kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কালা ঝন্টু প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ দেখে না!

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ধর্ষণ অপহরণ চাঁদাবাজিসহ ১৭ মামলার আসামি তিনি

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কালা ঝন্টু প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ দেখে না!

দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জয়নাল আবেদীন ওরফে কালা ঝন্টু প্রকাশ্যে ঘুরলেও গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। তিনি বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের পূর্ব ইলশা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৭ মামলার আসামি উপজেলার ওই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ইলশা গ্রামের বাসিন্দারা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এবং বিভিন্ন থানার মামলার রেকর্ড অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কালা ঝন্টুর বিরুদ্ধে বাঁশখালী, চান্দগাঁও, কর্ণফুলী, সাতকানিয়া ও আনোয়ারা থানায় ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, সশস্ত্র দাঙ্গা-হাঙ্গামা, প্রতারণা, বনের গাছ কর্তন, আগ্নেয়াস্ত্র রাখা, ইয়াবা সেবন ও পাচারসহ নানা অপরাধে ১৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণ, বন মামলা ও চেক প্রতারণা মামলায় পৃথকভাবে যাবজ্জীবন সাজা ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। চার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তবু প্রকাশ্যে ঘুরছেন দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী। এসব মামলায় গত ১৮ মে তাঁর সহযোগী ডাকাত হারুনুর রশিদ, দিদার, জামাল উদ্দিন ও আব্দুুর রহমান ওরফে দানু নামে চারজন দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হলেও কালা ঝন্টুকে গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো আগ্রহ নেই! এমনকি প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে আর্থিক সুবিধা দিয়ে প্রকাশ্যে বনের কাঠ কেটে ইলশা গ্রামে লাইসেন্সবিহীন বিএম নামে ইটভাটায় উৎপাদন চালাচ্ছেন।

ঝন্টুর একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রফিকুল হাসান বলেন, ‘পেনাল কোড ধারায় আব্দুর রহমান ওরফে দানু নামের আসামিকে গ্রেপ্তারের পর জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকারোক্তি দেন, সশস্ত্র দাঙ্গা-হাঙ্গামার সময় তাঁদেরকে মামলার ১ নম্বর আসামি কালা ঝন্টু অস্ত্র সরবরাহ করেন। তাঁর কাছে একাধিক অস্ত্র আছে। আমি গত ১ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছি।’

ইলশা গ্রামের বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিন, মো. শোয়াইব, মো. রাশেদ ও আনোয়ারুল আজিম বলেন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত ১৭ মামলার আসামি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কালা ঝন্টুর প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ায় আমরা গ্রামবাসী আতঙ্কে আছি। তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে আমরা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছি।

ঝন্টুর বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলার বাদী বলেন, ‘আমার মামলায় কালা ঝন্টুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হলেও প্রকাশ্যে সে ঘুরছে। ইলশা গ্রামে লাইসেন্স ছাড়াই ইটভাটা দিয়েছে। নানাভাবে আমাকে হত্যার জন্য আসামিরা ষড়যন্ত্র করছে। আমি প্রশাসনের কাছ দাবি জানাই, ঝন্টুকে গ্রেপ্তার করে আমার প্রাণ রক্ষা করুন।’

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, ‘ওয়ারেন্টভুক্ত কিংবা পলাতক আসামির প্রকাশ্যে ঘুরার কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ যেকোনো ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তাকে যেকোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা হবে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জয়নাল আবেদীন ওরফে কালা ঝন্টুু বলেন, ‘আমার মামলাগুলো ষড়যন্ত্রমূলক। আমি কিছু মামলায় জামিনে আছি। কিছু মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। সব কটি মামলায় জামিন নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে কাউকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছি না।  অভিযোগগুলো মিথ্যা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা