kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

হবিগঞ্জে বাঁধ মেরামতে দুই কোটি টাকা

ঠিকাদার সময়মতো কাজ করছেন না

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হবিগঞ্জের খোয়াইসহ বিভিন্ন নদ-নদীর বাঁধ সংস্কারের জন্য দুই কোটি চার লাখ ৬৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কিন্তু বরাদ্দ এলেও গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থানে এখনো কাজ শুরু করেননি ঠিকাদার। এতে করে হুমকিতে রয়েছে খোয়াই ও করাঙ্গী নদী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাউবো মৌলভীবাজার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুস শহীদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে খোয়াই, করাঙ্গী এবং সোনাই নদীর বাঁধ মেরামতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দের টাকায় বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভাঙার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবে এলাকাবাসী। বিশেষ করে হবিগঞ্জ শহরঘেঁষা খোয়াই নদের বাঁধ সংস্কারে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাহুবলের করাঙ্গী নদী ও মাধবপুরের সোনাই নদীর বাঁধ সংস্কারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হবিগঞ্জ শহরের পাশে ক্ষতিগ্রস্ত খোয়াই নদের বাঁধ সংস্কারের কাজে আগ্রহ নেই ঠিকাদারের। ফলে দুই সপ্তাহ ধরে অরক্ষিত রয়েছে এই বাঁধ। আবার যদি খোয়াই নদে পানি বাড়ে, তাহলে সেখানে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারের জন্য প্রথমে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহেব আলীকে। তিনি কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সাহেব আলী কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করলে পরবর্তী সময় দায়িত্ব দেওয়া হয় হবিগঞ্জ সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক শেখ সেবুল আহমেদকে। তিনি এখনো কাজ শুরু করেননি। তিনি বলেন, ‘সব ঠিকাদার এই কাজ করতে না চাইলেও আমি মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে কাজটি করব।’

এদিকে বাহুবল উপজেলার করাঙ্গী নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়নি। পরে স্থানীয় মেম্বারকে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কাজ শুরুর বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে এখলাছুর রহমান ফোন ধরেননি।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম জানান, শুধু খোয়াই নদের মাছুলিয়া অংশ এবং করাঙ্গী নদীতে সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। অন্য ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। এ দুটি স্থানেও দ্রুত কাজ শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

হবিগঞ্জের বিভিন্ন নদীর বাঁধ বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ জানান, বিভিন্ন স্থানে নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারকাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় সে জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা