kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

বাবা হত্যার প্রতিশোধ নিতে ভাড়াটে দিয়ে খুন

রাঙ্গুনিয়ায় সন্ত্রাসী আইয়ুব হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মো. আইয়ুব। নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলে বাহিনীর প্রধান সেজেছিলেন তিনি। সিরিয়াল হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে প্রায় এক ডজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি হন। এর মধ্যে ১৯৮৫ সালে ওয়াদুদ হত্যা, ১৯৮৬ সালে মেহেরুজ্জামান হত্যা, ১৯৮৭ সালে আব্দুস সাত্তার তালুকদার ও ১৯৯১ সালে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোহবান হত্যাকাণ্ড ছিল আইয়ুবের শীর্ষ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

১৯৮৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল। মাঝখানে কেটে গেছে প্রায় ৩২ বছর। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর খুন হন শীর্ষ সন্ত্রাসী আইয়ুব। একাধিক হত্যা মামলার এই আসামির বয়স হয়েছিল প্রায় ৫৮ বছর। তাঁকে গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্ত পর্যায়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গ্রেপ্তার করে পাঁচ আসামিকে। ধৃত আসামিরা বিস্ময়কর জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হওয়ার পর জানা গেল, ৩২ বছর আগে আইয়ুব খুন করেছিলেন আবদুস সাত্তার তালুকদারকে। সেই আবদুস সাত্তারের দুই ছেলে ‘খুনি’ ভাড়া করে আইয়ুবকে হত্যা করিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইয়ুব বাহিনীর প্রধান খুন হওয়ার পর রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছিল। সাড়ে তিন মাস পরও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল্লাহ কায়সারের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইয়ে স্থানান্তরিত হয়। এরপর আমি তদন্তের দায়িত্ব পাই। তদন্তের শুরুতেই মামলার ডকেট বুঝে নিই। এরপর অভিযান শুরু করি। অভিযানকালে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে প্রকাশ পেয়েছে, ৩২ বছর আগে সংঘটিত পিতা হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেয় আবদুস সাত্তারের দুই ছেলে মহসিন ও হাছান। তাঁর বাবাকে জবাই করে হত্যা করেছিল আইয়ুব।’

গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামিরা হলেন আব্দুল আজিজ মানিক (২৪), মো. আজিম (২৪), আব্দুল জলিল (২৯), মো. রুবেল (২৮) ও মো. মহিন উদ্দিন (২৭)। গত শনিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত এই অভিযান চলে।

সোমবার আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরো কয়েকজন এখনো পলাতক আছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা