kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

অসহায়দের পাশে শুভসংঘের উপদেষ্টারা

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



অসহায়দের পাশে শুভসংঘের উপদেষ্টারা

করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সারা দেশের ১০-১১ লাখ শুভসংঘকর্মী। বসে নেই শুভসংঘের উপদেষ্টারাও। কী কাজ করছেন তাঁরা জানাচ্ছেন জাকারিয়া জামান

মাহবুবুর রহমান মনির

পরিচালক, আবেদ টেক্সটাইল প্রসেসিং মিলস

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নিজ এলাকায় জীবাণুনাশক স্পে করা, অসহায় হতদরিদ্র ১৫০টি পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী প্রদান—এমন নানা কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় অসহায় দরিদ্রদের মাঝে এক লাখ টাকা নগদ সহায়তা দিয়েছেন তিনি। আবেদ টেক্সটাইল প্রসেসিং মিলস ও নদীবাংলা গ্রুপের পক্ষ থেকে এক হাজার ৫০০ শাড়ি, ১.৫ টন চাল ও নগদ ২২ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করেছেন।

আবদুল কাদির মোল্লা

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, থার্মেক্স গ্রুপ

করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই নরসিংদীবাসীর সেবা দিয়ে আসছেন আবদুল কাদির মোল্লা। তাঁর পরিচালিত মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পুরো জেলায় ২৫ হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। আরো ২৫ হাজার পরিবারে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করবেন বলেও জানান তিনি। তাঁর শিল্পপ্রতিষ্ঠান থার্মেক্স গ্রুপের সৌজন্যে জেলা প্রশাসন, চিকিত্সক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ বিভাগের সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাঁচ হাজার পিপিই বিতরণ করেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ২০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ ইউনিট নির্মাণের ঘোষণা দেন, যা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সপ্তাহের প্রতি শনিবার দুস্থ, অসহায় ও সমস্যাপীড়িত মানুষের কথা শোনেন তিনি এবং বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত। অসহায় মানুষের চিকিত্সা, কন্যাদায়গ্রস্ত মা-বাবার পাশে দাঁড়ানোসহ নানাবিধ সেবামূলক কাজে তাঁর আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত আছে।

সাখাওয়াত হোসেন মামুন

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্যাসিফিক কনজুমার গুডস লি.

কুমিল্লার লাকসামে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন মামুন। তাঁর প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক কনজুমার গুডস লিমিটেডের মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার পরিবারে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাঁচ লক্ষাধিক টাকার খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। কম্পানির পরিচালক শাহাদাত হোসেন মুরাদকে সঙ্গে নিয়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে অসহায় মানুষের খোঁজ রাখছেন। ঈদের সময় ৫০০ পরিবারে ঈদ উপহার পৌঁছে দিয়েছেন। সাখাওয়াত মামুন বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমাদের এই সহায়তা কর্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নাঈমা আক্তার রিতা

অ্যাডভোকেট, গাজীপুর জজ কোর্ট

বর্তমান পরিস্থিতিতে আসলে ভালো থাকা কঠিন। করোনা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এই সময়ে আমি সবচেয়ে বেশি যেটা অনুধাবন করেছি সেটা হলো সঞ্চয়। প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সবারই সঞ্চয়টা জরুরি। ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষকে সহায়তা করেছি। হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষ এখন অনেক বিপদে আছে। আমি তাদের কিছু সাহায্য করছি। তাদের খোঁজখবর নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি এখনো। এ ছাড়া বেদে সম্প্রদায়ের কয়েকটি অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি।

রাইসুল উদ্দিন সৈকত

চেয়ারম্যান, এলবিয়ন গ্রুপ

করোনাভাইরাস তটস্থ করে রেখেছে গোটা বিশ্বকে। মহাসংকট কাল অতিক্রম করছে দেশের মানুষ। মধ্যবিত্ত সমাজ, শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া মানুষ অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছেন। ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর পাশে কাউকে না কাউকে দাঁড়াতে হয়। আমার বিবেকবোধ থেকে আমি তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা উপকরণ, অক্সিজেন, নেবুলাইজার, পিপিই, সার্জিক্যাল মাস্ক ও নিজস্ব উৎপাদিত হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ওষুধসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছি। এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড থেকে করোনাভাইরাস রোধে সহায়ক ইভারমেকটিন ওষুধ বাজারজাত করছি এবং কিছু কিছু জায়গায় সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে বিতরণ করছি। এই দুর্যোগের শুরু থেকে আমি আমার একটি বিশেষ টিমের মাধ্যমে গোপনীয়তার সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরীর অসংখ্য পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। যত দিন করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হবে এবং সামর্থ্য যত দিন থাকবে, তত দিন এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।

আব্দুল মান্নান আকন্দ

স্বত্বাধিকারী, শুকরা এন্টারপ্রাইজ

বগুড়া শুভসংঘের প্রধান উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান আকন্দ। করোনাকালে তিনি নিজ উদ্যোগে বগুড়া পৌর এলাকার ২১টি ওয়ার্ডে অসহায় ১৫ হাজার মানুষকে একবেলা করে রান্না করা খাবার দিয়েছেন। ১২ হাজার গরিব পরিবারকে পাঁচ কেজি করে চাল ও তরকারি দিয়েছেন। ২০০ বেদে পরিবারের এক সপ্তাহের খাবার দেওয়ার পাশাপাশি হিজড়া সম্প্রদায়ের ৫৫ জনকে চাল দিয়েছেন। এক হাজার ২০০ পিপিই ও হ্যান্ড গ্লাভস তৈরি করে চিকিত্সক, পুলিশ, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তাদের মাঝে বিতরণ করেছেন আব্দুল মান্নান। আট হাজার ছাত্রছাত্রীর মাঝে বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ করেছেন। শুভসংঘের মাধ্যমে ‘স্কুলের সোনামণিরা হাসো’ নামক কার্যক্রমে ৯ লাখ টাকার উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন। নতুন করে তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে হ্যান্ড সোপ তৈরি করে বগুড়ার ৫০ হাজার মানুষের মাঝে বিনা মূল্যে বিতরণ করা।

নাহারুল ইসলাম

ব্যবসায়ী, বগুড়া

নাহারুল ইসলাম বগুড়া শুভসংঘের উপদেষ্টা। করোনার এই দুর্যোগময় মুহূর্তে তিনি সারা রাত জেগে অভাবী মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবারের প্যাকেট পৌঁছে দিয়েছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষকে এই উপহার পৌঁছে দেন তিনি। অসহায় শিশুদের উপহার দিতে নিজের শখের গাড়িটিই বিক্রি করে দিয়েছেন নাহারুল। গাড়ি বিক্রির সাড়ে ৯ লাখ টাকা দিয়ে শুভসংঘের মাধ্যমে শিশুদের ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছেন।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ

চেয়ারম্যান, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি

মে মাসের মাঝামাঝি আমিও করোনা অক্রান্ত হই। শত সংশয়, ভয় আমাকেও গ্রাস করেছিল। অসুস্থতার চেয়েও কয়েক শ গুণ মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল আমার নিজের ওপর। পরিকল্পনামাফিক ঘরে থেকেই চিকিত্সা নিতে নিতে বুঝি, করোনাকে জয় করতে গেলে প্রয়োজন দৃঢ় মানসিকতা। একই সঙ্গে চিকিত্সকদের পরামর্শ নিতে থাকি। অনেকটা বিনা যুদ্ধেই আমি করোনাকে জয় করতে সক্ষম হই। সবার কাছে আমার অনুরোধ করোনায় ভীত হবেন না। মানসিক সাহস রাখুন। আক্রান্ত হলে ভয় নয়, আত্মশক্তি অটুট রাখুন। এই সময়েও আমি মানুষের পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছি। অসহায়দের খোঁজ নিয়ে তাদের পাশে থাকার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা