kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

চট্টগ্রামে খসড়া ভোটার তালিকা

নগরের চেয়ে গ্রামে ভোটার বেড়েছে

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নগরের চেয়ে গ্রামে ভোটার বেড়েছে

হালনাগাদের সময় সাধারণত বছরে আড়াই শতাংশ ভোটার বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রকাশিত গতকাল সোমবারের খসড়া ভোটার তালিকায় চট্টগ্রাম জেলায় ভোটার বেড়েছে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৩৪ জন। ভোটার বাড়ার হার ৫ শতাংশ। ফলে চট্টগ্রাম জেলায় বিদ্যমান ভোটারসহ খসড়া ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ লাখ ২১ হাজার ৯৪৮।

চট্টগ্রাম সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত খসড়া তালিকার ওপর দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দরখাস্ত জমা দেওয়া যাবে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি এই দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে আগামী ২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবসে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যখনই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হোক না কেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নতুন ভোটার তালিকা অনুযায়ী হবে।

গত বছরের ৭ আগস্ট বন্দর থানা এলাকায় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এবার মোট ৪টি বয়স শ্রেণিতে তথ্য সংগ্রহ করা হলেও খসড়া ভোটার তালিকায় ১ জানুয়ারি ২০০২ সালের পূর্বে যাদের জন্ম অর্থাৎ ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে কেবল তাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় বিদ্যমান ভোটার সংখ্যা ৫৬ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪। খসড়া তালিকায় নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে আরও ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৩৪ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি নতুন ভোটার বেড়েছে ফটিকছড়ি উপজেলায়। এই জেলায় নতুন করে ১৯ হাজার ২১৬ তরুণ ভোটার যুক্ত হচ্ছে তালিকায়। এর পরেই আছে মিরসরাই উপজেলা। এই উপজেলায় ভোটার বেড়েছে ১৮ হাজার ৩০৩ জন। আর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার বন্দর থানায় মোট ভোটার বেড়েছে ১৮ হাজার ৭৭ জন। এ ছাড়া রাউজান উপজেলায় নতুন ১৭ হাজার ৮৭৩ জন ভোটার যুক্ত হচ্ছে। সবচেয়ে কম ভোটার যুক্ত হচ্ছে নতুন উপজেলা কর্ণফুলীতে। এই উপজেলায় মোট ৫ হাজার ৯৯১ জন ভোটার বেড়েছে খসড়া তালিকায়। তবে দাবি, আপত্তি ও সংশোধনে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা কিছুটা সংযোজন বিয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যাঁরা কোনো কারণে ভোটার হওয়ার সুযোগ পাননি তাঁরা দাবি, আপত্তি নিষ্পত্তির সময়ের মধ্যে নির্বাচন অফিসে এসে আবেদন করলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।’ এ ছাড়া খসড়া তালিকায় কারও তথ্যগত ভুল থাকলে সেটাও বিনা খরচে সংশোধনের সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানান।

শহরে তুলনামূলকভাবে কম ভোটার অন্তর্ভুক্তির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ভাড়াবাসায় থাকা বেশির ভাগ ভোটার গ্রামের স্থায়ী ঠিকানায় ভোটার হতে আগ্রহী। এ কারণে শহরের তুলনায় গ্রামে ভোটার বৃদ্ধির হার বেশি।’

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র কেলেঙ্কারির কারণে এবার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস গত আগস্ট থেকেই চাপে ছিল। কাউন্টার টেররিজম ও দুর্নীতি দমন কমিশনের  (দুদক) মামলায় এরই মধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এর মধ্যে ৭ জন নির্বাচন কমিশনের কর্মী।

মন্তব্য