kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

জামালগঞ্জ

কৃষকের কাছ থেকে এখনো ধান কেনা শুরু হয়নি

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

২৭ জুন, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয় গত ২৬ মার্চ। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এই কার্যক্রমের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এখনো কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু হয়নি। শুরু হয়নি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমও। বাধ্য হয়ে কৃষকরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে কম মূল্যে ধান বিক্রি করছে। এ অবস্থায় লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, তা নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় আছে কৃষকরা।

ফেরানগর গ্রামের কৃষক উস্তার আলী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘ঈদের ১০-১২ দিন আগে ৫০ মণ শুকনা ধান সরকারি মূল্যে খাদ্যগুদামে দেওয়ার জন্য ধানের স্যাম্পল নিয়ে পর পর দুই দিন গুদাম কর্মকর্তার কাছে গিয়ে ঘুরে এসেছি। গুদাম কর্মকর্তা আমাকে কিছুদিন পর গিয়ে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। পরে আমি নিরুপায় হয়ে প্রতি মণ ধান ৭২০ টাকা দরে স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে ঈদের কেনাকাটাসহ সংসারের কাজে লাগিয়েছি।’

লালপুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘সরকারি গুদামে ধান দেওয়ার ভাগ্য আমরার মতো সাধারণ কৃষেকের কোনো দিনই অইব না। গোদামেতো ধান ঢুকাইবো বড় বড় লোকেরা।’

গত বছর আগাম বন্যায় ফসলহানির ঘটনায় হাওরাঞ্চলের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সরকার এ বছর কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি তাঁদের উৎপাদিত প্রতি মণ বোরো ধান এক হাজার ৪০ টাকা দরে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ মেট্রিক টন। এ জন্য উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।  উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।’ উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি, ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান বলেন, ‘উদ্বোধনের পর থেকে আর কোনো ধান সংগ্রহ করা হয়নি—এটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

 

মন্তব্য