kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাহাড়ে খাদ্যসংকট

লোকালয়ে মারা পড়ছে বন্য প্রাণী

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লোকালয়ে মারা পড়ছে বন্য প্রাণী

সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে খাদ্যসংকটে পড়ে বানররা চন্দ্রনাথধাম শম্ভুনাথ মন্দিরের কাছে এসে দর্শনার্থীদের কাছে খাবার চাইছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড়ে চরম খাবার সংকটে ভুগছে বন্য প্রাণী। ফলে খাবারের সন্ধানে প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে সেগুলো। স্থানীয় লোকজনের কেউ কেউ এসব বন্য প্রাণীকে অল্প কিছু খাবার দিলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হামলার শিকার হয়ে বেঘোরে মারা যাচ্ছে এসব প্রাণী। সর্বশেষ গত ৩ ডিসেম্বর একটি ভালুক খাবারের খোঁজে এসে স্থানীয় লোকজনের পিটুনিতে মারা পড়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের চন্দ্রনাধ ধামের শম্ভুনাথ মন্দির এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু বানর মন্দিরে আসা তীর্থ যাত্রীদের কাছ থেকে খাবার নিয়ে খাচ্ছে। এ ছাড়া তীর্থ যাত্রীর অনেককেই এসব বানরকে কলা, আপেলসহ বিভিন্ন খাবার দিতে দেখা গেছে।

তীর্থ যাত্রীরা জানায়, একসময় এখানে বানর বা কোনো বন্য প্রাণী আসত না। এসব প্রাণী জনমানব থেকে অনেক দূরে অবস্থান করত। কিন্তু এখন প্রায়ই এসে খাবার চাইছে প্রাণীগুলো। অনিক দাশ নামে মন্দিরটিতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, ‘এত বড় সবুজ পাহাড়ে খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। নইলে প্রাণীগুলো এভাবে মানুষের হামলার ভয় উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের কাছে এসে খাবার চাইত না।’ দর্শনার্থী সুজিত ধর বলেন, ‘বানরগুলোকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ওরা ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে না।’

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শম্ভুনাথ মন্দিরের মতো সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই লোকালয়ে হানা দিচ্ছে পাহাড়ি অজগর, ভালুক, সজারুসহ আরো অনেক প্রাণী। গত মঙ্গলবারও উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর এলাকায় একটি ভালুকছানা খাবারের জন্য নেমে এলে স্থানীয় বাসিন্দারা সেটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সদস্যসচিব ও হাটহাজারীর ইউএনও মো. রহুল আমিন বলেন, ‘সীতাকুণ্ডে লোকালয়ে অনেক সময় বিভিন্ন বন্য প্রাণী ধরা পড়ে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো বেশির ভাগ প্রাণীই স্থানীয় লোকজনের হাতে মারা যায়।’ এসব প্রাণীকে না পিটিয়ে চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহজালাল মো. ইউনুস বলেন, ‘সম্প্রতি একটি ভালুকছানা ধরা পড়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু আমাদের কাছে আসেনি।’ তিনি মনে করেন, পাহাড়ে খাদ্যসংকটের কারণেই বন্য প্রাণী এভাবে লোকালয়ে আসছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা