kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

কুষ্টিয়ায় তিন দিনের সফরে কালের কণ্ঠ সম্পাদক

ভালো মানুষ হওয়ার দীক্ষা নিলেন শুভসংঘ বন্ধুরা

তারিকুল হক তারিক   

১৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ভালো মানুষ হওয়ার দীক্ষা নিলেন শুভসংঘ বন্ধুরা

কালের কণ্ঠ শুভসংঘের উদ্যোগে কুষ্টিয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অস্টিটিক বিদ্যালয়ের ৫০ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন ইমদাদুল হক মিলন

‘মানুষ বড় হলে দেশ বড় হয়। আমাদের সবাইকে ভালো মানুষ হতে হবে, বড় মানুষ হতে হবে। কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যদের আমরা বড় মানুষ হিসেবে তৈরি করতে চাই’—তিন দিনের সফরে কুষ্টিয়া এসে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের বন্ধুদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন।

গত ৪ থেকে ৬ মার্চ শুভসংঘের নানা আয়োজনে অংশগ্রহণ করার জন্য কুষ্টিয়া সফর করেন তিনি। এই সফরের সময় তিন দিনে ছয়টি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে কিভাবে ভালো মানুষ হতে হয় সেই দীক্ষা গ্রহণ করেছেন শুভসংঘের সদস্যরা। সব শুভ কাজের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখে সমাজের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়াদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শুভসংঘ বন্ধুরা। তিন দিনের সব আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদেকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুন, সিনিয়র সহসভাপতি ও কালের কণ্ঠ’র বগুড়ার নিজস্ব প্রতিবেদক লিমন বাসার, সিনিয়র সহসভাপতি ও কালের কণ্ঠ কুষ্টিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক তারিকুল হক তারিক, জেলার সভাপতি নীলিমা বিশ্বাস, সহসভাপতি সুমাইয়া ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শম্পা আফরীন, প্রচার সম্পাদক এস এম জামাল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাকলী খাতুন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক যূথিকা রানী বিশ্বাস, সদস্য শাজাহান আলী, গোলাম মোস্তফা অন্তু, সুমাইয়া খাতুন, মেহেদী হাসান জয়, শিল্পী সরকার, পপি খাতুন, আফিয়া আনজুম শারিকা, শাকিল প্রামাণিক, মামুনুর রশিদ, মাহাবুবুর রহমান ছোটনসহ কালের কণ্ঠ শুভসংঘ কুষ্টিয়ার সদস্যরা।

৪ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইমদাদুল হক মিলন কুষ্টিয়া পৌঁছালে শুভসংঘের সদস্যরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। বিকেলে কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলার আয়োজন করা হয়। অতিথিসহ বিপুলসংখ্যক দর্শক বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোর সদস্যদের লাঠির কসরত উপভোগ করেন। লাঠিখেলা শেষে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, যে জাতি নারীকে সম্মান করে তারা অবশ্যই এগিয়ে যাবে। আত্মরক্ষার জন্য লাঠিখেলা ও মার্শাল আর্ট শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি বিদ্যালয়ে আত্মরক্ষার জন্য মার্শাল আর্ট শেখানো হলে নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে আমরা সক্ষম হব। তিনি আরো বলেন, মানুষ বড় হলেই দেশ বড় হয়। এ জন্য আমাদের ভালো মানুষ হতে হবে। আগামী প্রজন্মকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ সময় বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর সহসভাপতি জহুরুল হক চৌধুরী রন্জু, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সরোয়ার মুর্শেদ রতন, সাবেক ব্যাংকার খলিলুর রহমান মজু, অঙ্কনশিল্পী মীর জাহিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যদের হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ তুলে দেন ইমদাদুল হক মিলন। সব শেষে কুষ্টিয়ার একদল শিশু-কিশোর-কিশোরী মার্শাল আর্ট প্রদর্শন করে।

পরদিন সকালে কুষ্টিয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অস্টিটিক বিদ্যালয়ের হলরুমে শুভসংঘের উদ্যোগে ৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। অস্টিটিক ছাত্র-ছাত্রীরা নাচ, গান ও কবিতা পরিবেশন করে। এ সময় ইমদাদুল হক মিলন বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর থেকে আর ভালো কিছু নেই। প্রতিবন্ধীরা আমাদের সম্পদ। এই বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা-মননে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আমি এসব শিশুর মধ্যে আলো দেখতে পাই। অনুষ্ঠানে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা আনসারী মিরু সভাপতিত্ব করেন। এরপর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ীতে আনন্দঘন পরিবেশে বনভোজনে অংশগ্রহণ করেন ইমদাদুল হক মিলন। কুঠিবাড়ীর পুরো চত্বর ও ভেতরে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত সব জিনিসপত্র ঘুরে ঘুরে দেখেন। পুকুরঘাটের বকুলতলায় বসে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশিত গানও শোনেন। সব শেষে শিলাইদহের পাশের দ্বাড়িক গ্রামের অসহায় মিনারা খাতুনের হাতে দুটি ছাগল, চারটি হাঁস ও চারটি মুরগি তুলে দেন তিনি। এ সময় শিলাইদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন তারেক, কুমারখালী থানার ওসি মজিবুর রহমান ও কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি শওকত কবির উপস্থিত ছিলেন। সেদিন সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের খেয়া রেস্টুরেন্টে শহরের গণ্যমান্য সুধীজনদের নিয়ে প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সুধীজনরা কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও ইমদাদুল হক মিলনের লেখক হয়ে ওঠা নিয়ে অলোচনা করেন। ইমদাদুল হক মিলন তাঁদের কথা শোনেন এবং মতামত ব্যক্ত করেন। এ সময় ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ভালোবাসার চেয়ে বড় শক্তি পৃথিবীতে আর কিছু নেই। নিজেকে ভালোবাসবে এবং মানুষকে ভালোবাসবে, আমরা এমন মানুষ তৈরির জন্য কালের কণ্ঠ শুভসংঘ করেছি। সবাইকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। শুভসংঘ আমাদের সেই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে।

শেষ দিনে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে ‘আগামীর বাংলাদেশ ও তরুণদের পদক্ষেপ’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, প্রতিদিন একটি করে ভালো কাজ করতে হবে এবং বলতে হবে—‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। তাহলেই সব অসুন্দর থেকে নিজেকে ভালো রাখা যাবে এবং দেশের প্রতি আত্মার ভেতর থেকে ভালোবাসা তৈরি হবে। যার মধ্যে দেশপ্রেম ও সত্যিকারের ভালোবাসা আছে সে কখনো খারাপ হতে পারে না। আসুন, আমরা প্রতিদিন একটি করে ভালো কাজ করতে শিখি। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মনজুর কাদিরের সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় আরো বক্তব্য দেন শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদেকুল ইসলাম, কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনছার হোসেন, আইসিটি বিভাগের প্রধান লাল মোহাম্মদ। ঢাকায় ফেরার আগে ইমদাদুল হক মিলন কুষ্টিয়া শুভসংঘের সব সদস্যের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করেন এবং সবাইকে আবারও ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কথা পুর্ণব্যক্ত করেন।



সাতদিনের সেরা