kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

দৃষ্টি হারানো বায়েজীদকে সহায়তা

হযরত আলী হিরু   

১৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দৃষ্টি হারানো বায়েজীদকে সহায়তা

দৃষ্টিহীন শিশু বায়েজীদের হাতে সহায়তা তুলে দেন শুভসংঘের বন্ধুরা

১০ বছরের দৃষ্টিহীন শিশু বায়েজীদ রহমান বাদশা। এই বয়সে যার হাতে বইয়ের ব্যাগ থাকার কথা, সেখানে তার হাতে ভিক্ষার ঝুলি। নিজের চোখের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য চেয়ে শিশুটি ছুটে চলেছে মানুষের দ্বারে দ্বারে। ছয় বছর বয়সের সময় খেলা করতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে শিশুটি তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাগুড়া গ্রামের আকনবাড়ির মো. আবুল কালামের একমাত্র ছেলে বায়েজীদ। চার মাস বয়সে ছেলেটির বাবা তাদের ছেড়ে চলে যান। অসহায় মেয়ে ও নাতির পাশে দাঁড়ান বায়েজীদের নানা দিনমজুর বৃদ্ধ আব্দুল মালেক। মালেক বায়েজীদকে লেখাপড়া করানোর জন্য ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মদিনাতুল উলুম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় ভর্তি করান। নাতির চোখের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। ডাক্তাররা বায়েজীদকে ভারতে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিলে কলকাতা শংকর নেত্রালয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে মালেক জানতে পারেন, তাঁর নাতির দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে চিকিৎসায় ব্যয় হবে অনেক টাকা।

দেশে এসে চিকিৎসার সেই টাকা জোগাড় করতে মালেক তাঁর নাতি বায়েজীদকে নিয়ে মানুষের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এই সংবাদ শুনে ছেলেটির পাশে দাঁড়িয়েছে শুভসংঘ স্বরূপকাঠি উপজেলা শাখা। বায়েজীদ ও তার নানার হাতে বায়েজীদের চিকিৎসার জন্য নগদ কিছু টাকা তুলে দেয় তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মো. আলী আজিম বাচ্চু, মোস্তাকিন বিল্লাহ রাজু, হাসি, শান্তা ইসলাম, সাজিয়া বিনতে সালাম, বর্ণা ইসলাম, রমজান আলী রাকিব ও সাবিতুন নাহার লিজা। টাকা পেয়ে মালেক মল্লিক বলেন, ‘বায়েজীদের চিকিৎসার জন্য শুভসংঘ যে সহযোগিতা করেছে তা কোনো দিন ভুলব না। আমার নাতির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানাই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা