kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

ঝালমুড়ি বিক্রেতা মর্জিনার পাশে শুভসংঘ

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী   

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝালমুড়ি বিক্রেতা মর্জিনার পাশে শুভসংঘ

মাদারীপুরে শুভসংঘের উদ্যোগে ঝালমুড়ি বিক্রেতা মর্জিনা বেগমকে দোকানে বিক্রির জন্য মালামাল কিনে দেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুদ্দিন গিয়াস। দোকান ও দোকানের মালামাল পেয়ে অসহায় মর্জিনা এখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।

জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর মিলগেট এলাকায় মর্জিনা বেগমের বাস। বিয়ে হয়েছিল মুন্সীগঞ্জের ছালাম বেপারীর সঙ্গে। স্বামী ছালাম পেশায় ছিলেন বেলুন বিক্রেতা। এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে ছিল তাঁদের অভাবের সংসার। ভাড়া বাড়িতে থেকে কোনো রকমে চলছিল পাঁচ সদস্যের সংসার। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে স্বামীর মৃত্যুর পর মর্জিনা বেগমের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। নিরুপায় হয়ে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে চলে আসেন বাবার বাড়িতে। এখানে এসেও পিছু ছাড়েনি অভাব। বাবার বাড়িতে ভিটামাটি ছাড়া কিছু নেই। মর্জিনার বড় ছেলে শাওন বেপারী (১৪) দিনমজুরের কাজ করলেও তাতে চলছিল না সংসার। হাল ছাড়েননি মর্জিনা। অবশেষে স্বল্পপুঁজি নিয়ে নিজেই নেমে পড়েছেন ঝালমুড়ি বিক্রি করতে। নিজ এলাকায় লজ্জায় ঝালমুড়ি বিক্রি করতে না পারায় চলে আসেন মাদারীপুর শহরে। রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতেন ঝালমুড়ি। সম্প্রতি ‘ঘুরে ঘুরে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন মর্জিনা’ শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হয়। বিষয়টি অনেকের নজরে আসে। মাদারীপুরের ছাত্রলীগ নেত্রী সাথী আক্তারের উদ্যোগে মর্জিনা বেগমকে কর্মসংস্থানের জন্য শহরের লেকপারে একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। বিক্রয়সামগ্রীর অভাবে দোকান চালু করতে পারেননি মর্জিনা বেগম। তখনই এগিয়ে আসেন জেলা শুভসংঘের বন্ধুরা।

এ ছাড়া আরো অনেকেই এগিয়ে আসেন মর্জিনাকে সহযোগিতা করার জন্য। দোকানে মালামাল কেনার জন্য আর্থিকভাবে মর্জিনাকে সহযোগিতা করেন মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুদ্দিন গিয়াস, শুভসংঘের সদস্য ওহিদুজ্জামান কাজল, সাংবাদিক মেহেদী হাসান সোহাগ, ফরিদ উদ্দিন মুফতি, গাউসুর রহমান, বিধান মজুমদার, মাদারীপুর ২ নম্বর শকুনি এলাকার বাসিন্দা বাদশা সরদার। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শুভসংঘের কে এম জুবায়ের জাহিদ, রাসেল হাওলাদার প্রমুখ।

মর্জিনা বেগম বলেন, ‘আগে রাস্তায় ঝালমুড়ি বিক্রি করতাম। খুব কষ্ট হতো। পরে দোকানের ব্যবস্থা হলেও বিক্রি করার মতো কোনো মালামাল ছিল না। এখন বিক্রি করার মতো মালামালের ব্যবস্থা হয়েছে। আমি অনেক খুশি। আমার জন্য যাঁরা সহযোগিতা করেছেন তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুদ্দিন গিয়াস বলেন, ‘একজন নারী হয়েও তিনি থেমে থাকেননি। বাঁচার জন্য রাস্তায় ঝালমুড়ি বিক্রি করেছেন। এই সংগ্রামী নারীকে কিছু সহযোগিতা করেছি। সে এখন দোকান চালু করতে পারবে। পরে আরো সহযোগিতা করা হবে।’



সাতদিনের সেরা