয়ে দেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা শুভসংঘের বন্ধুরা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দরিকান্দি রহিমপুর গ্রামের অতিদরিদ্র মমতাজ বেগম। অভাব যাঁর নিত্যসঙ্গী। রোদ, বৃষ্টি আর তীব্র শীতের সঙ্গে আলিঙ্গন করে কখনো গাছতলায়, কখনো বা অন্যের বাড়ির বারান্দায় জীবন কেটে যাচ্ছিল তাঁর। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চলে। এক বেলা খাবার জোটে তো, আরেক বেলা জোটে না। অভাবের তাড়নায় বেঁচে থাকাই যেখানে দায়, সেখানে থাকার জায়গা আর নতুন ঘরের স্বপ্ন শুধু মরীচিকা। তবু স্বপ্ন বুনতেন, একদিন থাকার জায়গা হবে, একটা ঘর হবে। নিজের একটা ঠিকানা হবে। অভাবের জাঁতাকলে পিষ্ট জীবনে মমতাজ বেগম হয়তো ধরেই নিয়েছিলেন মৃত্যুর আগে তাঁর এই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার নয়। বিষয়টি নজরে আসে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের। শুভসংঘের বন্ধুরা ঠিক করলেন এই অসহায় মানুষটির পাশে দাঁড়াবেন। মমতাজ বেগমের একটি স্থায়ী ঠিকানার ব্যবস্থা করে দেবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। মমতাজ বেগমকে ঘর করার জায়গার ব্যবস্থা করে দিলেন শুভসংঘ বন্ধুরা। জায়গার ব্যবস্থা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন কপাল খুলল মমতাজ বেগমের। মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘর করে দেওয়ার জন্য যাবতীয় মালামাল প্রদানের ঘোষণা দিল।

শুভসংঘের বন্ধুরা যখন সোয়া ২ শতাংশ জায়গার দলিল হস্তান্তর করতে গেলেন, আবেগে আপ্লুত হন মমতাজ। মুরাদনগর থানার ওসি সাদেকুর রহমানের মুখ থেকে যখন শুনলেন, শুভসংঘের দেওয়া জায়গায় নির্মাণ হবে নতুন ঘর, বাঁধভাঙা আনন্দ তখন তাঁর অবয়বে। আবেগে মমতাজ বেগমের দুচোখ বেয়ে ঝরছিল আনন্দাশ্রু।

মুরাদনগর উপজেলা শুভসংঘের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘অতিদরিদ্র মমতাজ বেগমকে ঘর করার জন্য জমি দিতে পেরে সত্যিই আমরা আনন্দিত।’ মমতাজ বেগম বলেন, ‘শুভসংঘের দেওয়া জায়গায় পুলিশ ঘর করে দিলে মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে। বাকিটা জীবন সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারব। একটা পাকা ঘর হবে, কল্পনাও করিনি।’

মুরাদনগর থানার ওসি সাদেকুর রহমান বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে আইজিপি বেনজীর আহমেদের পক্ষ থেকে মমতাজ বেগমকে ঘর নির্মাণ করে দেব। মুরাদনগর উপজেলা শুভসংঘ দিয়েছে জমি। তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

 



সাতদিনের সেরা