kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বিয়ের এক সপ্তাহ আগে লাশ

পরকীয়ার জেরে প্রবাসী খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরকীয়ার জেরে প্রবাসী খুন

প্রবাসী সজীব হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সুমি আক্তার ও বাদশা মিয়া গতকাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

প্রবাসী রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী সজিবকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করতে চেয়েছিল দুর্বৃত্তরা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাঁকে জিম্মি করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁকে হত্যা করা হয়। অবশ্য এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এক নারীর সঙ্গে সজিবের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কও দায়ী। ওই নারীর স্বামীই হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।

সজিব হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি দেওয়া আসামিরা হলেন নাটোর জেলার বড়ইগ্রাম থানার চরগোবিন্দপুর গ্রামের মোহাম্মদ সেলিমের স্ত্রী সুমি আক্তার শারমিন (২৭) ও কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা থানার ফজল মেম্বার বাড়ির নুরুল ইসলামের ছেলে মো. বাদশা মিয়া (৩১)। সুমি গৃহবধূ ও বাদশা মিয়া অটোরিকশা চালক। জবানবন্দি দেওয়ার আগে তাঁদের হেফাজত থেকে নিহত সজিবের ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের ট্রাউজার, হাতঘড়ি ও লালরঙের জ্যাকেটের ফিতা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) আরেফিন জুয়েল। তিনি বলেন, ‘সজিব হত্যাকাণ্ড ছিল ক্লুলেস মামলা। এই ঘটনায় পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।’

নগর পুলিশ ও চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সজিব দুবাই প্রবাসী। গত ১৪ নভেম্বর দেশে ফেরেন বিয়ে করার উদ্দেশ্যে। এরই মধ্যে নগরের সদরঘাট থানা এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুরুল আলমের মেয়ে আফরিনের (২০) সঙ্গে আক্দ সম্পন্ন হয়। আগামী ২৫ জানুয়ারি তাঁদের বিয়ে অনুষ্ঠান নির্ধারিত হয়। গত শুক্রবার বিকেলে বোনের বাসায় দাওয়াত দেওয়ার জন্য বের হন সজিব। কিন্তু রাতে আর বাসায় ফেরেননি। পরদিন শনিবার সজিবের মরদেহ কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আতাউর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি সুমি আক্তার শারমিন আদালতে জানান, তিনি বিবাহিতা এবং দুই সন্তানের জননী। তাঁর সঙ্গে মোবাইল ফোনে সজিবের যোগাযোগ ছিল। এই যোগাযোগের বিষয়টি তাঁর স্বামী সেলিম জানতেন এবং তিনি বাধা দেননি। কারণ, সেলিম বেকার ছিলেন। সম্প্রতি সজিব দেশে ফেরার পরও তাদের যোগাযোগ ছিল এবং ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সুমির বাসায় দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিল। এই উদ্দেশ্যে সজিব যখন মইজ্জ্যারটেক পৌঁছেন তখন সুমি তার স্বামী সেলিমকে মইজ্জ্যারটেক পাঠান সজিবকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। মোবাইল ফোনে তাদের যোগাযোগের পর সাক্ষাত হয় এবং নাস্তা নিয়ে সজিব সুমির বাসার দিকে রওনা হন। সঙ্গে সেলিমও ছিল। সুমি আদালতে আরও জানান, ওই রাতে সেলিমের সঙ্গে সজিব তার বাসায় যাননি। রাতে বাসায় ফিরে সেলিম জানিয়েছেন, সজিব আসেননি। পরদিন সেলিম তাঁকে (সুমিকে) ৩৫০০ টাকা দেয় এবং কিছু দিনার দেয়। এগুলো সজীবের মানিব্যাগে পাওয়া গেছে বলে জানান। সজীবের মানিব্যাগ কেন সেলিমের কাছে এমন প্রশ্নের জবাবে সুমিকে সেলিম জানান, আগের রাতে সজিবের সঙ্গে কিছু লোকের ধস্তাধস্তি হয়েছিল। তখন সজিবের মানিব্যাগ তার হাতে আসে এবং সেখানে দিনারগুলো পেয়েছে।

একই ঘটনায় অটোরিকশা চালক বাদশা মিয়া জবানবন্দি দিয়ে জানিয়েছেন, সেলিম তাঁকে মোবাইল ফোনে কর্ণফুলী সেতুর নিচে যেতে বলেন। তখন প্রস্তাব দেন, একজন প্রবাসীকে জিম্মি করলে ১০-১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা যাবে। তখন বাদশা জানতে চান, মুক্তিপণের টাকা কে কত পাবেন? শুরুতে সেলিম দুই ভাগের প্রস্তাব দেন। কিন্তু পরিকল্পনা বৈঠকে ছিল সাতজন। এতে বাদশা রাজি না হয়ে প্রত্যেকে সমানভাগে টাকা নেওয়ার প্রস্তাব করেন। শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাবে সেলিম রাজি হন। ঘটনার দিন শুক্রবার রাতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তারা নির্ধারিত জায়গায় মিলিত হন। ঘটনাস্থলের অদূরে ছিলেন সেলিম। পরে তাঁরা সজিবকে ঝাঁপটে ধরেন এবং ধস্তাধস্তি করেন। মুক্তিপণ দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত গলায় গামছা পেঁচিয়ে সজিবকে তাঁরা হত্যা করেন। মানিব্যাগ, মোবাইল ও আংটি ছিনিয়ে নেন। এর পর মরদেহ ফেলে তাঁরা পালিয়ে যান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা