kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান

হকার-পুলিশের ‘ইঁদুর-বিড়াল’ খেলা

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হকার-পুলিশের ‘ইঁদুর-বিড়াল’ খেলা

নগরের মুরাদপুর এলাকায় মঙ্গলবার পুলিশের অভিযানের পর দখলমুক্ত ফুটপাত (বাঁয়ে)। মাত্র একদিন পর গতকাল সেই ফুটপাতে ফের বসে দোকানপাট । ছবি : রবি শংকর

নগরের মুরাদপুর এলাকা। ব্যস্ততম এই এলাকায় সড়ক পারাপার হতে সিটি করপোরেশন একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে। নির্মাণের পরপরই এটি চলে যায় হকার ও ভিক্ষুকের দখলে। পথচারীর জন্য জায়গা অবশিষ্ট থাকে সামান্য। ফুটওভার ব্রিজ থেকে নেমেই অটোরিকশা-টেম্পোস্ট্যান্ড। সেখানে চলে নানা হাঁকডাক। পাঁচলাইশের দিকে আরেকটু সামনে এগোলোই মির্জাপুল। সড়কের দুপাশের ফুটপাত দখল ভ্যান চালক ও সাধারণ দোকানদারদের নানা পণ্যের পসরা। বিক্রি চলছে দেদারসে। ফলাফল তীব্র যানজট।

নগরের এমন চিত্র নিত্যদিনের। নগরবাসীও যেন অভ্যস্ত এসবে। কিন্তু বিপত্তি দেখা দিয়েছে পুলিশের অভিযানে। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করে যাওয়া ব্যক্তিদের মালামালসহ সরিয়ে দেওয়া এবং ফুটওভারব্রিজ থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়। তিন দিন আগে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের পর দেখা গেল নতুন করে আবারও দখল। সেই পুরনো হকাররা ফিরেছেন সদর্পে।

এমন বাস্তবতায় নতুন করে আবারও অভিযান চালায় পুলিশ। পুনরায় সরিয়ে দেওয়া হয় হকারদের। কিন্তু এটাও যেন স্থায়ী হচ্ছে না। তৃতীয় দফায় ফিরে আসার চেষ্টায় আছেন হকাররা। সঙ্গে ভিক্ষুকের দলও।

সরেজমিন দেখা গেছে, রিকশাভ্যানকে মিনি দোকানে পরিণত করে এক শ্রেণির হকার সড়ক দখল করে পণ্য বিক্রি করছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়ক এ ধরনের ভাসমান হকাররা দখল করার কারণে যানজট স্থায়ী রূপ পেয়েছে। এই নিয়ে নগরবাসীদের মনে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।

এমন অবস্থায় নগর ট্রাফিক পুলিশ এবং থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে। অবৈধ দখলদারদের ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করার বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কাশেম ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মুরাদপুর ফুটওভার ব্রিজের অধিকাংশ জায়গা দখল করে হকার পণ্যের পসরা সাজায়। সঙ্গে ভিক্ষুকরা বসে ভিক্ষা করেন। দুপাশে দখল হওয়ার পর মাঝখানের সরুপথে পথচারীদের হাঁটতে হয়। এতে পথচারীর কষ্ট বাড়ছে। আবার ভিড়ের মধ্যে কেউ কেউ নারী পথচারীর ব্যাগ টান দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায়, সেখানে অভিযান চালিয়ে হকার ও ভিক্ষুকদের সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দুইদিন না যেতেই পুনরায় বেদখল হয়ে যায়। তাই দ্বিতীয় দফা অভিযান চালিয়ে পুনরায় তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

দ্বিতীয় দফা অভিযানের সময় অনেক সাধারণ মানুষ বিরক্ত প্রকাশ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফুটপাত ও ফুটওভার ব্রিজে অনেক হকার ও ভিক্ষুক ছিলেন। এর পাশের টেম্পো স্ট্যান্ডটিও সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সাধারণ মানুষদের অনেকেই পুলিশের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেন। তাঁদের ভাষ্য, দরিদ্র হকার ও ভিক্ষুকদের সরিয়ে দিলে তাঁরা যাবেন কোথায়? আর টেম্পো স্ট্যান্ড সরিয়ে দিলে রিকশাভাড়া বেড়ে যাবে। এমন কটূক্তি করলেও পুলিশ সেই কাজ থেকে পিছু সরেনি। এখন অবৈধদখলমুক্ত আছে। ভবিষ্যতে পুনরায় দখলের চেষ্টা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একইভাবে নগর ট্রাফিক পুলিশ আলাদাভাবে অভিযান শুরু করে বছরের শুরু থেকে। ট্রাফিক পুলিশের উত্তর ও দক্ষিণ বিভাগ পৃথক অভিযান চালানোর সময়ই একই অবস্থা দেখা গেছে। ট্রাফিক পুলিশের টিম গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দেওয়ার পরপরই সেখানে নতুন করে বেদখল হচ্ছে। এ যেন ইঁদুর বিড়াল খেলা! পুলিশ কিংবা ট্রাফিক পুলিশ অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করবে, আর পুলিশ সরে গেলেই পুনরায় বেদখল হবে।

ট্রাফিক (উত্তর) বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নগরে যানজট বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত সড়ক নেই। এখন সড়ক দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা করা হকারদের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ট্রাফিক পুলিশ সড়ক থেকে অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দিচ্ছে। বেশ কিছু দিন ধরে এই কার্যক্রম চলছে। কিছু কিছু সড়কে পুনরায় অবৈধ দখলদাররা ফিরে আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশের ধারাবাহিক নজরদারির কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দৃশ্যমান উন্নতি ধরে রাখার স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের সড়ক দখলের সুযোগ দেওয়া হবে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যানজটমুক্ত রাখার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সাড়ে সাত শতাধিক রিকশাভ্যান জব্দ করে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব রিকশাভ্যানকে মিনি দোকান বানিয়ে সড়কে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বিক্রি করা হত। এ কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল। এখন পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নতি হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা