kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

চট্টগ্রাম-সিলেট বিমান চালু হবে কবে?

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম-সিলেট বিমান চালু হবে কবে?

চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যেতে ট্রেনে সময় লাগে ১০ ঘন্টা, আর সড়কপথে সময় লাগে ১২ ঘণ্টা। আর বিমানে যেতে হলে ঢাকা হয়েই পৌঁছতে হচ্ছে সিলেটে। কিন্তু সরাসরি আকাশপথে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ শহরে মাত্র ৪০ মিনিটে পৌঁছা সম্ভব।

ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন সম্ভাবনার সুফল পেতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি শহরের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর জন্য অর্থমন্ত্রী, পর্যটনমন্ত্রী এবং সরকারের নীতিনির্ধারকরা অনেকবার আশ্বাস দিলেও কার্যকর কিছু হয়নি। চট্টগ্রাম-সিলেট দুই অঞ্চলের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে জোর দাবি তুললেও বছরের পর বছর তা ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার ও সিলেট চেম্বার উক্ত দুই অঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করতে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনেক আগে। দুই চেম্বার সভাপতি প্রায় প্রতিটি সভায় ওই দাবিটা তুলে ধরছেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার, বাণিজ্য ও পর্যটন সম্প্রসারণে দুই অঞ্চলের মধ্যে ফ্লাইট চালু করাটা এখন সময়ের দাবি। আমাদের দাবির পর সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব আশ্বাসও দিয়েছেন কিন্তু সুফল মেলেনি।’

‘দেখুন সিলেটি ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে গেলে ঢাকা বিমানবন্দর হয়ে আসতে হয় চট্টগ্রাম। আর কক্সবাজার ঘুরতে গেলে প্রথমে ঢাকা এরপর আরেকটি ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছান। চট্টগ্রামে নিয়মিত চা নিলামে অংশ নিতে সিলেট থেকে আসে অনেকেই। তাদের জন্যও একটি বড় ভোগান্তি ফ্লাইট না থাকা।’-যোগ করেন চেম্বার সভাপতি মাহবুব। 

সর্বশেষ দেশের শীর্ষ বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস ২০১৯ সালের জুলাই থেকে সিলেট-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিলেও সেটি কার্যকর হয়নি। এর কারণ কী-জানতে চাইলে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে থেকেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল সিলেট-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এবং যশোর-চট্টগ্রাম রুট চালুর। এই মাসে নতুন দুটি উড়োজাহাজ আমাদের বহরে যুক্ত হবে। এরপর আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’

এই রুটে যাত্রী কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব বেশি যাত্রী নেই তবে নিজেদের কিছু কৌশল কাজে লাগিয়ে আমরা যাত্রী তৈরি করে নিতে পারব।’

জানা গেছে, বর্তমানে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকে আকাশপথে সিলেট যেতে হলে একজন যাত্রীকে ঢাকা বিমানবন্দর হয়ে যেতে হচ্ছে।

এতে ভাড়া ন্যূনতম ৬ হাজার টাকা আর ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আরেকটি কানেকটিং ফ্লাইটে সিলেট যেতে বাড়তি সময় লাগছে। আর চট্টগ্রাম থেকে আন্তঃনগর ট্রেনে সিলেট যেতে সময় লাগে ১০ ঘণ্টার বেশি, আর সরাসরি বাসে যেতে লাগছে ১২ ঘণ্টা। দূরত্ব বেশি ও অনেক বেশি সময় লাগায় সিলেটের বাসিন্দারা চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজার যেতে আগ্রহ দেখান না। একইসঙ্গে চট্টগ্রামের বাসিন্দারাও সিলেট ভ্রমণে গেলে বাড়তি সময় নিয়ে যান। এতে করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নগরের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ কমে গেছে।

শীর্ষ বিমান সংস্থার এক সিনিয়র পাইলট কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিলেট থেকে উড়াল দিয়ে চট্টগ্রাম আসতে গেলে মাঝখানে ভারতের আকাশসীমা পাড়ি দিতে হয়। এতে বাড়তি একটি মাশুল যোগ হবে। আবার ঢাকা ঘুরে চট্টগ্রাম আসতে বাড়তি পথ পাড়ি দিতে গেলে বাড়তি জ্বালানি খরচ হবে। ভাড়া একটু বেশি হলেও এই রুট লাভজনক হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পর্যটনবর্ষের একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এই রুটে ফ্লাইট চালুর গুরুত্ব তুলে ধরে ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘ভারতের শিলং থেকে অনেক পর্যটক সিলেট এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বেড়াতে আসতে চান। তাঁদের অনেকের আত্মীয়-পরিজন থাকেন চট্টগ্রামে। ফলে তাঁদের আসতে হয় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে। সেই গুরুত্ব বিবেচনায় সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচল করা জরুরি। এ রুটে ফ্লাইট চালু হলে পর্যটকরা কক্সবাজারেও যেতে পারবেন।’

এর পর সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এই রুটে ফ্লাইট চালুর আশ্বাস দেন। কিন্তু বাংলাদেশ বিমান এবং বেসরকারি তিনটি বিমান সংস্থা কোনোটিই এই রুটে ফ্লাইট চালু করেনি।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক (মার্কেটিং) শওকত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা ঠিক আগে থেকেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল কিন্তু উড়োজাহাজ সংকটের কারণে সেটি সম্ভব হয়ে উঠেনি। আগামী জুনে আমাদের বহরে দুটি ড্যাশ উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। এর পরই আমরা রুট সম্প্রসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা