kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

গায়েহলুদ

গায়েহলুদের নানা ঢং

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



গায়েহলুদের নানা ঢং

ছবি : অভিজিৎ নন্দী

বিয়ের বিশেষ পর্ব গায়েহলুদ। একে ভিন্ন মাত্রা দিতে দুই পক্ষের কেউ-ই কম যান না। বিডি ওয়েডিংয়ের প্ল্যানিং হেড ও চিফ ফটোগ্রাফার মাইনুর হোসেন নিহাদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন আতিফ আতাউর

একসময় চল ছিল গায়েহলুদের পর কনে ঘরের বাইরে যেতে পারবে না। সে চল ভেঙে এখন ঘর থেকে ছাদ, খোলা মাঠ বা কখনো কখনো দূরের কনভেনশন সেন্টার কিংবা রিসোর্টে আয়োজন হচ্ছে গায়েহলুদ। কখনো কখনো বিয়ে এবং বিয়ে-পরবর্তী অভ্যর্থনার চেয়ে উৎসবে-আমেজে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে গায়েহলুদ। আয়োজনের দিক থেকেও হয় বৈচিত্র্যময়। গায়েহলুদ ঘিরে নাচ-গানের আয়োজন না থাকলে কি চলে। বর কিংবা কনের পরিবারের সদস্য এবং কাছের আত্মীয়রা মিলে নাচ-গানে মেতে ওঠেন হলুদে। ভাই কিংবা বোনের বিয়েতে নাচ-গানের শখ তারা গায়েহলুদের দিন মিটিয়ে নেন। যাঁরা নাচ জানেন না তাঁরাও শুধু এই দিনটি ঘিরে নাচ শেখেন। এ জন্য আপনি চাইলে ইভেন্ট প্ল্যানারস থেকেও কোরিওগ্রাফারের সাহায্য নিতে পারেন। তারাই আপনাকে পছন্দের গানে নাচ শিখিয়ে দেবে। তবে এ জন্য একটু আগেভাগেই কাজ শুরু করা উচিত। তাহলে হলুদের দিন নাচ-গানে ভালো করতে পারবেন।

হলুদের দিন সবার একই ধরনের পোশাক পরার রেওয়াজ। যেহেতু গায়েহলুদ এ জন্য এত দিন হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবিতেই সাজতেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। কিন্তু এখন সেই চলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো নানা রঙের পোশাক। হলুদের পাশাপাশি সবুজ, নীল, গোলাপি, বেগুনিসহ অন্যান্য রঙের পোশাকেও গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন কেউ কেউ।

বিয়ের দিন একই ধরনের খাবারের প্রাধান্য থাকলেও হলুদের দিন তা একেবারেই উল্টো। এদিন ফুচকা, কফি, ঝালমুড়ি, চিতই, ভাপা পিঠা, চকোলেট, ক্যান্ডি ফ্লস, পপকর্নের মতো খাবারের আয়োজন থাকে। গায়েহলুদের আয়োজনকে ভিন্ন মাত্রা দিতে এর সঙ্গে থাকে লাইটিং, স্টেজ সাজানোর বিষয়। এখন অনেকেই বাসার ছাদে রাতব্যাপী গায়েহলুদের আয়োজন করেন। সেখানে নাচ-গানের বিষয়টি আবশ্যিকভাবেই যুক্ত। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার আনন্দ যেন অন্যদের বিরক্তির কারণ না হয়। আবাসিক এলাকায় ছাদে রাতব্যাপী আয়োজন হলে নিকটস্থ থানা-পুলিশের কাছ থেকে আগেই অনুমতি নিয়ে রাখুন। যতটা কম সম্ভব আশপাশের মানুষের বিরক্তি কম হয় সে চেষ্টা করাটাও কিন্তু আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। এখন বর-কনের একসঙ্গে গায়েহলুদের চল বেশ জনপ্রিয়। এতে দুই পক্ষের সবচেয়ে কাছের আত্মীয়রা হাজির হন। এতে বিয়ের অনুষ্ঠানের আগেই দুই পক্ষের আত্মীয়দের মধ্যে পরিচয় এবং সুন্দর বোঝাপড়া হয়ে যায়। এ জন্য সাধারণত কোনো হোটেল বা কনভেনশন সেন্টারই সবচেয়ে ভালো। তবে কেউ কেউ নিকটস্থ রিসোর্টেও সেরে ফেলছেন গায়েহলুদ পর্ব। কারণ ঢাকার আশপাশেই এখন এ জন্য বেশ কিছু ভালো রিসোর্ট পাওয়া যায়। এতে আয়োজন হয় আরো জাঁকজমকপূর্ণ। হলুদে গানের সঙ্গে নাচ চাই কিন্তু নৃত্যশিল্পীর অভাব। অসুবিধা নেই। আপনাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য ইভেন্ট প্ল্যানারসদের কাছ থেকেই পাবেন দক্ষ কোরিওগ্রাফারসহ চৌকস নৃত্যশিল্পী। তাদের যদি পরিবার বা আত্মীয় হিসেবেই হলুদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেখাতে চান সেটাও পারবেন। এ ক্ষেত্রে আপনারা যেমন পোশাক পরবেন তেমন পোশাকেই তাদের সাজিয়ে দিন। এখন অনেকেই হলুদে এই সুযোগ নিচ্ছেন। এক পক্ষ নাচ-গান হৈ-হুল্লোড়ে আরেক পক্ষকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে বলে আয়োজনটা হয়ে ওঠে আরো জাঁকজমকপূর্ণ। রিসোর্টে অনেক সময় দিনব্যাপী হলুদের আয়োজন হচ্ছে। দুই পক্ষের বর-কনে এবং অতিথি মিলে পর্বটা হয়ে যাচ্ছে পিকনিকের মতো।

সকালে রিসোর্টে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে হালকা স্ন্যাকস এবং ড্রিংকসের মাধ্যমে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। দুপুরে লাঞ্চ শেষে শুরু হয় হলুদ পর্ব। সন্ধ্যায় হলুদ পর্ব শেষে কিছু অতিথি চাইলে বাসায় ফিরতে পারেন। আবার নিকটাত্মীয়রা রিসোর্টেই থেকে যান। হলুদের পর তারা মেহেদি নাইট উদ্‌যাপন করে। রাতভর নাচ-গানে মেতে উঠছে। পরদিন সকালে আবার হোলি উৎসব অর্থাৎ রং খেলায় মেতে উঠছে। এই তিনটা পর্ব জয়েন্ট হলুদেই সবচেয়ে বেশি আয়োজন হয়। কেউ কেউ সকালে গিয়ে হোলি শেষে দুপুরে গোসল সেরে নিচ্ছেন। এরপর লাঞ্চ শেষে একটু বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় হলুদ পর্বে অংশ নেন।

আবার চাইলে বরপক্ষ এবং কনেপক্ষ আলাদাভাবেও হলুদ পর্ব সারতে পারে। এ ক্ষেত্রে বরপক্ষ আগে এবং কনেপক্ষ পরে হলুদের আয়োজন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে বর ছাড়া বরপক্ষের কিছু অতিথি কনের হলুদ, পোশাক, ফলমূলের ডালা ও মিষ্টি নিয়ে কনের বাড়িতে হাজির হয়। নাচ-গান ও আনন্দ করে। পরদিন কনেপক্ষ কনে ছাড়া একইভাবে বরের বাড়িতে হাজির হয়। তবে ইদানীং বর-কনেকে নিয়ে জয়েন্ট হলুদই বেশি জনপ্রিয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা