kalerkantho

বুধবার  । ১৮ চৈত্র ১৪২৬। ১ এপ্রিল ২০২০। ৬ শাবান ১৪৪১

মহাসড়কে ফের অটোরিকশা

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

৩০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহাসড়কে ফের অটোরিকশা

উল্টোপথেও চলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা। গতকাল চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের উত্তর বাইপাস এলাকা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে ফের চলছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা। উপজেলার বারআউলিয়া থেকে বড় দারোগারহাট পর্যন্ত মহাসড়কে অনেকটা বিনা বাধায় চলাচল করার সুযোগ পাওয়ায় তিন চাকার অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর না হওয়াসহ বিভিন্ন অজুহাতে এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না হাইওয়ে পুলিশ। অন্যদিকে চালকরা বলেছেন, মূলত মাসোহারা দিয়েই গাড়ি চালাচ্ছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ার পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল একটি অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে ২০১৭ সালে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় অটোরিকশা চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে। এর পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও আদালত মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ ঘোষণা বহাল রাখে। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত অটোরিকশা বন্ধের নির্দেশ বহাল আছে।

এদিকে অটোরিকশা বন্ধের প্রথম দিকে যাত্রীরা গণপরিবহন সংকটে পড়লেও সময়ের সঙ্গে আরো নানান পরিবহন যুক্ত হয়ে সেই সমস্যা দূর করেছে। অপরদিকে অটোরিকশা বন্ধ হওয়ার পর মহাসড়কে যানজট কমে আসে। তুলনামূলকভাবে কমে দুর্ঘটনাও।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় দারোগারহাট থেকে বার আউলিয়া থানা এলাকা পর্যন্ত মহাসড়কে ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্র সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলছে বিনাবাধায়। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকার এক অটোরিকশাচালক মো. আবুল কালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবাই যেভাবে চলছে আমিও সেভাবে চলছি।’ সবাই কীভাবে চলছে?-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সোজা হিসাব হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে চলছি।’ তবে কত করে দিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

একইভাবে পুলিশকে টাকা দিয়ে সীতাকুণ্ড থেকে কুমিরা এলাকা পর্যন্ত অটোরিকশা চালাচ্ছেন বলে জানালেন কুমিরা বাজারের অটোরিকশাচালক মো. নুর নবী। তিনি বলেন, ‘মাসে ১ হাজার টাকা দিই। এ কারণে আমাকে ধরে না। টাকা না দিলে গ্রামের রাস্তায় পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।’

‘গ্রামের ভেতরে সেরকম আয় নেই। মহাসড়কে চালালে কিছু বেশি টাকা পাওয়া যায়। তাই টাকা দিয়েই চালাতে হচ্ছে।’-যোগ করেন তিনি।

সরেজমিন দেখা যায় শুধু যে অটোরিকশা চলাচল করছে তাই নয়, মহাসড়কের অনেক স্থানে আবার অটোরিকশাগুলো চলছে উল্টোপথে। পৌরসদরের উত্তর বাইপাস থেকে নুনাছড়া পর্যন্ত দুই কিলোমিটারেরও বেশি মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল করে উল্টো পথে। জানতে চাইলে ওই রুটের চালকরা বলেন, সৈয়দপুর ইউনিয়নের মীরেরহাট থেকে সীতাকুণ্ডে আসার সময় দুই কিলোমটাির সড়কে কোনো ইউটার্ন নেই। এ কারণে পুরো সড়কটির উল্টোপথে সীতাকুণ্ড আসতে হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আছে তা জানলেও অপরিকল্পিত সড়কের কারণে এমনভাবে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জানা গেছে, মহাসড়কে যানজট নিরসনে রয়েছে দুটি হাইওয়ে থানা ও একটি ট্রাফিক কার্যালয়। জানতে চাইলে বড় দারোগারহাট থেকে কুমিরা অংশের দায়িত্বে থাকা কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘আসলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ধরার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন তদবির আসে। এর ওপর সড়ক পরিবহন আইনটি কার্যকর না হওয়ায় আমরা মামলাও দিতে পারছি না। এ কারণে এ অবস্থা চলছে।’

বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসির দায়িত্বে থাকা এসআই মো. কাউছার বলেন, ‘আমাদের অংশে অটোরিকশা আমরা চলতে দিই না। এর পরও কখনো কখনো তারা লুকিয়ে মহাসড়কে ওঠে পড়ে।’

ফৌজদারহাট ট্রাফিক কার্যালয়ের ইনচার্জ টিআই রফিক আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘আমাদের অংশে অটোরিকশা তেমন চলে না। আর কখনো কখনো ধরা পড়লেও সড়ক পরিবহনের পূর্বের আইন না বর্তমান আইনে মামলা দেওয়া হবে আমরা তা নিয়ে সমস্যায় পড়ে যাই। কারণ বর্তমান আইন এখনো কার্যকর হয়নি। এটি কার্যকর হলে অটোচালকরা মহাসড়কে ওঠার সাহস করবে না।’

তবে আইনের কথা বললেও মাসোহারা নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলতে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তাঁরা তিনজনই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা