kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

ভোটারপ্রতি মেয়র প্রার্থীর খরচ ১ টাকা ৬৪ পয়সা!

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোটারপ্রতি মেয়র প্রার্থীর খরচ ১ টাকা ৬৪ পয়সা!

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে এবার মোট ভোটার ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৮ জন। প্রায় ১৬১ বর্গ কিলোমিটার এই সিটি করপোরেশনের বিপুল ভোটারের কাছে ভোটের বার্তা পৌঁছাতে একেকজন মেয়র প্রার্থী সর্বোচ্চ ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করতে পারবেন। এর মধ্যে নির্বাচনী ব্যয় ৩০ লাখ টাকা এবং ব্যক্তিগত ব্যয়ের সীমা দেড় লাখ টাকা। সেই হিসাবে নিজেদের প্রচারণার বার্তা পৌঁছাতে ভোটার প্রতি মেয়রদের খরচের সীমা নির্ধারিত হয়েছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই ব্যয়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এর চেয়ে কম খরচ করলে সমস্যা নেই, তবে দৃশ্যমান খরচ বেশি করে ফেললেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনী বিধিমালা ভঙ্গের অপরাধে শাস্তির মুখোমুখি হবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে চট্টগ্রাম সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় চসিক নির্বাচন ২০২০ উপলক্ষে খরচের হিসাব, ভোটারের সিডি ও জামানত সংক্রান্ত তথ্যবিবরণী প্রকাশ করেছে। এতে মেয়রদের জন্য জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ভোটারদের তালিকা সংবলিত সিডির জন্য ২০ হাজার ৫০০ টাকা যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে রিটার্নিং অফিসার বরাবর পে-অর্ডার কিংবা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। গত চসিক নির্বাচনের চেয়ে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৫২৯ জন বাড়লেও এবার নির্বাচনী ব্যয়সীমা বাড়েনি। জামানতও নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনের মতো।

এ ছাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলররা ভোটার সংখ্যা অনুপাতে নির্বাচনী ব্যয় করবেন। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ অনুযায়ী, ১৫ হাজার ভোটার এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলররা ১ লাখ ১০ হাজার, সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ভোটার এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থীরা দুই লাখ ২০ হাজার এবং অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার ভোটার এলাকার কাউন্সিলরদের নির্বাচনী ব্যয়সীমা ৪ লাখ ৩০ হাজার। আর ৫০ হাজারের বেশি যেসব ওয়ার্ডে ভোটার আছে সে এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থীরা সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয় করতে পারবেন।

তবে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ও নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎসর বিবরণী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদের দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া নির্বাচনের পর গেজেটে প্রকাশের এক মাসের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন হলফনামাসহ দাখিল করতে হবে।

নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানান, প্রার্থী নিজে কিংবা তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের নামে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে সেই অ্যাকাউন্ট থেকে নির্বাচনী ব্যয় করবে। সেই অ্যাকাউন্ট নম্বর আগেই রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়ে দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামরুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচিত আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীর নাম-ঠিকানা সরকারি গেজেটে প্রকাশের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন নির্ধারিত ফরমে হলফনামাসহ রিটার্নিং অফিসারের নিকট জমা দিতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে লাগবে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষর : মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য এবার ৩০০ ভোটারের জাতীয়পত্রের নম্বরসহ স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে জমা দেওয়া এসব ভোটারের স্বাক্ষর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করা হবে। কোনো তথ্য ভুল থাকলে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে। তবে স্বতন্ত্র পদে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা