kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

পাহাড়ে রাবার বাগান প্রকল্প

সরকারি দলের নেতারাও পিছিয়ে নেই দখলে

আবু দাউদ ও জাকির হোসেন, খাগড়াছড়ি   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকারি দলের নেতারাও পিছিয়ে নেই দখলে

প্রান্তিক পাহাড়িদের রাবার বাগান, বাগানবাড়ি ও বসতি দখলে পিছিয়ে নেই ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও। সরকারি রাবার বাগান দখলে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি আলো প্রদীপ ত্রিপুরা ওরফে বিপন। তিনি দীঘিনালা উপজেলা সদরের অদূরে ৩১ নম্বর বোয়ালখালী মৌজার ১ নম্বর যৌথ খামার এলাকায় প্রায় ৩০ একর রাবার বাগান কেটে ব্যক্তিগত ফলদ বাগান সৃজন করেছেন। ভৈরফা ৩ নম্বর রাবার বাগান প্রকল্পে সাতমাইল এলাকায়ও উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ১৫ একর জমিতে সেগুন বাগান সৃজন করেছেন বিপন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই ছাত্রলীগ নেতার সৃজিত বাগানের চার পাশেই পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের রাবার বাগান। লোহার জাল ঘেরা একটি ফলদ বাগান। ঘেরার ভেতর পুরো বাগানজুড়ে এখনো সাক্ষ্য দেয় সাম্প্রতিক সময়ে কেটে ফেলা রাবার গাছের অসংখ্য গোড়া। গোড়াগুলোতে এখনো জমাট বেঁধে রয়েছে গাছ কাটার পর ঝরে পড়া রাবার কষ। বাগানটিতে একটি থাকার ঘরও রয়েছে। ঘরে থাকছেন বাগানের তত্ত্বাবধায়ক দলিন্দ্র ত্রিপুরা (৪২)। দলিন্দ্র জানান, বাগানটির মালিক জেলা সদরের বিপন ত্রিপুরা। তাঁকে বাগান দেখাশোনার দায়িত্বে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় মৌজার হেডম্যান ত্রিদীপ রায় পোমাং বলেন, ‘বিপন নামে কেউ এ বাগানটি করেছেন বলে জেনেছি।’

নিজের বাগান সৃজনের বিষয়টি স্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা বিপন বলেন, ‘উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা উন্নয়ন বোর্ডের শত শত একর জায়গা দখলের খবর রাখেন?’ সেক্ষেত্রে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা আশুতোষ চাকমাসহ উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকজন শীর্ষ কর্তা ব্যক্তিদের নামও উল্লেখ করেন।

আলো প্রদীপ ত্রিপুরা ওরফে বিপন আরো বলেন, ‘আমার নানা রাবার প্ল্যান্টার ছিলেন। আমরা নিজেরাই তো প্ল্যান্টার। তাই নিজেরাই নিজেদের জন্য বাগান করেছি।’ কেবল বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই নন; প্রতিবেশী ধনীরাও সরকারি রাবার বাগানের শত শত একর জমির মালিক এখন।

এদিকে সরকারের দেওয়া রাবার বাগান, বাগান বাগিচার ও বসতভিটা বিক্রয় বা হস্তান্তর যোগ্য নয় বলে বোর্ডের চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। তবু তাঁরা কীভাবে বিক্রি করছেন জানতে চাইলে অধিকাংশ প্ল্যান্টারই বলেছেন, বোর্ডের ব্যবস্থাপনার অভাব এবং সুযোগ না পেয়ে তাঁরা অন্যায় হলেও বেচতে বাধ্য হচ্ছেন।

বোয়ালখালী ২ নম্বর যৌথখামার প্রকল্প গ্রামের রাবার প্ল্যান্টার সুনীল বিহারী চাকমা (৪০) এবং নতুন বাগান ৩ নম্বর রাবার প্রকল্প গ্রামের রাবার প্ল্যান্টারদের লিডার (দলপতি) প্রতিময় চাকমা (৪৫) বলেন, চারা রোপণ, পরিষ্কারকরণসহ বিভিন্ন সময়ের কাজের যে মজুরি পাওয়ার কথা, সর্বশেষ বিভিন্ন হাত ঘুরে এর অর্ধেকও পৌঁছে না প্ল্যান্টারদের হাতে। রাবার কষ সংগ্রহকারীরা কষ সংগ্রহ করে দেওয়ার পর তা বিক্রি করে মাস শেষে আয়ের যে অংশটুকু পাওয়ার কথা সেটিও কয়েক মাস ঘুরে একবার পাওয়া যেত। এ ছাড়া অনেক সময় উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া বাৎসরিক বোনাসটুকুও পৌঁছেনি প্ল্যান্টারদের হাতে।

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের গাছবান এলাকায় ২ নম্বর রাবার বাগান প্রকল্প গ্রামের প্রভাত ত্রিপুরা (৭৫) থাকেন ছেলের বাড়িতে। অথচ তিনি ছিলেন একজন রাবার প্ল্যান্টার। অভাবের কারণে তিনি তাঁর দখলে থাকা জায়গাটুকু নামমাত্র মূল্যে ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছেন। বড়পাড়ার তাঁর বাড়ির পাশের বনে ত্রিপুরা তাঁর মতো অনেক প্ল্যান্টারের নিকট থেকে একইভাবে উন্নয়ন বোর্ডের রাবার বাগানসহ জায়গা কিনেছেন। পরবর্তীতে বনে ত্রিপুরা কিছু জায়গা বিক্রি করেছেন কুজেন্দ্র ত্রিপুরার কাছে।

সীমানাপাড়ার প্ল্যান্টার মৃণাল কান্তি ত্রিপুরা রাবার প্রকল্পের এক কর্মকর্তার কাছে রাবারের পুরো জমি বিক্রি করে অন্য এলাকায় চলে গেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা