kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাউজানে অপরাধ রোধে তরুণদের ‘হেল্প ডেস্ক’

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাউজানে অপরাধ রোধে তরুণদের ‘হেল্প ডেস্ক’

খবর পেলেই মানুষের বিপদে-আপদে ছুটে যান রাউজানের ‘হেল্প ডেস্ক’ কর্মীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাউজানে বাল্যবিয়ে, যৌন হয়রানি, নারী নির্যাতন, মাদক, বিভিন্ন অপরাধ দমনসহ নানাকাজে সহায়তায় এগিয়ে আসছে ‘হেল্প ডেস্ক’। তরুণ সমাজসেবক, লন্ডন থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে আসা ফারাজ করিম চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে গড়া এই ‘হেল্প ডেস্ক’ এখন উপজেলার অসহায়দের কাছে নির্ভরশীল নাম। ‘হেল্প ডেস্কে’ গোপনে তথ্য দিয়ে কেউ আইনি, কেউ সেবা-সহায়তা চান। তাঁদের সহায়তায় এগিয়ে আসে ‘হেল্প ডেস্কে’ সংশ্লিষ্ট একঝাঁক তরুণ। এঁদের বেশির ভাগই বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ শিক্ষার্থী। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাল্যবিয়ে, ইভটিজার, মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন তাঁরা। এ ছাড়া এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ না নিতে স্কুলে স্কুলে ক্যাম্পিং, প্রশাসনকে অবহিতকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বাস সার্ভিস ও পানীয় সরবরাহসহ নানা কল্যাণমূলক কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছে ওই টিমের সদস্যরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ পর্যন্ত ২১টি বাল্যবিয়ে রোধ, থানার ওসি ও পুলিশকে গোপনে খবর দিয়ে বহু মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিয়েছেন হেল্প ডেস্ক কর্মীরা। অসংখ্য বখাটেকে ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ, নিখোঁজদের তথ্য উদঘাটন করে সন্ধান দিতে প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করেছে। সমাজের নানা অসঙ্গতি দূরীকরণের সহায়তা, বিশেষ করে যৌন হয়রানি, মাদক, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের লক্ষ্যে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল রাউজানে ওই হেল্প ডেস্কের যাত্রা শুরু হয়। ফারাজ করিম চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে গড়া এ হেল্প ডেস্কের সঙ্গে যুক্ত আছেন উপজেলার ‘সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান’ সংগঠনের ৩১ তরুণ।

জানা যায়, ফারাজ করিম চৌধুরী তাঁর ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসআপ এবং মোবাইল ফোনে নানা অপরাধের তথ্য তাঁকে জানানোর অনুরোধ জানান রাউজানবাসীকে। পাশাপাশি এই হেল্প ডেস্কের সঙ্গে যুক্ত একঝাঁক তরুণ তাঁদের ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসআপ এবং মোবাইল ফোনে নানা অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। এসব তথ্য সংগ্রহ করে তাঁরা কখনো সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অবগত করে অপরাধীকে শনাক্ত, আটকে সহায়তা প্রদান এবং কখনো নিজেরা সশরীরে গিয়ে আটক করে পুলিশ, ভ্রাম্যামাণ আদালতে সোপর্দ করেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফারাজ করিমের কাছে গোপনে দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে হেল্প ডেস্কের কর্মীরা অপরাধ দমনে কাজ করছেন। এ ক্ষেত্রে ভিকটিমের পরিচয় গোপন করায় হেল্প ডেস্ক রাউজানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

‘হেল্প ডেস্ক’ এর মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রমে জড়িত সাইদুল ইসলাম জানান, গত ১৪ এপ্রিল রাউজান আর.আর.এ.সি সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে তরুণকে আটকের মাধ্যমে হেল্প ডেস্ক প্রথম কার্যক্রম শুরু করে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত হেল্প ডেস্কে আসা তথ্যর ভিত্তিতে অনেক বখাটেকে ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যাদের অনেকের সাজা হয়েছে। কেউ কেউ জীবনে আর অপরাধ না করার শর্তে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পায়। এ ছাড়া মাদকবিরোধী কাজে হেল্প ডেস্ক সক্রিয় রয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশকে গোপনে সংবাদ দিয়ে অনেক মাদক কারবারিকে আটক, মদ জব্দের কাজে সহায়তা করা হয়েছে।

তিনি জানান, রেশমা নামের এক স্কুলছাত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে তার পরিবারকে নামমাত্র ৩০ হাজার টাকা দিয়ে রফাদফায় বাধা দেয় হেল্প ডেস্ক। পরে তার পরিবারকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়। এই টিমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২১টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। এ বছর এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় করার অভিযোগ পেয়ে মাঠে নামে হেল্প ডেস্ক। ফরম পূরণে নেওয়া অতিরিক্ত ফি ফেরত এবং অতিরিক্ত ফি নিতে বাধা প্রদানে সব সময় স্কুলে স্কুলে পরিদর্শন করেছে হেল্প ডেস্ক কর্মীরা। স্কুলের শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাবক এবং প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে হেল্প ডেস্কের প্রতিষ্ঠাতা ফারাজ করিম চৌধুরী বলেন, ‘সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজানের সঙ্গে যুক্ত তরুণরা হেল্প ডেস্কে কাজ করে সুনাম অর্জন করেছে। তারা দল নির্ভরশীল নয়। এ কারণে তারা মানুষের উপকারে আসতে পারছে। এটি একটি ভালো কাজ। কাজটি আরো এগিয়ে নিতে হবে।’

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ বলেন, ‘হেল্প ডেস্ক আমাদের গোপনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করে। তাদের মাধ্যমে আমরা বখাটে, মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন তথ্য পাই। এর মাধ্যমে হেল্প ডেস্কে সংশ্লিষ্টরা রাউজানকে অপরাধমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা