kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

শুভসংঘের প্রথম জাতীয় সম্মেলন

আলোকিত মানুষ হয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আলোকিত মানুষ হয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়

শুভসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা শাখাওয়াত হোসেন মামুন ও বন্ধুদের নিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন

সারা দেশ  থেকে আগত শুভসংঘের চার শ বন্ধুকে নিয়ে সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে শুভসংঘের প্রথম জাতীয় সম্মেলন। সোহেল রানা স্বপ্নর সহযোগিতায় দুই দিনের এই সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন জহিরুল ইসলাম সম্পাদনা করেছেন জাকারিয়া জামান। ছবি তুলেছেন লুৎফর রহমানভিজ্যুয়াল ফটোগ্রাফি                

 

‘মাথায় কিছুটা পাগলামি না থাকলে পৃথিবীতে কেউ কোনো ভালো কাজ করতে পারে না। শুভসংঘ বিশ্বাস করে আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকতে, স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে। স্বপ্নবান মানুষরা কখনো পরাজিত হয় না; বরং সবার চেয়ে এগিয়ে থাকে। তুমি স্বপ্ন দেখবে, তোমার কাজটা করবে, তবেই বড় হয়ে উঠবে। তুমি আলোকিত মানুষ হয়ে উঠবে। আমরা তোমাদের কাজের মধ্য দিয়ে সমাজটাকে বদলে দিতে চাই, সবার মাঝে দেশপ্রেমটা তৈরি করে দিতে চাই। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই, এমন একটি সমাজ তৈরি করতে চাই, এমন মানুষ তৈরি করতে চাই, যে মানুষগুলো প্রত্যেকেই একেকটি আলোকবর্তিকা হবে, যার আলোয় দেশ ও সমাজ আলোকিত হবে—দেশের ৬০টি জেলা থেকে আগত প্রায় ৪০০ জন শুভার্থী বন্ধুদের উদ্দেশে কথাগুলো বলছিলেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। গত ৫ ও ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শুভসংঘের ১ম জাতীয় সম্মেলন। সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনে চলা দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ছিল উৎসবের আমেজ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শুভসংঘের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন মামুন, রাইসুল উদ্দিন সৈকত, মাহবুবুর রহমান মনিরসহ কালের কণ্ঠর ব্যুরো প্রধান ও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার প্রতিবেদকগণ।

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় বিস্তৃত শুভসংঘের বন্ধুরা শুরুর দিন শুক্রবার ভোর থেকেই আসতে থাকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনে। সূর্যের আলো যতই প্রখর হচ্ছিল, শুভ কাজের ফেরিওয়ালাদের উপস্থিতিও তত বাড়ছিল। উজ্জ্বল হচ্ছিল পিএইচএ প্রাঙ্গণ। নিজেদের মধ্যে পরিচিতি পর্ব দিয়ে শুরু হওয়া পরিবেশ রূপ নেয় জমজমাট আড্ডায়। এ যেন অনেক দিনের পরিচয়। হবেই বা না কেন? এই মানুষগুলোই তো দেশের আনাচে-কানাচে দেশ ও সমাজ পরিবর্তনের কাজ করে চলেছে। ‘শুভ কাজে সবার পাশে’ স্লোগান নিয়ে দূরে থেকেও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। অবস্থান ভিন্ন হলেও শুভ চিন্তার নৈকট্যের কারণেই হয়তো ভালোবাসার শক্তির এত বিস্তর। কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে শুভসংঘের ১ম জাতীয় সম্মেলনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন আগত শুভসংঘের সদস্যরা।

৫ এপ্রিল বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। তিনি বলেন, এখানে সারা দেশ থেকে যে তিন-চার শ বন্ধু উপস্থিত হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই যেন একটি আলোকবর্তিকার মতো তৈরি হয়।

দুটি দিন যে কিভাবে স্বপ্নের মতো কেটে গেল, তা আসলে বলে বিশ্বাস করানো যাবে না। অনুষ্ঠানের শেষ দিনে এমনই জানালেন শুভসংঘের বন্ধুরা। শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘শুভসংঘের মাধ্যমে দেশে আমূল পরিবর্তনের সূচনা হবে। আমি বিশ্বাস করি উপস্থিত এই মুখগুলো সেটা করতে সক্ষম। সবাইকে অনুরোধ করব ভালো কর্মী এবং একজন ভালো শিক্ষার্থী হবেন। আমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, তাই আমাদের দ্বারা সংগঠন যাতে কখনো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। যত দিন আছি সংগঠনের কোনো ধরনের দুর্নাম হতে দেব না। স্বপ্নবান মানুষ সত্যিকার অর্থেই এগিয়ে যায়। আমরা যে জায়গায় আছি, শুভসংঘের মাধ্যমে কাজ করে যাব।’ সম্মেলনে শুভসংঘের অভিভাবকরা যেমন নিজেদের কথা বলেছেন, তেমনি কথা বলেছেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সদস্যরা। তাঁরা শুনেছেন, শুনিয়েছেন নিজেদের স্বপ্নের কথা। তেঁতুলিয়া থেকে আগত শুভসংঘের বন্ধু রবিউল ইসলাম বলেন, ‘নিজের গ্রামে এবং এর আশপাশের অবস্থা দেখে ভালো কাজ করতে ইচ্ছা করত। কিন্তু একার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব ছিল না। শুভসংঘের সঙ্গে জড়িয়ে কাজ শুরু করি। অনেক দিন কাজ করলাম। কিন্তু কাদের সঙ্গে মিলে এই কাজগুলো করছি, সেই মানুষগুলোকে দেখা হয়নি। এবার সেই মানুষগুলোকে দেখে অনেক ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে আগে যে কাজ করতাম তার চেয়ে অনেক বেশি গতি নিয়ে যাচ্ছি।’ গাজীপুর শুভসংঘের বন্ধু জান্নাত বলেন, ‘এই দুটি দিন কখনো ভুলতে পারব না। কোনো বিষয় খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েও যে এত মজা করা যায়, সেটা সম্মেলনে না এলে বুঝতে পারতাম না। আমরা অনেক মজা করেছি। কিন্তু মূল জায়গা থেকে সরে যাইনি। সবাই সাংগঠনিক আলোচনা গুরুত্বের সঙ্গে করেছে।’

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা সালমা খানম জেনি বলেন, ‘এখানে এসে অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। সবার সঙ্গে ছবি তুলেছি। সব কিছু মিলে ভালো লেগেছে যা আগামী দিনের শুভসংঘের চলার পথে অনুপ্রেরণা দেবে।’ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা শুভসংঘের সদস্য এ এইচ এম রায়হান বলেন, ‘এখানে উপস্থিত হয়ে অনেক আনন্দিত। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এই সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছে। সবার সঙ্গে অনেক মজা করেছি।’

দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের ছিল গানের আসর, খেলাধুলা, শুভসংঘের বন্ধুদের অভিজ্ঞতা শেয়ার, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রংপুর শুভসংঘের ছোট্ট বন্ধু শাকিলা জামান বলেন, ‘বড়দের সঙ্গে ভালো কাজ করতে পারি বলে আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি। ভালো কাজ করতে থাকলে অনেক দিন করতে পারবে। আসলে বড়-ছোট সবারই নিজেদের জন্য কিছু করা উচিত।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা