kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

চুয়েটে প্রাণের উচ্ছ্বাস

জাহেদুল আলম, চুয়েট ক্যাম্পাস (রাউজান) থেকে   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুয়েটে প্রাণের উচ্ছ্বাস

চুয়েটের ৪র্থ সমাবর্তনে গতকাল দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের কাছে পেয়ে সেলফিতে মেতে উঠেন সবাই। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ৪র্থ সমাবর্তন ঘিরে বৃহস্পতিবার প্রাণের মেলা বসেছিল ক্যাম্পাসে। নতুন পুরনোদের মেলবন্ধন, প্রাণের উচ্ছ্বাসে আনন্দে মেতে ওঠেন সবাই। বহুদিন পর

বন্ধু-সহপাঠীর দেখা পেয়ে মেতে ওঠেন সেলফি, আড্ডায়। শিক্ষাজীবনের নানা স্মৃতি রোমন্থনে পার করেন পুরো সময়। চুয়েটের সেই গোলচত্বর, সমাবর্তন উপলক্ষে তৈরি করা নানা ফটোফ্রেম, নান্দনিক স্থান ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ছবি তোলে মন জুড়িয়েছেন গ্র্যাজুয়েশনপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা। চোখে পড়ে গায়ে কালো গাউন ও মাথায় টুপি পরা শত শত শিক্ষার্থীর হাস্যোজ্জ্বল মুখ।

২০১১ ব্যাচের পুরকৌশল বিভাগের গ্র্যাজুয়েট শোভন সরকারের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তিনি সমাবর্তন উপলক্ষে এসেছেন বুধবার চট্টগ্রাম শহরে। বৃহস্পতিবার সকাল সকাল ছুটে আসেন শহর থেকে দূরে রাউজানে সেই প্রাণের বিদ্যাপীঠে। জানতে চাইলে বলেন, ‘চার বছরের শিক্ষাজীবন শেষে ভালো কিছু আশা করেছি। সেটি আজ পূরণ হল সমাবর্তনের মাধ্যমে।’

কম্পিউটার সায়েন্স থেকে গ্র্যাজুয়েট তানজিনা ফেরদৌস মিরসরাই থেকে বুধবার চট্টগ্রাম শহরে আসেন। বৃহস্পতিবার খুব ভোরে সমাবর্তনে যোগ দিতে ক্যাম্পাসে ছুটে আসেন। বলেন, ‘জীবনের বহুল প্রতীক্ষিত ছিল  দিনটি। আজকে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। জুনিয়র,

সিনিয়ররা আজকে সবাই মিলে অনেক আনন্দ করেছি।’

কম্পিউটার সায়েন্সের রাঙ্গুনিয়ার সামান্তা বড়ুয়া বলেন, ‘জানুয়ারিতে মাস্টার্স পড়ার জন্য কানাডা যাচ্ছি। এর আগে এই সমাবর্তনে থাকতে পারা বড় পাওনা। আজকে মা, বাবা, শিক্ষক সবার কষ্ট সার্থক হয়েছে। আমি বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা করে চুয়েটের মান বজায় রাখার দোয়া চাই।’

রসায়ন বিভাগ থেকে এমফিল করা কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারার জয়নাল আবেদীন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত আছেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবনে আজকের দিনটি অনেক স্বপ্নের। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় বেশ খুশি।’

কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক লিংকন চৌধুরী বলেন, ‘আজকের দিনের জন্য সবাই অপেক্ষায় থাকে। নতুন পুরনো মিলে এ দিনকে অন্যরকম করে রাখলাম।’

এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আগমন ঘিরে চুয়েট কর্তৃপক্ষ ছাড়াও রাউজান উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনীতিক-সামাজিক সংগঠন নানা প্রস্তুতি নেয়। উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় উপজেলাজুড়ে। চট্টগ্রাম শহর থেকে কাপ্তাই সড়কপথে চুয়েট যাওয়ার সময় দুপাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ হাতে জাতীয় পতাকা ও রাষ্ট্রপতির ছবি নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।

ঝকঝকে তকতকে করা হয়েছে কাপ্তাই সড়কের আট কিলোমিটার পথ। চুয়েট ক্যাম্পাস সেজেছে জমকালো সাজে। রঙিন সাজে মূল ফটক, সব ভবন, চত্বর ও গাছপালা। পথে পথে শোভা পায় নানা আলপনা। রঙে রঙিন পুরো ক্যাম্পাস।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা