kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নির্বাচন অফিসে এনআইডি জালিয়াতি

কর্মচারী জয়নালের দুই বছরে ৬৮ লাখ টাকার লেনদেন!

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কর্মচারী জয়নালের দুই বছরে ৬৮ লাখ টাকার লেনদেন!

মাত্র ৫ হাজার ৯৬০ টাকা বেতন স্কেলে ২০০৪ সালের ১ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের চট্টগ্রাম জেলা অফিসে এমএলএসএস পদে যোগ দিয়েছিলেন জয়নাল আবেদীন (৩৪)। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিকরণের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার সময়ও তাঁর মূলবেতন ছিল ১৩ হাজার ৯০০ টাকা। অথচ এই জয়নালের তিনটি ব্যাংক হিসাবে ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ বছর ৫ মাসেই প্রায় ৬৮ লাখ টাকার লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসে চাকরিকালীন সময়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৬৯ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্যও পেয়েছে দুদক।

এ নিয়ে গতকাল বুধবার দুদক দুটি মামলা দায়ের করেছে। এর একটিতে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অপরাধে একটি এবং মানি লন্ডারিং মামলার আরেকটি মামলায়ও জয়নালকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় জয়নালের স্ত্রী মোছাম্মৎ আনিছুন নাহার বেগমকে (২৯) দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী বাদী হয়ে দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামি জয়নাল আবেদীন ২০০৪ সালের ১ নভেম্বর এমএলএসএস পদে ৫ হাজার ৯৬০ টাকা বেতন স্কেলে সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিস, চট্টগ্রামে যোগদান করেন। বর্তমানে তাঁর মূল বেতন ১৩ হাজার ৯০০ টাকা। তিনি চাকরিকালীন সময়ে বেতন ভাতাদি বাবদ ২২ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা আয় করেছেন। তাঁর অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। তাঁর নামে কোনো আয়কর নথিও নেই। তাঁর আয়ের ৮০ শতাংশ পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হলে ব্যয় দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৯৭ হাজার ৫২০ টাকা অর্থাৎ উল্লিখিত সময়ে তাঁর সঞ্চয় ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮০ টাকা। কিন্তু রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামি মো. জয়নাল আবেদীন নিজ নামে ৭২ লাখ ১৬ হাজার ৫৯ টাকার স্থাবর ও ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬৩ টাকার অস্থাবরসহ মোট ৭৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন।

জয়নাল আবেদীন অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী পৌরসভার উত্তর জলদী মৌজায় ৫ শতাংশ জমি সাড়ে ৫ লাখ টাকা রেজিস্ট্রিমূলে ক্রয় করে উক্ত জমির উপর ৫ তলা ফাউন্ডেশেনের ৪তলা ভবনের তিন দিকে দেয়ালসহ ৩য় তলা পর্যন্ত ছাদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন। এ নির্মাণকাজে আনুমানিক ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এর ৫(২) ধারায় দায়ের করা মামলার এজাহারে জয়নাল আবেদীনের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল  হতে ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ বছর ৪ মাস ২৩ দিনে ৬৭ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৬ টাকা লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি., চকবাজার শাখায় ৩৫ লাখ ৩ হাজার ১৫২ টাকা, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, আনোয়ারা শাখায় ২৮ লাখ ২০ হাজার ১৪৪ টাকা; প্রাইম ব্যাংক, বাঁশখালী শাখায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ও এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সাড়ে ৩ টাকা লেনদেন হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিনিময়ে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মী জয়নাল আবেদীন মামলায় উল্লিখিত সহযোগীদের নিয়ে এই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করত।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা