kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

পাহাড় কেটে সিডিএর সড়ক নির্মাণ

এবার ঠিকাদারকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত সড়ক তৈরি করতে গিয়ে পাহাড় কাটার দায়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ঠিকাদার স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে পাঁচ কোটি ২৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর আগে ২৯ জানুয়ারি সড়ক তৈরির সময় পাহাড় কাটার দায়ে সিডিএকে ১০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এই নিয়ে সিডিএ এবং ঠিকাদার-দুইয়ে মিলে ১৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হল। পাহাড় কেটে এই সড়ক তৈরি করেছে সিডিএ। আর স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড সড়কের নির্মাণকারী ঠিকাদার।

নগরের যানজট কমানোর লক্ষ্যে সিডিএ এই প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর সম্প্রতি প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ করা হয়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে এই সড়ক চালুর কথা রয়েছে। পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণের বিষয়ে দীর্ঘদিন করে পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করে আসলেও বাস্তবে সিডিএ এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তা কর্ণপাত করেনি। আবার পরিবেশ অধিদপ্তরও দীর্ঘদিন ‘নির্ঘুম’ ছিল। মাটি কাটা ও জলাশয় ভরাট শেষে সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করে উদ্বোধন করার আগ মুহূর্তে পরিবেশ অধিদপ্তর দুই দফায় সিডিএ এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা জরিমানা করে জানান দিল, ‘প্রতিষ্ঠানটির ঘুম ভেঙেছে’।

‘ঘুম ভাঙার’ পর গত বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের পরিবেশ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনের কার্যালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে  প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। এতে তিনি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বক্তব্য দেন।

জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক জমির উদ্দিন জানিয়েছেন, সিডিএ বায়েজিদ বোস্তামী থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ দেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে। কার্যাদেশ দেওয়ার আগে সিডিএ যে পরিমাণ সড়ক যে ডিজাইনে কাটার কথা বলে অনুমোদন নিয়েছিল, পরবর্তীতে সেইভাবে কাজ করেনি সিডিএ এবং ঠিকাদার। অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত পাহাড় কাটার দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত পাহাড় কাটার বিষয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল সরেজমিন পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে পাহাড় কাটা এবং জলাধার ভরাটের প্রমাণ পাওয়া যায়। ইতোপূর্বে সড়ক নির্মাণের আগে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সিডিএ পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়েছিল। কিন্তু পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, অনুমোদিত অংশের চেয়ে বাস্তবে ৬৯ হাজার ২১৯ বর্গমিটার বেশি পাহাড় কাটা হয়েছে। আবার ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে পাহাড় না কেটে খাড়াভাবে কাটা হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে পরিদনকারী দল বুধবার শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেয়। সেই অনুযায়ী শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানিতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা