kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রথার বাইরে

প্রথা ভাঙা কনে সাজ

ভিন্ন ঢঙে সেজে অনেক কনেই এখন চমকে দিচ্ছেন। সাজ নিয়ে নানা এক্সপেরিমেন্টও করছেন কনেরা। লিখেছেন আতিফ আতাউর

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রথা ভাঙা কনে সাজ

বিয়ের চিরায়ত সাজ থেকে বের হয়ে আসছেন কনেরা। বেশ কয়েক বছর ধরে শুরু হয়েছে এই প্রবণতা। বিয়েতে লাল বেনারশি শাড়ি আর সোনার গয়নায় সাজার যে রেওয়াজ, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে নানা ঢং। কনেরা চাইছেন তাঁকে লাগুক সবার থেকে আলাদা। কেউ কেউ ভারী মেকআপের আড়ালে নিজস্বতা হারাতেও রাজি নন। এ জন্য নিজের ত্বকের রং ঠিক রেখেই নিচ্ছেন কনের লুক। গয়না, পোশাক, মেকআপ নিয়েও এক্সপেরিমেন্ট করছেন কনেরা। পারসোনার পরিচালক নুজহাত খান দিশা বলেন, ‘আগে একটা ধারণা ছিল কনের মেকআপ মানে সাদা কিংবা ফরসা হতেই হবে। এই ধারণা থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছেন কনেরা। ইদানীং কনেরাও নিজের ত্বক, লুক এবং চেহারার সঙ্গে মিল রেখে মেকআপ করতে পছন্দ করেন। শুধু ত্বকে ফ্লস কভার করে সতেজ লুকিংয়ের স্কিন মেকআপ বেছে নেন। তা ছাড়া সাজের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা আনতে পোশাক, গয়নায়ও বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করেন।’ 

দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের ছবি তুলছেন আলোকচিত্রী অভিজিৎ নন্দী। বিয়ের ভিন্ন ঢঙের ছবি তুলে আলোচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কনেদের সাজের এক্সপেরিমেন্টের ক্ষেত্রে ফটোগ্রাফি এবং সিনেমাটোগ্রাফির একটা ভূমিকা আছে। এখন বিয়ের দিনটাই কনের শেষ দিন নয়। ছবি ও ভিডিওর বদৌলতে সাজটা চিরদিনের জন্য থেকে যাচ্ছে। এ জন্যই কনেরা চাইছেন ভিন্ন ঢঙে সাজতে। সাধারণত লাল শাড়ি পরেই মেয়েরা কনে সাজেন। কিন্তু আমি কালো পোশাক পরেও মেয়েদের কনে সাজতে দেখেছি। কালো পোশাক কিন্তু বাঙালিদের ট্র্যাডিশনাল বিয়ের সাজের সঙ্গে একেবারে যায় না, তবুও তিনি পরেছেন। এ রকম আরো উদাহরণ আছে।’

বিয়েতে জামদানি পরা তো পুরনোই হয়ে গেছে বলা যায়। আবার সোনার গয়নার জায়গা নিচ্ছে রুপার গয়না। কেউ কেউ তো একধাপ এগিয়ে শুধু ফুলের গয়নাতেও সাজিয়ে নিচ্ছেন নিজেকে।

অভিজিৎ বলেন, ‘প্রথম যেদিন বিয়ের ছবি তুলতে যাই, দেখি কনে রুপার গয়না পরা। দেখে চমকে গিয়েছিলাম। এর আগে সব কনেকে সোনার গয়নাই পরতে দেখেছি। এরপর আরেকজন কনেকে দেখেছি কালো রঙের জামদানিতে সাজতে। ছবি তোলার সময় বিয়েতে আসা অতিথিদেরও দেখেছি কনেদের এমন সাজে তাঁরাও চমকে গিয়েছেন। প্রচলিত রেওয়াজ ভাঙার জন্য কনেদের প্রশংসাও করছেন।’


মডেল : পল্লবী; পোশাক গয়না : ঢং বুটিক; মেকওভার : পারসোনা, ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ


কনেদের সাজের এই এক্সপেরিমেন্টে প্রেরণা জোগাচ্ছেন দেশি-বিদেশি ডিজাইনাররা। ভারতের সব্যসাচী থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের আরো অনেক ডিজাইনারের করা পোশাক সম্পর্কে জানতে পারছেন তরুণীরা। ফলে তাঁরাও আগে থেকেই পরিকল্পনা করছেন সাজ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে। অনেক সময় পছন্দের পোশাকের ডিজাইন করা ছবি নিয়ে দরজি দোকানে যাচ্ছেন। কেউ কেউ সোনারগাঁ গিয়ে নির্দিষ্ট নকশা দেখিয়ে অর্ডার করে শাড়ি বানিয়ে নিচ্ছেন। রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, ‘এখন কনেরা আগের মতো অভিভাবকের পছন্দের পোশাক কিংবা গয়নায় সাজেন না। তাঁরা নিজেরাই পোশাক ও গয়না বেছে নিচ্ছেন।’

সিক্স ইয়াডর্স স্টোরি, গ্লুড টুগেদারের মতো শুধু গয়না নিয়ে কাজ করা আলাদা দোকানগুলোও সাজ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে প্রেরণা জোগাচ্ছে। বিয়েতে রুপার গয়নায় কনে সেজেছিলেন জিমানা আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমার ত্বক ডার্ক। এ জন্য চেয়েছিলাম রুপার গয়নায় সাজতে। উদ্দেশ্য ছিল আমি যেমনটি দেখতে, ঠিক তেমনই যেন দেখতে লাগে। মেকআপ আর্টিস্টকে বলেছিলাম, আমার ত্বকের ডার্ক টোন যেন নষ্ট না হয়। রুপার গয়নার সঙ্গে সাজের যেন মিল হয় এ জন্য শাড়ির পাড়, আঁচল এবং ব্লাউজ রুপার রঙে বেছেছিলাম। পছন্দের শাড়ি খুঁজে না পাওয়ায় বেনারশি পল্লী থেকে অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নিয়েছিলাম।  সবাই আমার সাজ পছন্দ করেছিলেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা