kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বৃষ্টির পর ঘন কুয়াশা

সীতাকুণ্ডে শিমের সর্বনাশ

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সীতাকুণ্ডে শিমের সর্বনাশ

এবার সীতাকুণ্ডে শিম চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে অনেক চাষিকে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সীতাকুণ্ডে শিমক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষক লাভ তো দূরের কথা, খরচও তুলতে পারেননি।

জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার সর্বত্র ব্যাপক হারে শিম চাষ হয়ে থাকে। শীত মৌসুমে এখানে পাহাড় চূড়া থেকে সাগরের বেড়িবাঁধ এলাকা পর্যন্ত যেদিকে চোখ যায় শুধু শিম আর শিম চোখে পড়ে। দূর-দূরান্তের মানুষের কাছে সীতাকুণ্ড শিমরাজ্য হিসেবে পরিচিত। এখানে উৎপাদিত শিমের স্বাদও ভিন্ন। শিম কিনতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীরা ছুটে আসেন এখানে। তাঁদের হাত ধরে সীতাকুণ্ডের শিম চলে যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডে এবার ৭৫০০ একর জমিতে শিম চাষ করেছেন প্রায় ১৮ হাজার কৃষক। এখানে নানান প্রজাতির শিমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাটা, পুঁটি, লইট্টা, কার্ত্তিকোডা ও ছুরি শিম।

উপজেলার অন্যতম শিম চাষ এলাকার পৌরসদর, মুরাদপুর, নুনাছড়া, ছোট দারোগারহাট, সৈয়দপুর ও বাড়বকুণ্ড এলাকায় ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার শিম চাষে কোনো কোনো এলাকার কৃষক লাভবান আবার কোথাও কোথাও কৃষক ব্যাপক লোকসানের শিকার হয়েছেন। এ লোকসানের মূল কারণ ঘন কুয়াশা ও বৃষ্টি।

পরিদর্শনকালে উপজেলার অন্যতম শিম চাষ এলাকার পৌর সদরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নুনাছড়ায় গিয়ে দেখা যায়, এখানে হঠাৎ করে শিমগুলোতে অসংখ্য ছিদ্র ও পাতা শুকিয়ে গাছ মরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে।

নুনাছড়া গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এবার ৯৬ শতক জমিতে কার্ত্তিকোডা, লইট্টা জাতের শিম চাষ করেছি। শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে বীজ বপন, সার-কীটনাশক, কঞ্চি, শ্রমিক মজুরিসহ চাষাবাদে খরচ হয়েছে ৭০-৮০ হাজার টাকা। কিন্তু কুয়াশা ও মাঝের বৃষ্টির কারণে শিম ও গাছের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। ফলন হলেও বেশির ভাগই ঝরে যাচ্ছে।’

তিনি জানান, গত এক মাসে তাঁর জমি থেকে মাত্র ২৫ হাজার টাকার শিম বিক্রি হয়েছে। আগামী ১৫-২০ দিনে হয়ত আরো ২৫ হাজার টাকার মতো শিম বিক্রি হলেও মূল খরচ ওঠবে না। অথচ এই জমি থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকার শিম বিক্রি হওয়ার কথা।

একই অভিযোগ করে নুনাছড়ার প্রবীণ কৃষক নুরবক্স জানান, তিনি ৩৬০ শতক জমি বর্গা নিয়ে হাইব্রিড, কার্ত্তিকোডা, ছুরি, লইট্টা শিম চাষ করেন। এতে তাঁর খরচ হয়েছিল ১ লাখ ৭০-৮০ হাজার টাকার মতো। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার শিম বিক্রি হয়েছে। সর্বোচ্চ আরো ৫০ হাজার টাকার শিম বিক্রি হতে পারে।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি বিভাগের সহকারী কৃষি ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ জানান, এখানে সাড়ে ৭ হাজার একর জমিতে শিম চাষ করেছেন প্রায় ১৮ হাজার কৃষক। তবে কুয়াশায় শিমের ক্ষতির বিষয়টি তিনি অবগত নন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা