kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

মৌলভীবাজারের ১৯টি সিলিকা বালুমহালের ইজারা অবৈধ

হাইকোর্টের নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদন, মৌলভীবাজার   

৪ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মৌলভীবাজারের ছয়টি উপজেলার ১৯টি সিলিকা বালুমহালের ইজারা অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ও পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ ছাড়া কোনো সিলিকা বালুমহাল ইজারা দেওয়া যাবে না মর্মে নির্দেশনাও দিয়েছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা জনস্বার্থমূলক মামলার শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ এ রায় দেন।

মৌলভীবাজার জেলার ৫১টি পাহাড়ি ছড়া সিলিকা বালুসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মধ্যে ১৯টিকে অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। এর আগে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) করা হয়নি এবং ইজারাগ্রহীতা পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) জমা দেননি। খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২-এর বিধান মতে, সিলিকা বালু একটি খনিজসম্পদ এবং কোনো খনিজসম্পদ উত্তোলন বা আহরণের আগে পরিবেশ সংরক্ষণের বিধি-বিধান অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী এটি লাল শ্রেণিভুক্ত বলে ইজারা দেওয়ার আগে এর ছাড়পত্র গ্রহণ ও পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করে এলাকাটি ইজারা দেয়। ইজারাগ্রহীতাদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনিভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও বড়লেখা উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যয় ঘটে।

মামলার বিবাদীরা হলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব; পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব; পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (সিলেট);  মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও বড়লেখা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা এবং ছড়াগুলো থেকে বালু উত্তোলনের জন্য চুক্তিবদ্ধ ইজারাগ্রহীতারা। বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর।

 

মন্তব্য