kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

দলের চোখ রাঙানি ইসির অভয়

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দলের চোখ রাঙানি ইসির অভয়

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘বিদ্রোহী’ হবেন কিনা সেটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটছে না চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (চসিক) সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাতের সময় ঢাকায় গণভবনে ঢোকার মুখে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ফরমে স্বাক্ষর নেওয়ার কারণে নির্বাচনে প্রার্থিতা টিকে থাকবে কিনা সেটা নিয়ে সংশয়ে আছেন তাঁরা। এর পাশাপাশি মাথায় আছে দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি। তবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বক্তব্যে কিছুটা আশ্বস্ত হতে পারে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে ইচ্ছুক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা। কারণ নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতার বিষয়টি বিবেচনা করবে না বলে জানিয়েছে।

চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে ৪১টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন নেওয়া ৪৪১ জনের মধ্যে জমা দিয়েছেন ২২০ জন। আর ১৪টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ৭৯ জন। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচনী মাঠে আছেন ৫৮ জন। উভয় পদে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আছেন অন্তত: ৫০ জন। এই ‘বিদ্রোহী’ তালিকায় আছেন ১১ জন বর্তমান কাউন্সিলর।

দলের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও অনেক প্রার্থী মনোনয়নপত্র টিকে থাকবে কিনা সেটা নিয়ে শঙ্কায় আছেন। কারণ দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনী কাউন্সিলের কাছে ঢাকায় সাক্ষাত দিতে গেলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সবার কাছ থেকে আগেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ফরমে স্বাক্ষর নিয়ে নেওয়া হয়েছে। যাতে কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হতে চাইলে মনোনয়ন প্রত্যাহার ফরম দাখিল করে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা যায়।

বর্তমান কাউন্সিলর তবে দলীয় সমর্থন না পাওয়া আওয়ামী লীগের এক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও আমরা নিশ্চিত নই, আমাদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর নেওয়া প্রত্যাহার ফরমের কার্যকারিতা আছে কিনা। এটা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা শুনে আসলেই দ্বিধায় আছি।’ যদিও মনোনয়ন ফরমের কোথাও কোন দলের প্রার্থী সেটা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে উল্লেখ থাকে না বলে তিনি জানান।

তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের বক্তব্য ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের কিছুটা হলেও আশ্বস্ত করবে। এ প্রসঙ্গে গতকাল কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘প্রথমত এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এখানে মেয়র পদ ছাড়া অন্য পদগুলোতে দলীয় বিবেচনার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক দল কিংবা অন্য মাধ্যমে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন এলেও সেটা গ্রহণ করার আগে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলব। তিনি সজ্ঞানে, সুস্থ শরীরে কিংবা কারও প্ররোচনায় বাধ্য হয়ে প্রত্যাহার করছেন কিনা। তিনি না আসতে পারলে প্রয়োজনে ফোন করে হলেও তাঁর মতামত নেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা