kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

চকরিয়ায় ‘ফুরইন মারা’ খাল দখল

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চকরিয়ার উপকূলীয় সাত ইউনিয়নে চাষাবাদের জন্য মিঠাপানি চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ‘ফুরইন মারা’ নামের একটি খালের গতিপথ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বাড়ি লাগোয়া গবাদি পশুর খামার গড়ে তোলার পর বর্জ্য দিয়ে খালটির বিশাল অংশ ভরাট করা হয়। এর পর স্থায়ীভাবে ওই খাল দখলে নিয়ে সেখানে স্থাপনা তৈরির জন্য স্কেভেটর দ্বারা মাটি কেটে ওই স্থানে ফেলে ভিটায় পরিণত করার তত্পরতা চলছে। তবে সম্প্রতি এই খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এ নিয়ে আজ রবিবার তাঁর কার্যালয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনক্ষণ ঠিক করেছেন তিনি। খালটি সরাসরি মাতামুহুরী নদী এবং পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ঢেমুশিয়া বদ্ধ জলমহালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা জানান, ‘ফুরইন মারা’ খাল একসময়ে খরস্রোতা ছড়াখাল ছিল। এই খাল দিয়ে চলমান মিঠাপানি দিয়ে উপকূলীয় সাত ইউনিয়ন পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, সাহারবিল, বদরখালী, বিএমচর ও ভেওলা মানিকচর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ হয়। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পর্যায়ক্রমে খালটির গভীরতা কমার পাশাপাশি বিভিন্নস্থানে মাটি ফেলে ভরাটও করা হয়েছে। একইভাবে সাহারবিলের কোরালখালী এলাকায় নতুন করে মাটি ফেলে খালটি দখলপ্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, ‘কোনো কারণে এই ছড়াখাল দিয়ে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে পুরো উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোতে কোন চাষাবাদ হবে না।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই খালে মাটি ফেলে বাঁধ দেওয়ার খবর পেয়ে সেখানে পাঠানো হয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেনকে। এ সময় তিনি মাটি ফেলার কাজ বন্ধ করে দেন।’

এ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার মো. তানভীর হোসেন বলেন, ‘যখন মাটি কেটে ভরাটের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিই, তখন নবী হোছাইন সেই জায়গা তাঁর পৈতৃক বলে দাবি করেন। তাই এই দাবির স্বপক্ষে কী কাগজপত্র রয়েছে, তা নিয়ে রবিবার (আজ) আমার দপ্তরে আসতে বলেছি। শর্ত দিয়েছি, এর আগে কোনো মাটি ফেলার কাজ করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘কাগজপত্র যাচাই এবং ট্রেস ম্যাপে যদি ওই জায়গা প্রবহমান ছড়া খালের হয়ে থাকে, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা