kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

স্কুলশিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি

অভিযোগ করায় উল্টো হামলা

‘যৌন হয়রানি নয়, গেল উপনির্বাচনে ধানের শীষে ভোট না দেওয়ার জের ধরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।’

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুপক্ষে সাতজন আহত হন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের হাজিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একপক্ষের শফিকুল ইসলাম সজিব থানায় মামলা করলেও অন্যপক্ষের মামলা নেয়নি পুলিশ।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার এক স্কুলশিক্ষার্থীকে বেশ কিছুদিন ধরে চরণদ্বীপ হাজিপাড়া এলাকার শফিকুল ইসলাম সজিব নামে এক যুবক উত্ত্যক্ত করে আসছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর অভিভাবক ১৫ জানুয়ারি থানায়  লিখিত অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সজিব ও তাঁর সহযোগীরা শুক্রবার রাতে হামলা চালায়। হামলায় দুপক্ষের সাতজন আহত হন। আহতদের এলাকাবাসী উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় উত্ত্যক্তকারী সজিবের লোকজন ওই ছাত্রীর অভিভাবককে নাজেহাল করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। তাঁরা থানায় গিয়েও একই ঘটনার শিকার হন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন ফারুকীকে ঘটনাস্থলে দেখা গেলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। 

বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাপস কান্তি মজুমদার বলেন, ‘আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত নুরুল আজিমকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

এদিকে ঘটনায় জড়িত শফিকুল ইসলাম সজিবসহ কয়েকজনকে বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের বিলুপ্ত  কমিটির সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী তাঁদের কর্মী দাবি করে বলেন, ‘যৌন হয়রানি নিয়ে নয়, গেল উপনির্বাচনে ধানের শীষে ভোট না দেওয়ার জের ধরে মারামারির ঘটনাটি ঘটেছে।’

তবে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম সজিব বলেন, ‘আমরা  বিএনপি করি। কিন্তু গেল উপনির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছিলাম। সামনে আওয়ামী লীগে যোগদান করব। এ জন্য শুক্রবার রাতে আমরা নিজ এলাকায় বৈঠক করছিলাম। এমন সময় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।’ সজিব নিজেকে ৭ম শ্রেণি পাস এবং পেশায় ‘পাইপ ফিটার মিস্ত্রি’ বলে জানান।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন ফারুকীর  মুঠোফোনে শনিবার একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘এ  বিষয়ে খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা