kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি

প্রার্থীদের ওপরই ভরসা ইসির

দুটি বেড়ে এবার ভোটকেন্দ্র ৭২১। মোট ভোটার ১৯ লাখ ১৮ হাজার

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রার্থীদের ওপরই ভরসা ইসির

মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান, রিটার্নিং কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের তফসিল ১৬ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা হলেও ২৯ মার্চ সম্ভাব্য তারিখ ধরে অনেক আগে থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়। ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের জন্য ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তার তালিকা চেয়ে বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কার্যালয় থেকে। নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে তাই ব্যস্ত সময় কাটছে সংশ্লিষ্টদের। তবে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির ব্যাপারে প্রার্থীদের ওপরই ভরসা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এদিকে গত রবিবার নির্বাচন পরিচালনায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং আরও ১৪ জনকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একজন মেয়রের পাশাপাশি ৪১ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর এবং ১৪ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে এবার ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৮ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮২ জন। আর নারী ভোটার সংখ্যা ৯ লাখ ৩১ হাজার ৯৯৬ জন। এই ভোটাররা ৭২১টি কেন্দ্রের ৪ হাজার ৯২৪টি বুথে ভোট দেবেন। এর বাইরে ৩টি অস্থায়ী কেন্দ্র ও ৪৫২টি অস্থায়ী বুথ থাকবে। তবে গত ২০ জানুয়ারি প্রকাশিত খসড়া তালিকায় থাকা ভোটারদের ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি নির্বাচন কমিশন থেকে। আগামী ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই চসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় নগরের প্রায় ৮৫ হাজার নতুন ভোটারের ভোটাধিকার অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার জারি করা গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। ১ মার্চ মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ৮ মার্চ। ৯ তারিখে প্রতীক বরাদ্দের পরেই প্রকাশ্য প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। এবার ইভিএম পদ্ধতিতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান ভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি ভালো। কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। এবার গতবারের চেয়ে দুটি ভোটকেন্দ্র বেড়েছে। ইসি থেকে ইতোমধ্যে ভোটারদের তালিকার সিডি চলে এসেছে। ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের তালিকাও সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

ইভিএমে ভোট হলেও সামপ্রতিক সময়ে বোয়ালখালী উপনির্বাচন ও ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ২৫ শতাংশের মধ্যে। চসিক নির্বাচনে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে নির্বাচন কমিশন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। ইসির কাজ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা। প্রার্থীরাই ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করবেন কেন্দ্রে আসতে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩ জন এবং নারী ভোটার ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৬৬৩ ভোট। ভোটের হার ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ। নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী হাতি প্রতীকের আ জ ম নাছির ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ মনজুর আলম কমলা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৮৩৭ ভোট।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় মেয়র পদে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়রসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থীর তত্পরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সরব হয়ে উঠেছেন নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। বেশি তত্পরতা দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। বিশেষ করে বর্তমান নগর ছাত্রলীগের কমিটির বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতাও প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তত্পর হয়ে উঠেছেন। এঁদের সঙ্গে আছেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারাও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা