kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচন

আ. লীগ স্বতঃস্ফূর্ত, দেখা মেলেনি বিএনপির

ভোটের আগের রাতে পোপাদিয়ায় কাপড়ে মুখ লুকানো ওরা কারা?

কাজী আয়েশা ফারজানা, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আ. লীগ স্বতঃস্ফূর্ত, দেখা মেলেনি বিএনপির

বাঁ থেকে : বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডী বশরতনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র গতকাল সকাল ১০টায়, বহদ্দারহাট এখলাছুর রহমান স্কুলে আ. লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদ ও বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ানের হাসিমুখে করমর্দন এবং ভোটারের সারি। ছবি : রবি শংকর

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-নগর আংশিক) আসনে উপনির্বাচন বোয়ালখালীতে কোনো ধরনের গোলযোগ ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার ৬৯ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। এই আসনে এবার প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দেন ভোটাররা।

সরেজমিন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, শীতের প্রকোপের কারণে সকালে ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার কিছুটা বাড়লেও অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র ছিল ফাঁকা। কেন্দ্রের বাইরে ও ভেতরে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। প্রায় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থান দেখা গেছে। তবে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও উপজেলার কোনো কেন্দ্রে গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পশ্চিম কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। দুপুর ১টার দিকে পশ্চিম গোমদণ্ডী বশরতনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ভোটারবিহীন ফাঁকা দেখা যায়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল বেশ লক্ষ্যণীয়।

এদিকে ইভিএমে ভোট দিতে পেরে অনেকে নতুন অভিজ্ঞতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মীরপাড়া সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটার হাজি নাছের আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইভিএমে ভোটগ্রহণের কারণে মানুষের মধ্যে কৌতূহল ছিল বেশি।’ প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট দিতে পেরে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।

পূর্ব গোমদণ্ডী আহমদিয়া আজিজিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সৈয়দ মো. জামানুল ইসলাম দুপুরে বলেন, ‘সকালের দিকে ভোটার সংখ্যা বেশি ছিল। নারী ভোটারের চেয়ে পুরুষ ভোটার ছিল চোখে পড়ার মতো। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।’

কাপড়ে মুখ লুকিয়ে মহড়া : এদিকে ভোটের আগের রাতে হঠাৎ করে ২০/২৫ জনের একটি দল বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া গ্রামের ঈশ্বরভট্র বাজারের আশপাশের পাড়াগুলোতে মহড়া দেয়। এরা পাড়ার বেশির ভাগ ঘরের সামনে গিয়ে নানা হুমকি-ধমকি দেয়। নিরীহ কয়েকজনকে মারধরও করে। এ সময় সবার মুখ কাপড়ে লুকানো ছিল। কয়েকজনের হাতে অস্ত্রও দেখা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় জড়িতদের ব্যাপারে একটি গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে খোঁজ-খবর নিচ্ছে। জড়িত কেউ রেহাই পাবে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসব পাড়ার খেটেখাওয়া অধিকাংশ মানুষজন

রবিবার দিনভর পরিশ্রম শেষে রাতে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ওই সময়। কেউ কেউ ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে ২০/২৫ জনের একদল লোক এসব ঘরে ধারাবাহিকভাবে হানা দিয়ে সোমবারের নির্বাচন ঘিরে নানা হুমকি-ধমকি দেয়, গালিগালাজ করতে থাকে। বাইরে শোর-আওয়াজ শুনে কয়েকজন গৃহকর্তা ঘরের দরজা খুলে বের হলে তাঁদের মারধর করা হয়। নিরীহ কয়েকজনেক তুলে নিয়ে যেতেও চেষ্টা চালায় এরা। খবর পেয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এগিয়ে এলে এরা পিছু হটে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, যাঁদের লক্ষ্য করে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়, তাঁরা একেবারেই সাধারণ মানুষ। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত নন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মহড়া দেওয়া ২০/২৫ জনের ওই দল আওয়ামী লীগ নামধারী। এরা আসলে দলের কেউ নয়। আমাদের নেতা মোছলেম উদ্দিন আহমদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে এরা। এদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া উচিত।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা