kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

অনুমতি নিতে ভোগান্তি, জটিলতা

বিদেশি পর্যটকবাহী জাহাজ এবার আসছে না

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদেশি পর্যটকবাহী জাহাজ এবার আসছে না

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটক নিয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশে আসত বিলাসবহুল দুটি জাহাজ ‘সিলভার ডিসকভারার’ এবং ‘সিলভার এক্সপ্লোরার’। সমুদ্রপথে এসে পর্যটকরা বাংলাদেশের সুন্দরবন, মোংলা, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ করত। কিন্তু সেই জাহাজ এবার দেশে আসছে না; জাহাজ পরিচালনা কম্পানির নির্ধারিত শিডিউলেও নেই বাংলাদেশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পর্যটকদের ভিসা প্রাপ্তিতে প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং ভোগান্তির কারণে এবার জাহাজের বাংলাদেশে আসা বাতিল করেছে।

জানতে চাইলে জাহাজটির দেশিয় ট্যুরিজম পার্টনার জার্নি প্লাসের প্রধান নির্বাহী তৌফিক রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০১৯ সালে ভ্রমণ শেষ করার পর জাহাজ পরিচালনাকারী কম্পানি বলেছিল ২০২০ সালে তারা বাংলাদেশে আর আসবে না। কারণ ভিসা পেতে প্রক্রিয়াগত দীর্ঘ জটিলতা পেরিয়ে ভ্রমণে তারা আগ্রহী হচ্ছে না। গত বছর বাংলাদেশ ত্যাগের সময় বিষয়টি তারা জানিয়ে দেয়।

প্রক্রিয়াগত জটিলতা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভিসা নীতিমালায় বিমান এবং সড়কপথ উল্লেখ থাকলেও সাগরপথ উল্লেখ নেই। ফলে সেই অনুমতি নিতে আমাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আবেদনের চিঠি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছিল। শরণাপন্ন হতে হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থারও। এভাবে প্রতিবার প্রতি জাহাজের জন্য দৌড়ানো তো সম্ভব নয়। এই কারণেও আমরা হতাশ।’

জানা গেছে, বিশ্বের সমুদ্রপথে বিলাসবহুল জাহাজ পরিচালনাকারী ‘সিলভার সি গ্রুপ’ ৪৭টি উন্নতমানের জাহাজ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটক পরিবহন করছে। এর মধ্যে তিনটি রুটে যুক্ত করা হয়েছিল বাংলাদেশকে। ২০১৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে প্রথম জাহাজটি শ্রীলংকার কলম্বো থেকে এসে কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপ, এর পর সাগরপথে হিরণ পয়েন্ট এবং সুন্দরবনের হারবারিয়া ভ্রমণ করেন। পরে কলকাতায় গিয়ে যাত্রা শেষ হয়। এর মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী সমুদ্ররুটে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। সে সময় ৬৬ পর্যটক বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন। যাদের বেশির ভাগই ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসী; যাঁরা প্রথমবার বাংলাদেশ ভ্রমণে আসেন। এর পর ২০১৮ সালে বিলাসবহুল জাহাজটি বাংলাদেশে আসেনি। গত ২০১৯ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে পর্যটক নিয়ে তিনটি জাহাজ আসে বাংলাদেশে। প্রথম জাহাজটি ভারতের চেন্নাই থেকে রওনা দিয়ে বাংলাদেশের মোংলা সমুদ্রবন্দরে বহির্নোঙরে পৌঁছে। সেখানে পর্যটকরা তিনদিন সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য ভ্রমণ শেষে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনস ঘুরে দেখেন। এর পর জাহাজটি মিয়ানমার যায়।

আর দ্বিতীয় জাহাজটি মিয়ানমার থেকে রওনা দিয়ে ভারতের পোর্ট ব্লেয়ার ও আন্দামান দ্বীপ হয়ে মিয়ানমারের সিটওয়ে বন্দর হয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপ হয়ে সুন্দরবন এবং মোংলা বন্দর হয়ে চেন্নাই বন্দরে পৌঁছে। আর তৃতীয় জাহাজটি চেন্নাই থেকে রওনা দিয়ে সুন্দরবন হয়ে মহেশখালী, সেন্টমার্টিন ঘুরে মিয়ানমারে গিয়েছিল। দুই বছরে অনেকগুলো ট্রিপের পর বাংলাদেশের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী অনেকগুলো দেশের পর্যটক জাহাজ চলাচলের পথ সুগম হয়। দেশে পর্যটন শিল্পের জন্য সবচে বড় অর্জন ছিল সেটি। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পেয়ে সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি।

জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পরিচালক অসীম কুমার দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সমুদ্রপথে পর্যটন দুয়ার খোলার এটি বড় সুযোগ ছিল কিন্তু সেটি হাতছাড়া হল। এই সমুদ্রপথে এই রুটের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুনভাবে পরিচিতি পেয়েছিল। চলতি মুজিববর্ষে এই সেবা আরও বড় পরিসরে আরও ভালোভাবে আয়োজন করা যেত।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা