kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

পটিয়া বিসিক শিল্প এলাকার বর্জ্য

ফসলি জমি ও মাছ চাষ হুমকির মুখে

আবদুল হাকিম রানা, পটিয়া (চট্টগ্রাম)   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পটিয়া বিসিক শিল্প এলাকার বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য ছড়িয়ে কচুয়াই ইউনিয়নের ফারুকীপাড়া এলাকার কৃষি ও মাছ চাষ হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া বর্জ্যের পচা-দুর্গন্ধে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণাংশে বিসিক শিল্প এলাকায় বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য তৈরির কারখানা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব কারখানার বর্জ্য নালা হয়ে পাশের ফারুকীপাড়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে এলাকার কয়েকশ একর জমির ফসল ও পুকুরের মত্স্য সম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে। এমন কি পচা-দুর্গন্ধে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় অধিবাসী ও ভুক্তভোগী নিতাই ঘোষ, মো নুুরুল আলম, ওসমান গণি, মো. লোকমান, মো. হারুণ, মো. শরীফ, রেজাউল করিমসহ অনেকে বলেন, ১৯৮০ সালে পটিয়া বিসিক শিল্প এলাকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমাদের জমিতে কোনো চাষ হচ্ছে না এবং পুকুরেও কোনো মাছ চাষ করা যাচ্ছে না। মাছের পোনা দিলেই মরে ভেসে উঠে। তাছাড়া এখানকার অধিবাসীরা নানান রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছি না।

স্থানীয় আবু জাফর বলেন, ‘মিল কারখানার বর্জ্যগুলো খালে ফেলার ব্যবস্থা করার কথা আমরা বিভিন্ন সময়ে শুনেছি। কিন্তু কী কারণে তা হচ্ছে না আমরা জানি না।’

আরেফিন গার্মেন্ট অ্যান্ড টেক্সটাইল লি. পরিচালক ইমাম হোসেন চিশতী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখানকার সব কারখানায় কেমিক্যাল ব্যবহার হয় না। তবে যেসব কারখানায় এগুলো ব্যবহৃত হয় তাদের উচিত ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপন করা। যার মাধ্যমে বর্জ্যগুলো পরিশোধিত হলে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা থাকে না।’

পটিয়া বিসিক শিল্প কর্মকর্তা মো. এনামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিক। আমরা এখানে পরিকল্পিত শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি করেছি। বর্তমানে ২৩টির মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু আছে। আমরা সব কারখানার মালিককে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট (ইটিপি) করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি। তাঁরা আমাদের কথা দিয়েছেন।’

‘এ ছাড়া আমরা মন্ত্রণালয়ে নালার জন্য বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভূমি অধিগ্রহণ সাপেক্ষে বিসিকের পশ্চিমে নালা নির্মাণ করে বর্জ্যগুলো যাতে শ্রীমতি খালে নিয়ে ফেলা যায় সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করব। এতে বিদ্যমান সমস্যা আর থাকবে না।’-যোগ করেন এনামুল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা