kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

মাতারবাড়ি-মদুনাঘাট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ

নির্দিষ্ট সময়ের ছয় মাস আগেই কাজ শেষ করার আশাবাদ

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্দিষ্ট সময়ের ছয় মাস আগেই কাজ শেষ করার আশাবাদ

মাতারবাড়ি-মদুনাঘাট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজ চলছে জোরেশোরে। গতকাল বাঁশখালীর ছনুয়া মধুখালী এলাকা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় নির্মাণাধীন ১২০০ মেগাওয়াট মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজ চলছে জোরেশোরে।

৪০০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন ৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল সার্কিট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন প্রকল্পটি ‘মাতারবাড়ি-মদুনাঘাট প্রকল্প’ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সঞ্চালন লাইন দিয়ে ভবিষ্যতে যাতে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হতে পারে সেজন্য উচ্চতর প্রযুক্তির তার ও কন্ডাক্টর বসানো হবে।

বিদ্যুতের সুষম সঞ্চালনের লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া, মহেশখালী ও চকরিয়া এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, পটিয়া ও রাউজান উপজেলায় বসানো হচ্ছে ৩৫০টি টাওয়ার। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের প্রাক্কলিত সময় ৩০ মাস। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ করা হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ লাইন সঞ্চালন কাজে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্পের তথ্যমতে, মাতারবাড়ি আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার পাওয়ার প্রকল্প-২ নামে মাতারবাড়ি, পেকুয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, শিকলবাহা, মদুনাঘাট পর্যন্ত গ্রিড সাবস্টেশনে জাপানের হিটাচি করপোরেশন ৫০০ থেকে ৭৫০ এমভিএ ক্ষমতার তিনটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করবে। এ ছাড়া ৪০০ কেভি ক্ষমতার ছয়টি বে, দুটি বাস কাপলার, দুটি সেকশন এবং দুটি বাস বিটি স্থাপন করা হবে। ২৩০ কেভি অংশেও একই সংখ্যক যন্ত্রাংশ থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিজিসিবির গৃহীত ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন পাওয়ার গ্রিড স্ট্রেংথদেনিং প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই সাবস্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে।

কেইসি ইন্টারন্যাশনালের প্রজেক্ট ম্যানেজার ভরত রাজ বলেন, ‘এ ধরনের লাইন নির্মাণকাজে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিকূল পরিবেশ, বিপর্যস্ত রাস্তাঘাট, লবণাক্ত মাঠ, কদমাক্ত খালসহ বিবিধ কারণে বছরের নির্দিষ্ট সময় কাজ করা সম্ভব নয়।’

‘এর পরও আমাদের প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা, পর্যাপ্ত লোকবল, বিপুল পরিমাণ যান্ত্রিক অবকাঠামো থাকার কারণে প্রকল্পটি প্রাক্কলিত সময়ের ৬ মাস আগে ২৪ মাসে অর্থাৎ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। বিদ্যুৎ সঞ্চালন বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুত্খাত আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।’-যোগ করেন তিনি।

প্রকল্পের প্রকৌশলী নন্দ দুলাল সরকার বলেন, ‘সঠিক ব্যবস্থাপনা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ঋতুভিত্তিক সহনীয় ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন নির্মাণকাজ করে যাচ্ছি। প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তির যথোপযুক্ত ব্যবহারের নির্ভরতায় কাজের গুণগতমান রক্ষায় আমরা পারদর্শী।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণকাজে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ঠিকমতো কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি মাতারবাড়ি-মদুনাঘাট ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সরকার ও জাইকার যৌথ অর্থায়নে পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিমিটেডের অধীনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেইসি ইন্টারন্যাশানাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পে উপদেষ্টা হিসেবে আছে জাপানি প্রতিষ্ঠান নিপ্পন ফোয়ে। ওই প্রতিষ্ঠান দেশের বৃহৎ মেট্রোরেল প্রকল্পেরও উপদেষ্টা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা