kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

ছিন্নমূল শিশু বাঁচাল নবজাতককে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছিন্নমূল শিশু বাঁচাল নবজাতককে

নগরের বায়েজিদ এলাকায় জিসি কারখানার পাশের নর্দমায় আবর্জনার স্তূপে কাগজ কুড়াতে গিয়ে নবজাতকটির কান্না প্রথম শুনতে পায় এক ছিন্নমূল শিশু। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রতিদিনের মতো আবর্জনার স্তূপে কাগজ কুড়ানোর কাজে ব্যস্ত ছিল ১৩ বছরের শিশু রাকিব। কাগজ খুঁজতে গিয়েই হঠাৎ তার কানে আসে শিশুর কান্নার শব্দ। রাকিব দেখে, আবর্জনার স্তূপের ওপর একটি বাজারের থলে। সেই থলের ভেতর থেকেই আসছে কান্নার শব্দ।

বিস্মিত শিশু রাকিব দ্রুত এই খবর দেয় এমরান নামে এক যুবকের কাছে। এমরান দ্রুত খবর দেন বায়েজিদ বোস্তামী থানায়। এরপর পুলিশ ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। শেষ পর্যন্ত বাজারের থলে থেকে উদ্ধার হয় একদিন বয়সী এক কন্যাসন্তান। এই শিশু সন্তানকে স্বজনরা ফেলে গেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

গতকাল রবিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার পশ্চিম শহীদনগর অয়েল মিলস্ জিসি ফ্যাক্টরির পাশের ময়লার স্তূপ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

কন্যাসন্তান উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রিটন সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একটি বাজারের থলের ভেতরে কাপড় মোড়ানো অবস্থায় এক শিশু কান্না করছে। ওই থলে থেকে শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত অক্সিজেন এলাকার প্লাজমা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ডাক্তারের পরামর্শে নেওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।’

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কন্যাসন্তানের বয়স একদিন। ডাক্তার মনে করছেন, শনিবার এই শিশুর জন্ম হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুর স্বাস্থ্য ভালো আছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তার। ধারণা করা হচ্ছে,

রবিবার সকালে এই শিশুকে স্বজনরা ফেলে গেছে। কারণ, আবর্জনার স্তূপের ওপরভাগেই ছিল শিশু।

রবিবার সকালে বায়েজিদ বোস্তামী থানার পশ্চিম শহীদ নগর এলাকা থেকে মেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় বলে ওসি প্রিটন সরকার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে একটি থলে করে নবজাতকটিকে জিজি অয়েল মিলের পেছনে ময়লার স্তূপে ফেলে রাখা হয়েছিল।’

প্রিটন সরকার জানান, শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকায় শিশুটিকে পরিচর্যার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘ছোটমনি নিবাস’ সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়নি। সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। শিশুর স্বজনদের আমরা খুঁজছি।’ তিনি বলেন, ‘কেউ যদি এই শিশু দত্তক হিসেবে নিতে চান, তবে আদালতের মাধ্যমে নিতে হবে। আপাতত শিশুটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ছোটমনি নিবাসে থাকবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে আকবরশাহ থানা এলাকার আবর্জনার স্তূপ থেকে একটি শিশু উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে ওই শিশুর নামকরণ হয়েছিল একুশ। এই শিশুকে আদালতের মাধ্যমে দত্তক নিয়েছেন এক চিকিৎসক দম্পতি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা