kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

গজারিয়া সেতুতে ফুটো

আবু এখলাছ ঝিনুক, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গজারিয়া সেতুতে ফুটো

ফটিকছড়ির নিচিন্তা-দাঁতমারা সড়কের গজারিয়া খালের ওপর সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের নিচিন্তা-দাঁতমারা সড়কের গজারিয়া খালের ওপর ষাটের দশকে নির্মিত সেতুটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। সেতুর ওপর সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে ১০ গ্রামের মানুষ।

জানা গেছে, দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার দাঁতমারা-নিচিন্তা সড়ক দাঁতমারা সদরের সঙ্গে আশেপাশের ১০ গ্রামের ২০ হাজারের অধিক জনগোষ্ঠীর যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। ওই সড়কে প্রায় ৬০ বছরের পুরনো গজারিয়া খালের ওপর ২৫ ফুট দীর্ঘ পাকা সেতুটির নিচের পিলার ধসে পড়েছে। সেতুর ওপর সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পরে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দাঁতমারা বাজারের পশ্চিমে গজারিয়া খালের ওপর নির্মিত সেতুটি  চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ সেতু দিয়ে চলাচল করছে নিচিন্তা, বড় বেতুয়া, হাসনাবাদ, তাঁরাখো, নলুয়াটিলা, বান্দরমারা, ঝিলতলীসহ প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ। সেতুটির দুপাশের পিলার ভেঙে গেছে অনেকে আগে। সেতুর মাঝামাঝি সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্ত। দিনের আলোতে কোনো মতে সেতু পারাপার হলেও রাতের আঁধারে তা হয়ে পরে ‘মরণফাঁদ’।

দাঁতমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ইরফানুল হাসান বলেন, ‘প্রতিদিন স্কুলে আসা যাওয়ায় সেতু পার হতে খুব ভয় লাগে। মনে হয় এখনই সেতুটি ভেঙে পড়বে। প্রতিদিন আমাদের নানান ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দ্রুত সেতুটি নতুন করে নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’

স্থানীয় বড় বেতুয়া গ্রামের মীর আহাম্মদ জানান, সেতুটি দীর্ঘ দিন ধরে এভাবে পড়ে আছে। স্কুল-কলেজ, মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাসহ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি মেরামতে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত এটি ধসে যাচ্ছে।

দাঁতমারা ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম বলেন, ‘এখানকার মানুষের জন্য এই সড়ক ও সেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ। দীর্ঘদিন থেকে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ চলাচল করছে। বর্তমানে সেতুটির নিচের পিলার বাঁকা হয়ে গেছে, উপরে বিশালাকার এক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় জান মালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।’

‘সেতুটি মেরামতে বা পুনঃনির্মাণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু আজও কোনো ফল পাইনি। জনদুর্ভোগ লাঘবে সেতুটি পুনঃনির্মাণ জরুরি।’-যোগ করেন তিনি।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সায়েদুল আরেফিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। খোঁজ নিয়ে, বিস্তারিত জেনে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা