kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

অটোরিকশা-টেম্পুতে বাড়তি ভাড়া প্রতিবাদ করলে নাজেহাল

চট্টগ্রাম নগরের সঙ্গে বোয়ালখালীর বাস সার্ভিস বন্ধ এক যুগের বেশি

কাজী আয়েশা ফারজানা, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অটোরিকশা-টেম্পুতে বাড়তি ভাড়া প্রতিবাদ করলে নাজেহাল

চট্টগ্রাম নগর থেকে বোয়ালখালীতে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে বাস সার্ভিস। ফলে এই উপজেলার জনসাধারণকে নিত্যদিনের যাতায়াতে নির্ভর করতে হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টেম্পুর ওপর। বছরের পর বছর বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে এসব পরিবহনে চলছে নৈরাজ্য। প্রতিবাদ করলে নাজেহাল হতে হয় যাত্রীদের। বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে প্রশাসনের একটি কমিটি থাকলেও নেই কোনো কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, বোয়ালখালীর পরিবহন জগতের সবই নিয়ন্ত্রণ করেন মো. ইদ্রিছ ওরফে সিএনজি ইদ্রিছ নামে এক শ্রমিক নেতা।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কানুনগোপাড়া থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত অটোরিকশা ও টেম্পুর নির্ধারিত ভাড়া ৩০ টাকা। কিন্তু দিনে নেওয়া হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকা। রাত হলে তো আর কথা নেই! যাত্রীদের ঠেকিয়ে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া নগরের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে কানুনগোপাড়া পর্যন্ত যে ভাড়া কালুরঘাট, ফুলতল উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে নামলেও একই ভাড়া দিতে হয়। উপজেলা সদর থেকে কালুরঘাট ১০ টাকা ও ফুলতল থেকে ৫ টাকা ।

কিন্তু চালকরা উপজেলা সদর থেকে ফুলতল ১০-২০ টাকা ভাড়া আদায় করে থাকে। কালুরঘাট থেকে গুইলদ্যাখালী, নাজিরখালী, জামতল, চৌধুরীহাট পর্যন্ত দিনে একই  ভাড়া  ১০ টাকা। রাতে জনপ্রতি ভাড়া ৫০ থেকে ১০০ টাকা। আবার ভরাপুকুর,  মাজার গেট, ফকিরাখালী, মসজিদঘাট ৩০ টাকা হলেও রাতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা। দাশের দিঘি থেকে শাকপুরা ২০ টাকার ভাড়া নেওয়া হয় ৩০ টাকা। কানুনগোপাড়া থেকে ফুলতল ১৫ টাকা হলেও আদায় হয় ২০ থেকে ২৫ টাকা। সন্ধ্যার পর ওই চিত্র আরো ভয়াবহ হয়ে উঠে। নির্ধারিত ভাড়ার চারগুণও যাত্রীদের থেকে আদায় করা হয়ে থাকে। আর সাপ্তাহিক বন্ধের আগের দিন বৃহস্পতিবার হলে তো কথাই নেই। ভাড়া নিয়ে প্রতিদিন যাত্রীদের সঙ্গে চালকের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোয়ালখালীতে অর্ধশতাধিক অস্থায়ী গাড়ির স্টেশন রয়েছে। বিভিন্ন সড়কের পাশ অবৈধভাবে দখল করে এসব স্টেশন গড়ে উঠেছে। দৈনিক প্রায় চার হাজার অটোরিকশা ও টেম্পু বিভিন্ন রোডে যাতায়াত করে। বোয়ালখালীর চার লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের ভরসা এসব অটোরিকশা ও টেম্পু। আর নামে-বেনামে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক সমিতি ও ইউনিয়ন এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে। আর এসব সমিতি ও ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণ করেন সিএনজি ঐক্য পরিষদ নামে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পরিচয়দানকারী শাকপুরার বাসিন্দা মো. ইদ্রিছ। বোয়ালখালীর পরিবহনখাত তাঁর হাতে জিম্মি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পূর্ব গোমদণ্ডীর বাসিন্দা হাজি আবু আকতার বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যার পর কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে উপজেলা সদরে আসতে চাইলে লোকাল অটোরিকশা জনপ্রতি আড়াইশ টাকা ভাড়া দাবি করলে তাদের সঙ্গে বাগিবতণ্ডা হয়। পরে নিরুপায় হয়ে ১৮০ টাকা করে বাড়তি ভাড়া দিয়ে উপজেলা সদরে আসতে হয়।’

বোয়ালখালীর যাত্রী কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব শিক্ষক আমির হোসেন জানান, সরকার নির্ধারিত টেম্পুর  ওঠা-নামা ভাড়া ৫ টাকা। আর প্রতি কিলোমিটারে ৯৮ পয়সা। কিন্তু চালকরা মর্জিমাফিক যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছে। অটোরিকশার তো ভাড়া আদায়ে কোনো লাগাম নেই।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন নামে সমিতি বানিয়ে তারা যাত্রীদের জিম্মি করে রেখেছে। সমিতির নামে প্রতি স্টেশন থেকে ১০ টাকা করে আদায় করা হয়। বাড়তি ভাড়া আদায়ে প্রতিবাদ করলে সমিতির পেটুয়া বাহিনীর লোকজন যাত্রীদের নাজেহাল করে। বৃহস্পতি ও শুক্রবারে তো যাত্রীদের ত্রাহি অবস্থা।’ এ বিষয়ে প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা রাখা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা টেম্পু সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনওর কাছে সমিতির পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। তিনি বোয়ালখালী থানার পুলিশ পরিদর্শককে প্রধান করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দিলেও এর কোনো কার্যক্রম নেই।’

সিএনজি অটোরিকশা সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম বলেন, ‘সন্ধ্যায় লাইনম্যান না থাকায় চালকরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করে। দিনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছিয়া খাতুন বলেন, ‘বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে নৈরাজ্যর নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে  মালিক ও চালক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে বোয়ালখালী সিএনজি ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিছের মুঠোফোনে রবিবার একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু কালের কণ্ঠের ফোন ধরেননি তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা